আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর)-এ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় উত্তাল রাজনৈতিক মহল। সম্প্রতি 'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে একাধিক তথ্য প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ ওঠে, এসআইআর প্রক্রিয়া, ভোটার তালিকায় নাম ছাঁটাই এবং অন্যান্য নির্বাচনী কাজে কমিশনের মধ্যেই তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব ছিল। দু'জন কমিশনারের আপত্তি সত্ত্বেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
2
8
সেই ঘটনাতেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে দেশের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যেই তাঁর অপসারণের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীরা।
3
8
ভারতের ২৬তম মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ১৯৬৪ সালের ২৭ জানুয়ারি উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ নেন লক্ষ্ণৌর কোলভিন তালুকদার্স কলেজে। এরপর ১৯৮৫ সালে আইআইটি কানপুর থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিটেক ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়াও তিনি আইসিএফএআই (ICFAI) থেকে বিজনেস ফিন্যান্স এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশগত অর্থনীতি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন।
4
8
কেরিয়ার জীবন ১৯৮৮ ব্যাচের কেরালা ক্যাডারের একজন আইএএস (IAS) আধিকারিক হয়ে কাজে যোগ দেন জ্ঞানেশ।কোচিন কর্পোরেশনের মিউনিসিপ্যাল কমিশনার, কেরালা স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর-এর মতো কেরালায় বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব সামলান। কেরালা সরকারের সচিব হিসেবে বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বও পালন করেন।
5
8
কেন্দ্রীয় সরকারে কাজের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পড়ে জ্ঞানেশের কাঁধে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব থাকাকালীন তিনি ভারতের প্রতিরক্ষা শিপইয়ার্ডগুলির আধুনিকীকরণে কাজ করেন। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব থাকাকালীন ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বাতিলের সময় তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জম্মু ও কাশ্মীর বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। এ ছাড়া অযোধ্যাতে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট গঠনেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পরবর্তীতে তিনি সংসদ বিষয়ক মন্ত্রক এবং সমবায় মন্ত্রকের সচিব পদেও কর্মরত ছিলেন।
6
8
২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি জ্ঞানেশ চাকরি থেকে অবসরগ্রহণ করেন। ওই বছরই ১৫ মার্চ তাঁকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন ছাড়াও হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, দিল্লি এবং জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভা নির্বাচন পরিচালিত হয় তাঁর মেয়াদকালেই।
7
8
পরবর্তীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারের মেয়াদ শেষের পর ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি জ্ঞানেশ কুমার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের নতুন আইন অনুযায়ী প্রথমবার ওই পদে নিযুক্ত হন তিনি।
8
8
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বাছাই কমিটির সুপারিশেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর নাম অনুমোদন করেন। যদিও সেই সময় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিয়মবিধি বদল নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান। বর্তমানে কমিশনে তাঁর সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসাবে কর্মরত সুখবীর সিং সান্ধু এবং হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্য সচিব বিবেক জোশী।