প্রশান্ত মহাসাগরের জলে লবণাক্ততা বৃদ্ধির ধারাবাহিক পরিবর্তন ভবিষ্যতে চরম এল নিনো ঘটনার ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে—এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছেন জলবায়ু বিজ্ঞানীরা। এই পরিবর্তন কেবল সমুদ্রের ভৌত গঠনে প্রভাব ফেলছে না, বরং বিশ্বের আবহাওয়া ব্যবস্থার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
2
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি লবণাক্ততার ওঠানামা এল নিনো–দক্ষিণী দোলন প্রক্রিয়াকে আরও অস্থির করে তুলছে।
3
11
এল নিনো হল একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রধানত নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব ও মধ্যাংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্বাভাবিক উষ্ণতার সঙ্গে সম্পর্কিত। চরম এল নিনো দেখা দিলে বিশ্বজুড়ে খরা, অতিবৃষ্টি, তাপপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বেড়ে যায়।
4
11
দক্ষিণ আমেরিকায় বন্যা, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় খরা এবং আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে খাদ্য সংকটের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। ফলে সেখানে দাপট দেখাবে এল নিনো।
5
11
বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাংশে লবণাক্ততা বেড়েছে, আর পূর্বাংশে কমেছে। এই বৈষম্য সমুদ্রের ঘনত্ব ও স্রোতপ্রবাহে পরিবর্তন আনছে।
6
11
লবণাক্ত জল তুলনামূলকভাবে ভারী হওয়ায় তা নিচের দিকে নেমে যায়, আর কম লবণাক্ত জল ওপরে থাকে। এর ফলে উষ্ণ জলের বণ্টন এবং বায়ুমণ্ডলীয় প্রবাহে অস্বাভাবিকতা তৈরি হচ্ছে, যা এল নিনোর বিকাশকে আরও তীব্র করতে পারে।
7
11
গবেষণায় বলা হয়েছে, যদি বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে ২১শ শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ চরম এল নিনো ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। আগে যেখানে প্রতি ২০ বছরে একটি বড় এল নিনো দেখা যেত, সেখানে ভবিষ্যতে তা প্রতি ১০ বছরে একবার ঘটতে পারে। এর অর্থ হলো কৃষি, জল, মৎস্য এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর চাপ আরও বাড়বে।
8
11
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, লবণাক্ততার এই পরিবর্তন মূলত বিশ্ব উষ্ণায়নের ফল। বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধির কারণে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলাচ্ছে—কোথাও বেশি বৃষ্টি, কোথাও কম।
9
11
বেশি বৃষ্টিপাত হলে সমুদ্রে মিঠাজলের প্রবাহ বাড়ে, যা লবণাক্ততা কমায়। অন্যদিকে, বেশি বাষ্পীভবন লবণাক্ততা বাড়ায়। এই বৈপরীত্যই প্রশান্ত মহাসাগরের লবণাক্ততার ভারসাম্য নষ্ট করছে।
10
11
বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-সংবেদনশীল দেশের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। চরম এল নিনো হলে বর্ষার ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বাড়তে পারে এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
11
11
গবেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বের কার্বন নিঃসরণ দ্রুত কমানো জরুরি। পাশাপাশি সমুদ্র পর্যবেক্ষণ ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে হবে, যাতে সম্ভাব্য দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি নেওয়া যায়। প্রশান্ত মহাসাগরের লবণাক্ততার পরিবর্তন হয়তো চোখে দেখা যায় না, কিন্তু এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের জীবনে গভীর ছাপ ফেলতে পারে।