আজকাল ওয়েবডেস্ক: ব্রাজিলের আমাজন জঙ্গলে বহু ভয়ঙ্কর প্রাণীর বাস। কিন্তু মানুষের থেকে ভয়ঙ্কর প্রাণী কি সত্যিই পৃথিবীতে আছে? এই ব্রাজিলের অরণ্যেই রয়েছে এমন কিছু জায়গা যেখানে, লোভ, শ্রম এবং কাম মিলেমিশে যায়।
2
12
এই নৈরাজ্যের মূলে রয়েছে বেআইনি সোনার খনি। ব্রাজিলের উত্তর প্রান্তে জঙ্গল ঘেরা শহর ইটাইটুবা। আর এই শহরকেই বলা হয় অনৈতিক সোনা উত্তোলনের রাজধানী। কারণ এই শহর থেকে অরণ্যের গভীরে যাওয়ার গোপন পথ রয়েছে। সেই পথগুলি ধরে চলে যাওয়া যায় ছোট ছোট সোনার খনিতে।
3
12
বেআইনি এই খনিগুলিতে কাজ করে হাজার হাজার শ্রমিক। এই ধরনের খনিতে না আছে কোনও সুরক্ষা ব্যবস্থা না আছে আধুনিক জীবন যাত্রার সুযোগ সুবিধা। থাকার মধ্যে আছে শ্রমিকদের থাকার তাবু, সরাইখানা আর ছোট ছোট চার্চ।
4
12
ব্রাজিল সরকারের হিসাব বলছে, ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চল মিলিয়ে এই ধরনের খনি রয়েছে দুই লক্ষ কুড়ি হাজার হেক্টরেরও বেশি জায়গা জুড়ে।
5
12
এই সব খনি থেকে উত্তোলিত সোনার অধিকাংশই পাচার হয়ে যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ব্রিটেনে। তার পর সেই সোনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে, তৈরি হয় নামী দামি গয়না। ট্র্যাজেডির চক্রে সেই সোনা জায়গা পায় নারীদেহেই।
6
12
কিন্তু এই গল্প সোনার এই অসাধু চক্রের নয়। এই অসাধু চক্রের আড়ালে চলে আরও ভয়ঙ্কর একটি ব্যবস্থা - দেহব্যবসা।
7
12
সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির একটি তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। সরকারি হিসাব বলছে প্রায় আট লক্ষ মানুষ এই খনিগুলিতে কাজ করেন। আর তাঁদের যৌনক্ষুধা প্রশমনের জন্য সেখানে যেতে বাধ্য হন অসংখ্য মহিলা।
8
12
ডায়ান লাইতি তেমনই এক মহিলা। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তাঁর স্বামী মারা যান। স্বামীর শেষকৃত্যের টাকা পর্যন্ত ছিল না তাঁর কাছে। বাধ্য হয়েই সোনার খনির অন্ধকারে নামতে হয় তাঁকে। তার পর সাত জনের সংসার হয়েছে তাঁর। সকলের দায়িত্ব তাঁরই উপর।
9
12
একই রকম কাহিনি আরও এক মহিলা নাটালিয়া কাবলকান্তির। ২৪ বছর বয়সে এক দুর্গম খনিতে রাঁধুনির কাজ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু জেনারেটরের আলো নিভতেই একের পর এক শ্রমিক কর্দমাক্ত দেহেই ঝাঁপিয়ে পড়েন তাঁর উপর। শেষ পর্যন্ত নিজের ভাগ্যকে মেনে নেন নাটালিয়া।
10
12
তাঁর কথায়, গহীন অরণ্যে জীবনযাত্রা মারাত্মক কঠিন। সেই কাঠিন্যে যখন পুরুষেরা ভাগ্যান্বেষণে যান তখন তাঁদের মানবিকতা যেন হারিয়ে যায়। বহু নারী এই অন্ধকার খনিতে নির্যাতিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে তাও বারবার ফিরে যেতে হয় সেখানেই।
11
12
জীবনের প্রতিটা ধাপ কঠিন হলেও এখন অনেকেই নিজের জীবন গুছিয়ে নিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানিয়েছেন, তিনি একসময় এই পেশায় থাকলেও এখন আর তাঁকে সেসব করতে হয় না। শ্রমিকরা যখন সোনা খুঁজে পান তখন যৌনতার বিনিময়ে ফুৎকারে উড়িয়ে দেন সেই আমানত। সেই সোনা সঞ্চয় করেই নিজের বাড়ি-গাড়ি করেছেন ওই রমণী।
12
12
বামপন্থী সরকার আসার পর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কট্টর বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুলা এই ধরনের বেআইনি খনি বন্ধের চেষ্টা করছেন। সঙ্গে সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, যাতে আমেরিকা, ইংল্যান্ডের মতো দেশে সেই সোনা পাচার বন্ধ করা যায়।