কেন্দ্র সরকার কোড অন সোশ্যাল সিকিউরিটি, ২০২০-এর অধীনে নতুন ইপিএফ ২০২৬ কার্যকর করেছে। ২৯ জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মে কর্মচারী ও নিয়োগকর্তা—উভয়ের জন্যই বাধ্যতামূলক ইপিএফ অবদান মাসে ১,৮০০ করে নির্ধারণ করা হয়েছে।
2
11
এর বেশি অবদান রাখতে চাইলে তা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী হবে। নতুন এই নিয়মের ফলে অনেক চাকরিজীবীর মাসিক টেক-হোম স্যালারি বাড়তে পারে। তবে একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে অবসরের জন্য গড়ে ওঠা পিএফ কর্পাস কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
3
11
এর আগে ইপিএফ কর্মচারী এবং নিয়োগকর্তা উভয়কেই সাধারণত কর্মচারীর বেসিক বেতন ও ডিয়ারনেস অ্যালাউন্সের ১২ শতাংশ করে জমা দিতে হত। অর্থাৎ বেসিক বেতন যত বেশি হতো, বাধ্যতামূলক পিএফ অবদানও তত বেশি হতো। নতুন নিয়মে সেই ব্যবস্থা বদলে নির্দিষ্ট ১,৮০০-র বাধ্যতামূলক সীমা চালু করা হয়েছে।
4
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব কর্মচারীর ইপিএফ আগে মাসে ১,৮০০-এর বেশি কাটা হত, তাদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক অবদান কমে যাওয়ায় প্রতি মাসে বেতন থেকে কম টাকা কাটা হবে। ফলে অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবী পিএফ অবদান না রাখলে তাদের হাতে পাওয়া বেতন বা টেক-হোম স্যালারি বেড়ে যেতে পারে।
5
11
তবে এই সুবিধা সব কর্মীর ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য হবে না। কারণ এটি অনেকটাই নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কস্ট-টু-কোম্পানি কাঠামো এবং চাকরির চুক্তির ওপর।
6
11
অনেক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগকর্তার পিএফ অবদান সিটিসি-র অংশ হিসেবে ধরা হয়। সে ক্ষেত্রে কোম্পানি চাইলে কমে যাওয়া পিএফ অবদানের অর্থ কর্মচারীকে অতিরিক্ত বেতন হিসেবে দিতে পারে, আবার নাও দিতে পারে।
7
11
অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞদের মতে নতুন নিয়মের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে দীর্ঘমেয়াদে অবসরের সঞ্চয়ের ওপর। উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, কোনও কর্মচারীর মাসিক বেসিক বেতন ৫০,০০০।
8
11
পুরনো নিয়ম অনুযায়ী কর্মচারী এবং নিয়োগকর্তা উভয়েই ১২ শতাংশ করে অর্থাৎ ৬,০০০ করে জমা দিতেন। ফলে প্রতি মাসে মোট ১২,০০০ জমা হত।
9
11
কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় বাধ্যতামূলক অবদান যদি কর্মচারী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের জন্যই ১,৮০০-তে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে মোট মাসিক জমা হবে মাত্র ৩,৬০০। অবশ্য কেউ চাইলে অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবী অবদান রাখতে পারবেন। কিন্তু তা বাধ্যতামূলক নয়।
10
11
ফলে প্রতি মাসে জমা হওয়া অর্থ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। দীর্ঘ সময় ধরে কম বিনিয়োগের ফলে চক্রবৃদ্ধি সুদের সুবিধাও কম মিলবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে অবসরের সময় গড়ে ওঠা পিএফ কর্পাসের ওপর।
11
11
বিশেষ করে যাদের বেসিক বেতন বেশি, তারা এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব অনুভব করতে পারেন। কারণ তাদের আগের বাধ্যতামূলক অবদানের বড় অংশই এখন স্বেচ্ছাসেবী হয়ে যাবে। তাই টেক-হোম স্যালারি বাড়লেও, ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অতিরিক্ত অবদান রাখা উচিত কি না, তা ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা।