কর্মব্যস্ত জীবনে অনেক সময়ই পুরুষরা শরীরের ছোটখাটো সমস্যাকে পাত্তা দিতে চান না। ক্লান্তি বা দুর্বলতাকে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, পুরুষদের শরীরের এমন কিছু সাধারণ সমস্যা রয়েছে, যা আসলে ভেতরে ভেতরে দানা বাঁধতে থাকা বড় কোনও হৃদরোগের আগাম ইঙ্গিত।
2
12
এমন ৪টি শারীরিক লক্ষণ রয়েছে যা সাধারণত পুরুষরা এড়িয়ে যান, কিন্তু এগুলো হতে পারে হার্ট অ্যাটাকের আগাম সতর্কবার্তা
3
12
১. ইরেক্টাইল ডিসফাংশন (লিঙ্গ শিথিলতা)ঃ অনেকেরই ধারণা, এটি কেবল একটি যৌন স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এটি আসলে সরাসরি হার্টের স্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত।
4
12
আমাদের হৃদপিণ্ড যেভাবে সারা শরীরে রক্ত পাম্প করে পাঠায়, পুরুষাঙ্গেও ঠিক একইভাবে রক্ত সঞ্চালিত হয়। তবে পুরুষাঙ্গের রক্তনালী বা ধমনীগুলো হার্টের ধমনীর চেয়ে আকারে অনেক বেশি সরু ও সূক্ষ্ম হয়। তাই শরীরে যখন কোলেস্টেরল জমতে শুরু করে বা রক্তনালী ব্লক হতে থাকে, তার প্রভাব সবার আগে ওই সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোর ওপর পড়ে। ফলে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়।
5
12
বুকে ব্যথা বা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার অন্তত ২ থেকে ৩ বছর আগেই অনেক পুরুষের মধ্যে ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের লক্ষণ দেখা দেয়। সহজ কথায়, এটি আপনার হার্টের অকেজো হয়ে পড়ার প্রথম অ্যালার্ম। তাই এই সমস্যা হলে লোকলজ্জার ভয়ে লুকিয়ে না রেখে বা অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
6
12
২. টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়াঃ বয়স একটু বাড়লেই অনেক পুরুষ সারাদিন ক্লান্তি অনুভব করেন, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং পেশির শক্তি কমতে থাকে। এগুলোকে বার্ধক্যের স্বাভাবিক নিয়ম মনে করা ভুল। আসলে এটি পুরুষ হরমোন বা টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার লক্ষণ।
7
12
চিকিৎসকদের মতে, টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার পেছনে কোনও ম্যাজিক নেই; এর আসল কারণ হল অলস জীবনযাপন। পেটে অতিরিক্ত চর্বি জমা, শরীরচর্চার অভাব এবং রাতে ঠিকমতো না ঘুমানোর কারণেই এই হরমোনের ঘাটতি তৈরি হয়। আর শরীরে টেস্টোস্টেরন কমে গেলে মেটাবলিজম বিগড়ে যায়, যা সরাসরি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
8
12
৩. রাতে জোরে নাক ডাকা এবং স্লিপ অ্যাপনিয়াঃ অনেকেরই রাতে বিকট শব্দে নাক ডাকার অভ্যাস থাকে, আবার আট ঘণ্টা ঘুমানোর পরেও সকালে উঠে মনে হয় ঘুম হয়নি, শরীর ম্যাজম্যাজ করছে। একে সাধারণ নাক ডাকা ভেবে ভুল করবেন না। এটি হতে পারে ‘অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’।
9
12
এই সমস্যায় ঘুমের ঘোরে কিছুক্ষণের জন্য শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে যায় এবং শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা মারাত্মক কমে যায়। মস্তিষ্ক তখন বাধ্য হয়ে শরীরকে জাগিয়ে তোলে যাতে মানুষটি আবার শ্বাস নিতে পারে। ফলে রক্তের চাপ বা ব্লাড প্রেশার হঠাৎ করে খুব বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে হার্টের পেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং হার্টের ছন্দ বিগড়ে যায় যা পরবর্তীতে হার্ট ফেইলিওরের কারণ হতে পারে।
10
12
৪. মহিলাদের চেয়ে ১০ বছর আগেই ঝুঁকি শুরু হওয়া: প্রকৃতিগতভাবে নারীদের শরীরে ‘ইস্ট্রোজেন’ নামের একটি হরমোন থাকে, যা মেনোপজ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের হার্টকে প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু পুরুষদের শরীরে এই ধরনের কোনও প্রাকৃতিক কবচ নেই।
11
12
নারীদের তুলনায় পুরুষদের হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অন্তত ১০ বছর বা এক দশক আগে শুরু হয়ে যায়। অনেকেই ভাবেন হার্টের সমস্যা তো ৬০ বছর বয়সের পর হয়! কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি ৩০ বা ৪০ বছর বয়স থেকেই চরম আকার ধারণ করতে পারে।
12
12
যদি আপনার ওজন বাড়তে থাকে, রাতে নাক ডাকার সমস্যা হয় বা অলসতা গ্রাস করে, তবে আজই সচেতন হন। ৪০ বছর পেরোনোর আগেই নিয়মিত হার্ট চেকআপ, সঠিক ডায়েট এবং প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস আপনাকে বড় কোনও বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে।