দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচার করলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। রেজিনগর বাজার এলাকায় প্রচার করেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন রেজিনগরে উপনির্বাচনে সিপিএমের প্রার্থী মহম্মদ সাঈদ, ছাত্র নেত্রী আফরিন বেগম শিল্পী। ছিলেন দমকলের সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানও। বাজার এলাকার প্রতিটি দোকানে গিয়ে জনসংযোগ করেন তাঁরা। সারা দিন ধরে প্রচার করার পরে বিকেলে সভা করেন সেলিম।
2
7
জনগণই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আসল চালিকাশক্তি, অথচ সেই অধিকারকেই দেশজুড়ে সুকৌশলে ধূলিসাৎ করছে বিজেপি—রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের জমজমাট প্রচারসভায় দাঁড়িয়ে ঠিক এই ভাষাতেই সুর চড়ান সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বামফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মহম্মদ সইদের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় জেলা নেতৃত্ব জামির মোল্লা ও আফরিন বেগমকে পাশে নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) নামে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ঘৃণ্য চক্রান্ত চলছে।
3
7
তাঁর স্পষ্ট তোপ, অতীতে তৃণমূল কংগ্রেস যেভাবে পুলিশ-প্রশাসনকে ঢাল বানিয়ে ভোট লুটের রাজনীতি করত, বর্তমানে বিজেপিও সেই একই পথে হেঁটে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে কোনো রাজনৈতিক নেতার মর্জিমাফিক নয়, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে আইন মেনে কাজ করার কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
4
7
নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেলিম দাবি করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসরণের দাবিতে গোটা দেশেই এখন ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম সরাসরি উল্লেখ করে তিনি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, কমিশনের সিইও-কে ব্যবহার করে নির্বাচন পার পাওয়ার যে ছক ভাবা হচ্ছে, ময়দানে তা এত সহজে কার্যকর হতে দেবে না বামপন্থীরা।
5
7
হকার উচ্ছেদ প্রতিরোধ থেকে শুরু করে যাদবপুর ক্যাম্পাসের অন্যায়ের প্রতিবাদ—জনস্বার্থের প্রতিটি লড়াইয়ে একমাত্র লাল ঝান্ডার কর্মীরাই বুক চিতিয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেই শাসক শিবির বামপন্থীদের এতো বেশি ভয় পায়।
6
7
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের প্রসঙ্গ টেনে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মনে করিয়ে দেন, তৃণমূলের কোনও সুস্থ বিকল্প বিজেপি হতে পারে না, কারণ তাদের চরিত্র ও নীতিতে কোনও ফারাক নেই। তৃণমূল জমানায় অবাধ লুটপাট, বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং গণতান্ত্রিক কণ্ঠরোধের কাণ্ডারীদের মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীও ছিলেন, যিনি আজ দল বদলে বিজেপির হয়ে ক্ষমতার শীর্ষে বসেছেন।
7
7
মসনদে বসেই এই সরকার গরিব হকারদের রুটিরুজির ওপর আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। একই সঙ্গে তৃণমূলের দলত্যাগী জনপ্রতিনিধিদের নৈতিকতা নিয়ে চরম উপহাস করে তিনি বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অন্তত কুড়িজন সাংসদ রাতারাতি বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। ভোটের সময় বিজেপিকে বড় বিপদ হিসেবে তুলে ধরে সাধারণ মানুষের সমর্থন নিয়ে এখন তাঁরাই ক্ষমতা ও স্বার্থের লোভে গেরুয়া শিবিরে গিয়ে বসেছেন, যা রাজনৈতিক দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।