অর্ণবের শঙ্কা কাটতেই, ফের চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ের ভ্রূকুটি। রবিবার হাওয়া অফিস জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর অতি গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় 'মুরাসু' তে পরিণত হয়েছে ইতিমধ্যেই।
2
9
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ঘূর্ণিঝড় পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিয়ে অগ্রসর হয়ে আগামিকাল অর্থাৎ সমবার সকাল নাগাদ পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে আরও শক্তিশালী হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
3
9
ভারতীয় সময় অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে, নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী অঞ্চল, অন্ধ্রের দক্ষিণ উপকূল অতিক্রমের সম্ভাবনা রয়েছে মুরাসুর। ঘূর্ণিঝড় হিসেবে স্থলভাগ অতিক্রমের সময় ঘণ্টায় গতিবেগ থাকার সম্ভাবনা ১১০-১২০ কিলোমিটার। দমকা হাওয়া বেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে, তেমনটাই জানাচ্ছে হাওয়া অফিস।
4
9
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল নাগাদ এটি চেন্নাই থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, বিশাখাপত্তনম থেকে ৭৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে এবং মছলিপত্তনম থেকে ৭৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে।
5
9
এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামী তিন দিন অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকা এবং রায়ালসীমায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। রবিবার কৃষ্ণা, গুন্টুর, বাপটলা, প্রকাশম, মার্কাপুরম এবং নেল্লোর জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
6
9
কিন্তু অর্ণবের পর মুরাসু, এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখল কোন দেশ? কেন এই নাম? মুরাসু শব্দের অর্থই বা কী? উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণের তালিকায় 'মুরাসু' নামটি মূলত ভারতের প্রস্তাবিত নাম। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোর নাম নির্ধারণ করে 'ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন' (এবং 'ইউনাইটেড নেশনস ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক'-এর অধীনস্থ 'প্যানেল অন ট্রপিক্যাল সাইক্লোনস'।
7
9
২০০৪ সালে এই নামকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে আরও অনেক দেশ এই প্যানেলে যুক্ত হওয়ায় তালিকার পরিধিও বড়েছে গত কয়েক বছরে। বর্তমানে WMO-এর সদস্য সংখ্যা ১৯৪; তালিকায় রয়েছে- ১৮৮টি সদস্য রাষ্ট্র এবং ৬টি অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
8
9
ভারতের প্রস্তাবিত নাম মুরাসু-র একটি তামিল শব্দ। এর অর্থ হল প্রাচীনকালের এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র বা ঢোল।
9
9
'মুরাসু' নামটি প্রস্তাব করার কারণ হলো, প্রাচীনকালে এই বাদ্যযন্ত্রটি ব্যবহার করা হতো মানুষের কাছে বিভিন্ন তথ্য পৌঁছে দিতে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে সতর্কবার্তা প্রচার করার জন্য, সেই কারণেই এবার এই নাম প্রস্তাব করেছে ভারত ঘূর্ণিঝড়ের নাম হিসেবে, তথ্য তেমনটাই।