রাতে ট্রেন যাত্রা মানেই মজা। জানালায় চোখ রাখলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে নানান দৃশ্য। রাতের খাবার সেরে যাত্রীরা যখন নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েন, তখন ট্রেনের একেবারে সামনে, ইঞ্জিন কেবিনে চলে এক অন্য লড়াই।
2
10
সেখানে প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থাকেন দু’জন মানুষ। লোকো পাইলট এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকো পাইলট। যাত্রীদের নিরাপদ সফরের দায়ভার পুরোটাই থাকে এই দু’জোড়া সজাগ চোখের ওপর।
3
10
নিশুতি রাতে যখন গোটা ট্রেন ঘুমোচ্ছে, তখন ইঞ্জিনের ভেতর অবিরাম কথা বলে চলেন তাঁরা। তবে সে কথা কোনও গল্পগাছা নয়, পুরোটাই যাত্রীদের সুরক্ষার স্বার্থে। ট্রেনের গতি যখন ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার, তখন ঘুটঘুটে অন্ধকারের বুকে প্রতিটি সিগন্যালকে চিনে নেওয়াটাই আসল চ্যালেঞ্জ।
4
10
সামনের লাইনে কোনও সিগন্যাল এলে লোকো পাইলট জোরে জোরে তার নম্বর ও রঙ আউড়ে ওঠেন- যেমন, "সিগন্যাল ১০৫০, সবুজ।" সহকারী পাইলট সঙ্গে সঙ্গে চোখের পলকে তা মিলিয়ে নিয়ে নিশ্চিত করেন।
5
10
মানুষের সামান্যতম ভুলের কারণে যাতে কোনও বড় বিপর্যয় না ঘটে, তার জন্যই এই নিখুঁত বোঝাপড়া। সেকেন্ডের এই আদান-প্রদানই নিশ্চিত করে শত শত কিলোমিটারের নিরাপদ যাত্রা।
6
10
রেল সূত্রের খবর, এই সিগন্যালগুলো মোটেও এলোমেলো নয়। সাধারণ লাইনে প্রতি ১ থেকে ২ কিলোমিটার অন্তর এই সিগন্যাল থাকে।
7
10
ব্যস্ত রুটে তা ৫০০ থেকে ৮০০ মিটার এবং বড় কোনও জংশন বা স্টেশনের কাছাকাছি এলে প্রতি ২০০ থেকে ৫০০ মিটার পর পর বসানো থাকে। ফলে প্রতি মুহূর্তে সামনের ট্র্যাকের পরিস্থিতি কেমন, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হদিস পেতে থাকেন চালকেরা।
8
10
মজার বিষয় হল, ট্রেন প্ল্যাটফর্ম ছাড়ার আগেই চালকের মগজে পুরো যাত্রাপথের একটা স্পষ্ট ছবি তৈরি হয়ে যায়। রুট চার্ট দেখে তিনি আগেই জেনে নেন- কোথায় থামতে হবে, গতি কোথায় কমাতে হবে, কোথায় লাইনের মেরামতের কাজ চলছে কিংবা কোথায় রয়েছে বিপজ্জনক বাঁক। অর্থাৎ, আপনি সিটে বসার আগেই ট্রেনের চালক জেনে যান সামনের গোটা রাতের গতিপথ।
9
10
এক মুহূর্তের অসতর্কতা, একটি ভুল সংকেত বা কয়েক সেকেন্ডের অমনোযোগ ডেকে আনতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা।
10
10
তাই এই কাজ শুধু জেগে থাকার নয়, বরং চরম একাগ্রতার। রাতের পর রাত, প্রতি মিনিটে এই কঠিন পরীক্ষা দিয়েই ট্রেনকে গন্তব্যে পৌঁছে দেন লোকো পাইলটরা।