ডাবের জল সাধারণত গ্রীষ্মকালের পানীয় হিসাবেই পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, শীতকালেও ডাবের জল অত্যন্ত উপকারী। যদি সঠিক সময়ে ও সঠিক পদ্ধতিতে তা পান করা হয়।
2
8
শীতকালে জল পিপাসা কম পায়। অনেকেই কম জল পান করেন। এর ফলে ধীরে ধীরে ‘নীরব ডিহাইড্রেশন’ দেখা দিতে পারে, যা ক্লান্তি, শুষ্ক ত্বক ও মাথাব্যথার কারণ হয়। ডাবের জলে থাকা প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। সকালে এক গ্লাস ডাবের জল শরীরকে সারাদিন সতেজ রাখতে পারে।
3
8
শীতকালে তেল-মশলাযুক্ত ও ভারী খাবার বেশি খাওয়ার ফলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। পুষ্টিবিদদের মতে, ডাবের জলের অ্যালকালাইন প্রকৃতি অ্যাসিডিটি কমায়, পেট হালকা রাখে এবং গ্যাস ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে আরাম দেয়। এতে হজমক্রিয়া সক্রিয় হয়।
4
8
ঠান্ডা হাওয়া ও ঘরের ভিতরের হিটিং সিস্টেম ত্বককে শুষ্ক ও প্রাণহীন করে তোলে। ডাবের জলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফেরায়। পাশাপাশি এতে থাকা ভিটামিন সি ও ফাইটোকেমিক্যালস রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সর্দি-কাশি ও ভাইরাল সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়।
5
8
ডাবের জলে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে, যা শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়ামের প্রভাব কমিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল বার করে কিডনির উপর চাপ কমায় এবং মূত্রজনিত সমস্যায় উপকার করতে পারে।
6
8
ডাবের জলে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও ইলেকট্রোলাইট ধীরে কিন্তু স্থায়ী শক্তি জোগায়। এতে শীতকালের অলসতা দূর হয় এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি ছাড়াই শরীর চাঙ্গা থাকে। যা ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।
7
8
শীতকালে দুপুরে বা সূর্যাস্তের পর, স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ডাবের জল পান করাই সবচেয়ে ভাল। ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা ডাবের জল এড়িয়ে চলুন, কারণ এটি শরীরে অতিরিক্ত ঠান্ডা প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চিকিৎসকের মতে, প্রতিদিন ডাবের জল খাওয়া উচিত নয়। তাতে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
8
8
যাঁদের শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি বা কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁরা সীমিত পরিমাণে ডাবের জল পান করুন। শীতকালে সকালে খালি পেটে বা খুব ঠান্ডা অবস্থায় ডাবের জল পান করলে সর্দি-কাশির সমস্যা বাড়তে পারে।