আকাশে হঠাৎ কালো মেঘ জমেছে। বাড়ছে হাওয়ার দাপট, সঙ্গে বাতাসে অনুভূত হচ্ছে হালকা শীতলতা। সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে, যে কোনও মুহূর্তে নামতে পারে ঝড়-বৃষ্টি।
2
14
সাধারণত উষ্ণ ও গরম মরশুমেই বজ্রঝড়ের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ঝড় এগিয়ে আসার সময় অনেকের মধ্যেই এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়। আবার একই সঙ্গে বজ্রপাত ও বিদ্যুতের ঝলকানি প্রকৃতির এক অসাধারণ দৃশ্য হিসেবেও আমাদের আকর্ষণ করে।
3
14
বজ্রপাত কোনও অলৌকিক ঘটনা নয়। প্রাচীন গ্রিকরা বজ্রপাতকে দেবতা জিউসের ক্রোধের সঙ্গে যুক্ত করতেন।
4
14
কিন্তু বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে স্পষ্ট হয়েছে, এর পিছনে রয়েছে শক্তিশালী বৈদ্যুতিক প্রক্রিয়া। ১৭৫২ সালে বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিনের পরীক্ষার পর বজ্রপাত যে আসলে মেঘের মধ্যে তৈরি হওয়া শক্তিশালী বৈদ্যুতিক নির্গমন, তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
5
14
বজ্রগর্ভ মেঘের ভিতরে জলীয় কণা ক্রমাগত উপরে উঠতে থাকে। উপরের দিকে উঠতে উঠতে তাপমাত্রা কমে যায় এবং সেই জলকণা বরফে পরিণত হয়।
6
14
পরে বরফের কণাগুলি নীচের দিকে নামার সময় মেঘের নীচের অংশে থাকা জলকণার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘর্ষ ও ঘর্ষণের ফলেই বৈদ্যুতিক আধানের বিভাজন ঘটে।
7
14
ফলে মেঘের মধ্যে তৈরি হয় দুটি আলাদা বৈদ্যুতিক অঞ্চল বা ‘পোল’। একটি অংশে জমা হয় বেশি ঋণাত্মক আধান, অন্যদিকে তৈরি হয় ধনাত্মক আধানের আধিক্য।
8
14
শুধু মেঘেই নয়, মাটির উপরেও বৈদ্যুতিক আধানের বণ্টনে পরিবর্তন দেখা যায়। প্রকৃতি সবসময় বৈদ্যুতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। ফলে বিপরীত আধানের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির জন্য শুরু হয় বৈদ্যুতিক প্রবাহ।
9
14
প্রথমে মেঘ থেকে মাটির দিকে একটি অদৃশ্য বৈদ্যুতিক পথ তৈরি হয়। এই পথ মাটির কাছাকাছি পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে মাটির উপরেও বিপরীত আধানের ঘনত্ব বাড়তে থাকে।
10
14
একসময় মেঘ ও মাটির মধ্যে বিপুল শক্তির বৈদ্যুতিক নির্গমন ঘটে। তখনই আমাদের চোখে ধরা পড়ে উজ্জ্বল বিদ্যুতের ঝলকানি—অর্থাৎ বজ্রপাত।
11
14
বজ্রপাতের সময় আশপাশের বাতাস মুহূর্তের মধ্যে অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রচণ্ড তাপে বাতাস দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায় এবং তার ফলে তৈরি হয় শক্তিশালী চাপের তরঙ্গ। সেই বিস্ফোরণসদৃশ শব্দই আমাদের কানে পৌঁছয় ‘বজ্রধ্বনি’ হিসেবে।
12
14
বজ্রপাতের রংও সবসময় একরকম হয় না। বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা, তাপমাত্রা এবং বায়ুদূষণের মাত্রার মতো বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভর করে বিদ্যুতের ঝলকানি লাল, নীল, হলুদ বা অন্য রঙের দেখাতে পারে।
13
14
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, বজ্রপাতের সময় উৎপন্ন তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি এবং এর সঙ্গে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়। একটি বজ্রপাতের শক্তি কয়েকশো বিলিয়ন ওয়াট পর্যন্ত হতে পারে। আর সেই কারণেই বজ্রপাত অত্যন্ত বিপজ্জনক।
14
14
বর্তমানে বিজ্ঞানীরা বজ্রপাতের এই বিপুল শক্তিকে নিরাপদে ধরে রাখা ও সংরক্ষণ করার মতো প্রযুক্তি তৈরি করতে পারেননি। তাই বজ্রঝড়ের সময় প্রকৃতির এই অসাধারণ দৃশ্য যতই আকর্ষণীয় হোক, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাই সবচেয়ে জরুরি। প্রকৃতির এই শক্তিশালী প্রদর্শনী উপভোগ করা যায়—তবে অবশ্যই নিরাপদ জায়গা থেকে।