মরুভূমিতে লাল ঝড়! রাজস্থানে সিপিএমের ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে এক 'প্রভাবশালী' পরিবার?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬ : ২৬
শেয়ার করুন
1
13
রাজস্থানের পুরসভা নির্বাচনের ফলাফল রাজ্য রাজনীতির চেনা সমীকরণকে নাড়িয়ে দিয়ে এক অভাবনীয় মোড় এনে দিয়েছে।
2
13
মরুরাজ্যের রাজনীতিতে যেখানে চিরকালই লড়াই সীমাবদ্ধ থাকত বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে।
3
13
সেখানে এবার নির্দল প্রার্থীদের বিপুল উত্থানের পাশাপাশি লাল ঝাণ্ডার ইতিহাস গড়ার ঘটনা রাজনৈতিক মহলে জোর শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
4
13
বিকানের জেলার নোখা পুরসভায় ৪৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টিতেই বাজিমাত করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিনিয়ে নিয়েছে সিপিআই(এম)।
5
13
বিপরীতে শাসকদল বিজেপি আটকে গেছে মাত্র ১৩টি আসনে এবং কংগ্রেসের মতো প্রধান দল কার্যত সেখানে শূন্যে নেমে এসেছে।
6
13
রাজস্থানের পুরবোর্ড গঠনের ইতিহাসে কোনও কমিউনিস্ট দলের এই প্রথম সাফল্যকে বিশেষজ্ঞরা স্রেফ নির্বাচনী জয় হিসেবে দেখছেন না, বরং মরুভূমিতে এক অবিশ্বাস্য 'রাজনৈতিক পুনরুত্থান' বলেই মনে করছেন।
7
13
এই স্থানীয় পৌর নির্বাচনের আসল চাবিকাঠি ছিল নোখার রাজনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত প্রভাবশালী ‘ঝনবর’ পরিবারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ক্ষমতা দখলের লড়াই। ওই অঞ্চলে কংগ্রেস বা বিজেপি—কোনো বড় দলেরই একক আধিপত্য খাটে না; বরং স্থানীয় ক্ষমতা ধরে রাখতে ঝনবর পরিবারের মতো প্রভাবশালী বংশের একাংশের সমর্থন পাওয়াটাই যেকোনও দলের জয়ের একমাত্র মাপকাঠি।
8
13
ঝনবর পরিবার কোনও একটা রাজনৈতিক দলের অনুসারী নয়। এই পরিবারের একটি শক্তিশালী অংশ কট্টর বিজেপি শিবিরের সঙ্গে যুক্ত। যেমন পরিবারের প্রভাবশালী বিজেপি নেতার ছেলে মহেশ ঝনবর এবার বিজেপির টিকিটেই জয়ী হয়েছেন। কিন্তু পরিবারের অপর দুই প্রভাবশালী সদস্য—নারায়ণ ঝনবর এবং সন্তোষ ঝনবর দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারের এই মূল ধারার সমান্তরালে নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ভিত্তি টিকিয়ে রেখেছেন। তাই এবার দলীয় চিহ্নের চেয়েও স্থানীয় নাগরিক সমস্যা, জল সংকট, রাস্তাঘাট ও নিকাশী ব্যবস্থার দাবিদাওয়াকে সামনে রেখে একেবারে ঘরে ঘরে পৌঁছে প্রচার চালিয়েছিল তারা।
9
13
নারায়ণ ও সন্তোষ এলাকায় মূলত ‘বিকাশ মঞ্চ’ নামে নিজেদের একটি স্থানীয় অরাজনৈতিক বা আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করেন। বিজেপি ও কংগ্রেসের দ্বিমুখী আধিপত্যের বাইরে গিয়ে নোখায় নিজেদের ব্যক্তিগত প্রভাব ধরে রাখতে তাঁরা প্রতি নির্বাচনে ছোট বা বিকল্প দলগুলির প্রতীককে সাময়িক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেন। যেমন গত নির্বাচনে এই বিকাশ মঞ্চের নেপথ্যে লড়াই হয়েছিল শরদ পাওয়ারের দল এনসিপি (NCP)-র প্রতীকে এবং সেখানেও তাঁরা জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। এবার ঠিক একই কৌশলে এনসিপির বদলে সিপিআই(এম)-এর ‘কাস্তে-হাতুড়ি-তারা’ প্রতীককে বেছে নেয় বিকাশ মঞ্চ। ফলে নারায়ণ ও সন্তোষের মতো স্থানীয় প্রভাবশালী প্রার্থীরা লাল ঝাণ্ডার প্রতীকে লড়াই করে সহজে জয় হাসিল করেন।
10
13
রাজ্য জুড়ে পুরভোটের সামগ্রিক চিত্রের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষ দুই প্রধান দলের দলীয় আধিপত্যের চেয়ে স্থানীয় ইস্যু ও মাটির মানুষকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
11
13
কংগ্রেস ৪৫টি পুরসভায় জয় পেলেও বিজেপি একাধিক জায়গায় স্পষ্ট ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছে। আর সেই অসন্তোষের ফাঁক গলে বহু আসনেই বাজিমাত করেছে নির্দলরা।
12
13
কিন্তু সব ছাপিয়ে নোখায় বামেদের ২৯টি ওয়ার্ড দখল করে ক্ষমতা দখল প্রমাণ করে দিল যে, রাজস্থানের মতো রাজ্যেও যদি সঠিক স্থানীয় সমীকরণ ও কৃষক-শ্রমিকের দাবিদাওয়াকে আঁকড়ে ধরা যায়, তবে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক মেরুকরণ ভেঙে ইতিহাস তৈরি করা সম্ভব।
13
13
আগামী পঞ্চায়েত ও বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ফল সব পক্ষের জন্যই এক বড় রাজনৈতিক বার্তা বয়ে নিয়ে এল।