বর্তমানে চিকিৎসার খরচ যেভাবে দ্রুত বাড়ছে, তাতে স্বাস্থ্যবিমা অনেকটাই প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করেন, স্বাস্থ্যবিমা থাকলেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সমস্ত খরচ বিমা কোম্পানি বহন করবে।
2
10
কিন্তু বাস্তবে চিত্রটা অন্যরকম। দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর পরিবারকে নিজের পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। এর প্রধান কারণ হল পলিসির কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বা ক্লজ সম্পর্কে অজ্ঞতা। তাই স্বাস্থ্যবিমা নেওয়ার আগে এই লুকোনো বিষয়গুলি জানা অত্যন্ত জরুরি।
3
10
রুম রেন্ট সীমা: অনেক স্বাস্থ্যবিমা পলিসিতে হাসপাতালের কেবিন বা রুমের জন্য নির্দিষ্ট ভাড়ার সীমা থাকে। ধরুন আপনার পলিসিতে দিনে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত রুম রেন্ট কভার করা আছে, কিন্তু আপনি ৮,০০০ টাকার রুম নিলেন। সেক্ষেত্রে শুধু অতিরিক্ত ৩,০০০ টাকাই নয়, অন্যান্য চিকিৎসা খরচেরও একটি অংশ আপনাকে বহন করতে হতে পারে।
4
10
কো-পেমেন্ট ক্লজ: কিছু পলিসিতে কো-পেমেন্ট শর্ত থাকে। অর্থাৎ হাসপাতালের মোট বিলের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ গ্রাহককেই দিতে হবে। উদাহরণ হিসেবে, ২০ শতাংশ কো-পেমেন্ট থাকলে ১ লক্ষ টাকার বিলের মধ্যে ২০ হাজার টাকা নিজের পকেট থেকে দিতে হবে।
5
10
সাব-লিমিট: অনেক সময় নির্দিষ্ট রোগ বা চিকিৎসার উপর খরচের আলাদা সীমা নির্ধারণ করা থাকে। যেমন অপারেশন, হাঁটু প্রতিস্থাপন বা মাতৃত্বকালীন চিকিৎসার ক্ষেত্রে পুরো খরচ কভার নাও হতে পারে।
6
10
ওয়েটিং পিরিয়ড: স্বাস্থ্যবিমা নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সব রোগের সুবিধা পাওয়া যায় না। আগে থেকে থাকা রোগ বা কিছু নির্দিষ্ট অসুস্থতার ক্ষেত্রে ২ থেকে ৪ বছর পর্যন্ত ওয়েটিং পিরিয়ড থাকতে পারে। এই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা করালে বিমার সুবিধা মিলবে না।
7
10
নন-পেয়েবল আইটেমস: হাসপাতালের সব খরচ স্বাস্থ্যবিমার আওতায় পড়ে না। যেমন গ্লাভস, মাস্ক, স্যানিটাইজার, রেজিস্ট্রেশন চার্জ বা কিছু কনজিউমেবল আইটেমের খরচ রোগীকেই দিতে হয়। অনেকেই এই বিষয়টি আগে থেকে জানেন না।
8
10
ক্যাশলেস হাসপাতালের সীমাবদ্ধতা: সব হাসপাতাল বিমা কোম্পানির নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত নয়। নেটওয়ার্ক হাসপাতাল না হলে ক্যাশলেস সুবিধা পাওয়া যায় না। তখন রোগীকে আগে বিল মেটাতে হয় এবং পরে তার জন্য আবেদন করতে হয়।
9
10
পলিসি এক্সক্লুশন: প্রতিটি স্বাস্থ্যবিমা পলিসিতে কিছু রোগ বা চিকিৎসা পরিষেবা বাদ দেওয়া থাকে। যেমন কসমেটিক সার্জারি, ডেন্টাল ট্রিটমেন্ট বা কিছু বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি অনেক সময় কভার হয় না। তাই পলিসির এক্সক্লুশন তালিকা ভালোভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি।
10
10
কী করবেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র কম প্রিমিয়াম দেখে স্বাস্থ্যবিমা কেনা উচিত নয়। পলিসির শর্ত, কভারেজ, কো-পেমেন্ট, ওয়েটিং পিরিয়ড এবং সাব-লিমিট ভালোভাবে বুঝে নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ‘সাম ইনসিওরড’ বেছে নেওয়াও জরুরি, যাতে বড় চিকিৎসার সময় আর্থিক চাপ না পড়ে।