আপনি কি কখনও লক্ষ্য করেছেন যে, ভারতে কোনও পানীয় অর্ডার করার সময় প্রায়শই একটি সহজ প্রশ্ন করা হয়- ছোট পেগ নাকি বড় পেগ? এখানে এটা স্বাভাবিক শোনালেও, ভারতের বাইরে গেলেই ‘পেগ’ শব্দটি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়। অন্য দেশে একই পানীয়কে ‘শট’ হিসেবে পরিমাপ করা হয়। তখন মনে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক, ভারতেই কেন এমন একটি শব্দ কেন ব্যবহার করে যা অন্য কেউ করে না?
2
7
আরও আকর্ষণীয় বিষয় ‘পেগ’ কোনও অপভাষা শব্দ নয়। এটি শত শত বছর ধরে ব্যবহচ হচ্ছে। ভারতীয় বার এবং হাউস পার্টির বাইরেও এর বিস্তৃতি। যদিও এর কোনও প্রমাণ সহ কোনও সরকারি নথি নেই। যা আছে তা সবই মৌখিক এবং জনপ্রিয় সংস্কৃতি।
3
7
অনেকের ধারণা ‘পেগ' শব্দটি ইংরেজি শব্দবন্ধ ‘প্রিশিয়াস ইভিনিং গ্লাস’-এর ছোট সংস্করণ। এটি ব্রিটেনের কয়লা খনি শ্রমিকদের তৈরি। সারাদিন ক্লান্তিকর এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ভূগর্ভে ঘন্টার পর ঘন্টা কাজের পর তারা দিনের শেষে পুরষ্কার পেতেন এবং এর জন্য অপেক্ষা করতেন।
4
7
প্রচলিত কাহিনী অনুসারে, এই খনি শ্রমিকদের দৈনিক মজুরির সঙ্গে এক ছোট গ্লাস মদ (প্রায়শই ব্র্যান্ডি) দেওয়া হত। তাদের কাছে এটি শুধু একটি পানীয় ছিল না। হিমাঙ্কের নীচের তাপমাত্রা এবং কঠিন জীবনে সন্ধ্যার ওই এক গ্লাস পানীয় তাদের উষ্ণতা, স্বস্তি এবং এক মুহূর্তের আরাম দিত। স্বাভাবিকভাবেই, এটি তাদের কাছে অমূল্য হয়ে উঠেছিল। এটির জন্য তারা সারাদিন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন।
5
7
ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সময় এই শব্দবন্ধ নীরবে এই দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সুবিধার জন্য ভারতে মদের পরিমাপকে ৩০ মিলিলিটারে একটি ছোট পেগ এবং ৬০ মিলিলিটারে একটি বড় পেগ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। এই ব্যবস্থাটি সহজেই জনপ্রিয় হয়ে যায়। কারণ এটি ছিল বিক্রেতা ও পানকারী উভয়ের জন্যই সহজবোধ্য।
6
7
মজার ব্যাপার হল, ব্রিটেন নিজে কখনওই এই শব্দটি গ্রহণ করেনি। সেখানে মদ পরিমাপ করা হত সিঙ্গল (২৫ মিলি) বা ডাবল (৫০ মিলি) হিসেবে। এই গল্পের উৎপত্তি ব্রিটেনে হলেও এই পরিভাষাটি তার প্রকৃত সাংস্কৃতিক আশ্রয় খুঁজে পায় ভারতে এবং এখানকার মানুষ অনায়াসে এই পানীয়টিকে ‘পেগ’ বলে উল্লেখ করতে শুরু করে।
7
7
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাথে ‘পেগ’ শুধু পরিমাপের একক হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি দৈনন্দিন ভাষার অংশ হয়ে উঠেছে, যা চলচ্চিত্র, কথোপকথন, কৌতুক এবং এমনকি অনুভূতির প্রকাশেও ব্যবহৃত হয়।