ভারতে সোনার গয়না কেনার সময় অধিকাংশ মানুষ প্রথমেই হলমার্ক আছে কিনা, সেটাই দেখে নেন। কারণ হলমার্ক মানে সোনার বিশুদ্ধতার সরকারি স্বীকৃতি।
2
10
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে শুধু হলমার্ক দেখলেই নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত নয়। গয়নার উপর থাকা এইচইউআইডি (হলমার্ক ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন) নম্বরও অবশ্যই পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এই ছোট্ট কোডই আপনাকে জাল বা ভুয়ো হলমার্কযুক্ত গয়না কেনা থেকে বাঁচাতে পারে।
3
10
এইচইউআইডি হল ৬ সংখ্যার বা অক্ষর-সংখ্যা মিশ্রিত একটি বিশেষ পরিচয় নম্বর, যা প্রতিটি হলমার্কযুক্ত সোনার গয়নার জন্য আলাদাভাবে দেওয়া হয়।
4
10
দুটি গয়নার এইচইউআইডি কখনও এক হবে না। এই নম্বরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গয়নার সমস্ত তথ্য বিআইএস ( ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস)-এর ডেটাবেসে সংরক্ষিত থাকে।
5
10
অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা গয়নার উপর '২২কে' বা '৯১৬’ লিখে ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করেন। বাইরে থেকে দেখে মনে হতে পারে গয়নাটি খাঁটি সোনা। কিন্তু বাস্তবে তার বিশুদ্ধতা কমও হতে পারে। এই ধরনের প্রতারণা ধরার সবচেয়ে সহজ উপায় হল এইচইউআইডি নম্বর যাচাই করা।
6
10
কীভাবে যাচাই করবেন? এর জন্য বিআইএস কেয়ার নামে একটি মোবাইল অ্যাপ রয়েছে। অ্যাপটি ডাউনলোড করে গয়নার এইচইউআইডি নম্বর প্রবেশ করালেই গয়নার বিস্তারিত তথ্য দেখা যাবে। সেখানে সোনার ক্যারেট, বিশুদ্ধতার মাত্রা, হলমার্কিং সেন্টারের তথ্য এবং জুয়েলারির নাম দেখা যায়।
7
10
যদি অ্যাপে পাওয়া তথ্য এবং গয়নার তথ্যের মধ্যে কোনও অমিল থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হওয়া উচিত।
8
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বাজারে সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে। ফলে প্রতারণার ঝুঁকিও আগের তুলনায় অনেক বেশি। তাই সোনা কেনার সময় শুধু ডিজাইন বা দাম দেখে সিদ্ধান্ত নিলে চলবে না। গয়নার বিল নেওয়া, হলমার্ক পরীক্ষা করা এবং এইচইউআইডি নম্বর যাচাই কর-এই তিনটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
9
10
২০২১ সাল থেকে সরকার এইচইউআইডি-ভিত্তিক হলমার্কিং ব্যবস্থা চালু করেছে, যাতে ক্রেতারা আরও নিরাপদে সোনা কিনতে পারেন। বর্তমানে বৈধ হলমার্কযুক্ত গয়নায় বিআইএস-এর লোগো, সোনার বিশুদ্ধতার চিহ্ন এবং এইচইউআইডি নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক।
10
10
পরের বার সোনার গয়না কিনতে গেলে শুধু হলমার্ক দেখেই সন্তুষ্ট হবেন না। কয়েক মিনিট সময় নিয়ে এইচইউআইডি নম্বরও যাচাই করুন। এই ছোট্ট সতর্কতাই আপনার হাজার হাজার টাকার বিনিয়োগকে নিরাপদ রাখতে সাহায্য করবে।