মুখের ক্যানসার বা ওরাল ক্যানসার নিয়ে এখনও একটি ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, শুধুমাত্র ধূমপান করেন বা তামাক খান এমন মানুষেরাই এই রোগে আক্রান্ত হন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বাস্তব চিত্রটা ভিন্ন। ধূমপান না করলেও মুখের ক্যানসার হতে পারে। তাই এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
2
10
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুখের ক্যানসার যদি শুরুতেই ধরা পড়ে, তাহলে চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ মুখের কিছু সাধারণ সমস্যাকে গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগ অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার পর তা ধরা পড়ে।
3
10
মুখের ঘা দীর্ঘদিন না সারলে: মুখের ভিতরে ঘা হওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা। সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই তা সেরে যায়। কিন্তু যদি কোনও ঘা দুই সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে না সারে, তাহলে তা সতর্কতার সংকেত হতে পারে। বিশেষ করে ঘা থেকে ব্যথা বা রক্তপাত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
4
10
মুখে সাদা বা লাল দাগ দেখা দিলে: জিভ, মাড়ি বা গালের ভিতরে সাদা বা লাল রঙের দাগ অনেক সময় মুখের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। অনেকেই এগুলোকে সাধারণ সংক্রমণ ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এই ধরনের দাগ দীর্ঘদিন থাকলে অবশ্যই পরীক্ষা করানো উচিত।
5
10
খাবার গিলতে বা চিবোতে সমস্যা: খাবার খাওয়ার সময় ব্যথা হওয়া, গিলতে অসুবিধা হওয়া বা গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি থাকলে তা অবহেলা করবেন না। এই সমস্যা যদি নিয়মিত হতে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।
6
10
জিভ বা মুখের কোনও অংশ অসাড় হয়ে যাওয়া: মুখের কোনও অংশে অনুভূতি কমে যাওয়া, ঝিনঝিন করা বা অসাড় লাগা অনেক সময় স্নায়ুজনিত সমস্যার পাশাপাশি ক্যানসারেরও লক্ষণ হতে পারে। তাই এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
7
10
ঘাড়ে বা গলায় গিঁট অনুভব করা: ঘাড় বা গলার কোনও অংশে অস্বাভাবিক ফোলাভাব বা গিঁট দেখা গেলে তা গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে মুখের ক্যানসার ছড়িয়ে পড়লে ঘাড়ের লিম্ফ নোড ফুলে যেতে পারে।
8
10
কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়া: যদি দীর্ঘদিন ধরে গলা ভাঙা থাকে, কথা বলার সময় কণ্ঠস্বর পরিবর্তিত শোনায় বা গলায় অস্বস্তি অনুভূত হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এটি মুখ ও গলার ক্যানসারের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে।
9
10
কারা বেশি ঝুঁকিতে? তামাক, গুটখা, জর্দা বা ধূমপান মুখের ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপান, মুখের পরিচ্ছন্নতার অভাব, এইচপিভি ভাইরাসের সংক্রমণ এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও এই রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে কোনও ঝুঁকির কারণ না থাকলেও এই রোগ হতে পারে।
10
10
মুখের ভিতরে কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখলে তা অবহেলা করবেন না। বিশেষ করে কোনও সমস্যা যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।