মানুষ যখনই বাড়ির বাইরে বের হন বা কোনো অপরিচিত গন্তব্যে যান, তখন সবার আগে যেসব অ্যাপের কথা তাঁদের মনে পড়ে, তার মধ্যে অন্যতম হলো গুগল ম্যাপস। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, কোনও নির্দিষ্ট রাস্তায় যানজট বাড়ছে কি না- তা গুগল ম্যাপস কীভাবে বুঝতে পারে? অথচ এমন কোনও স্যাটেলাইট নেই যা রিয়েল-টাইমে প্রতিটি গাড়ির ওপর নজর রাখছে।
2
9
এর উত্তরটি কোনও জাদু নয়। বিভিন্ন রাস্তায় যান চলাচলের গতি কেমন? তা অনুমান করতে গুগল স্মার্টফোনের লোকেশন ডেটা, ক্রাউড-সোর্সড তথ্য (ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য), অতীতের ট্রাফিক বা যান চলাচলের ধরন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-র সমন্বিত ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে।
3
9
যারা নিয়মিত গুগল ম্যাপস ব্যবহার করেন, তারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে যান চলাচলের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ম্যাপে রাস্তাগুলো বিভিন্ন রঙের দেখায়। সাধারণত সবুজ রঙ স্বাভাবিক গতিতে যান চলাচলের ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে হলুদ ও লাল রঙ ক্রমবর্ধমান যানজট এবং ধীর গতির নির্দেশ করে।
4
9
স্মার্টফোন এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন ডিভাইস থেকে প্রাপ্ত অবস্থান ও গতিবিধির সংকেত ব্যবহার করে গুগল বুঝতে পারে যে, কোনও নির্দিষ্ট রাস্তায় মানুষ কত দ্রুত চলাচল করছে। বিপুল পরিমাণ এমন তথ্য সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করে এই পরিষেবাটি শনাক্ত করতে পারে যে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে নাকি ধীর হয়ে গিয়েছে।
5
9
উদাহরণস্বরূপ, ধরা যাক কোনও নির্দিষ্ট রাস্তায় যানবাহন সাধারণত ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার গতিতে চলে। কিন্তু যদি ওই রাস্তায় থাকা একাধিক ডিভাইস থেকে পাওয়া অবস্থান-সংকেত হঠাৎ করেই অনেক ধীর গতির ইঙ্গিত দেয়, তবে গুগল ধারণা করতে পারে যে যান চলাচলের পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে।
6
9
গুগল ম্যাপস পুরোপুরিভাবে লাইভ লোকেশন সিগন্যালের উপর নির্ভর করে না। রাস্তার অবস্থা এবং ভ্রমণের সময় নির্ধারণে অতীতের ট্র্যাফিক প্যাটার্নও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদাহরণস্বরূপ, কোনও একটি নির্দিষ্ট রাস্তায় সোমবার সকালের অফিস চলাকালীন সময়ে নিয়মিত ভিড় হতে পারে অথবা সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে যান চলাচল ধীর হতে পারে। একটি যাত্রায় সম্ভাব্য কতক্ষণ সময় লাগতে পারে তা অনুমান করার জন্য গুগল এই প্রতিষ্ঠিত প্যাটার্নগুলোকে বর্তমান ডেটার সঙ্গে তুলনা করতে পারে। ঐতিহাসিক প্রবণতা এবং বর্তমান সিগন্যালের এই সমন্বয়ের ফলে, ব্যবহারকারী রাস্তার কোনো নির্দিষ্ট অংশে পৌঁছানোর আগেই ম্যাপস আনুমানিক ভ্রমণের সময় জানাতে পারে।
7
9
কোনও এলাকার মধ্য দিয়ে চলাচলকারী ডিভাইসগুলো থেকে পর্যাপ্ত লোকেশন সিগন্যাল না পাওয়া গেলে রিয়েল-টাইম ট্রাফিক বা যান চলাচলের বর্তমান পরিস্থিতির সঠিক হিসাব করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে গুগল অতীতের ট্রাফিক সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত (হিস্টোরিক্যাল প্যাটার্ন), অন্যান্য লভ্য লাইভ সিগন্যাল এবং ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করতে পারে।
8
9
দুর্ঘটনা, রাস্তা বন্ধ থাকা, নির্মাণকাজ বা অন্যান্য অপ্রত্যাশিত ঘটনার মতো পরিস্থিতিও ট্রাফিক পূর্বাভাসের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। গুগলের মতে, ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ ও ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে পাওয়া রিয়েল-টাইম বা তাৎক্ষণিক তথ্যও রাস্তার পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের ধারণা তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।
9
9
এটি মনে রাখা জরুরি যে, গুগল ম্যাপস প্রতিটি গাড়িকে ট্র্যাক করে না। ম্যাপে প্রদর্শিত ট্রাফিক নির্দেশক রঙিন রেখাগুলো মূলত ব্যাপক পরিসরের ডেটা বিশ্লেষণের ফলাফল; এগুলো রাস্তায় চলাচলকারী প্রতিটি গাড়ির লাইভ ক্যামেরা ফিড নয়। এ কারণেই ট্রাফিক সংক্রান্ত তথ্য সবসময় রাস্তার প্রকৃত পরিস্থিতির নিখুঁত প্রতিফলন নাও হতে পারে। যদি লাইভ সিগন্যালের সংখ্যা খুব কম হয় কিংবা রাস্তার পরিস্থিতিতে হঠাৎ কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটে, তবে সঠিক পরিস্থিতি নির্ণয় করতে সিস্টেমটির কিছুটা অসুবিধা হতে পারে।