ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড় ধস। দিনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে প্রায় ১৩০০ পয়েন্ট পড়ে গভীর লালে লেনদেন করল সেনসেক্স ও নিফটি।
2
13
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, মার্কিন বন্ড ইয়িল্ড বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপে এই পতন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।এদিন লেনদেনের শেষে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স ৬৬৫.২৬ পয়েন্ট বা ০.৮৯ শতাংশ পড়ে ৭৪,১১৬.৫০-এ বন্ধ হয়েছে।
3
13
অন্যদিকে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি ২৩৬.২০ পয়েন্ট বা ১.০১ শতাংশ কমে ২৩,১৬১.৯০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। দিনের মধ্যে নিফটি ২৩,১৫০-এর মনস্তাত্ত্বিক স্তরের কাছাকাছি চলে আসে।
4
13
বাজারের সামগ্রিক চিত্র ছিল অত্যন্ত দুর্বল। এদিন বিএসই-তে ১,০৪২টি শেয়ারের দাম বাড়লেও ৩,০২২টি শেয়ারের দাম কমেছে এবং ১৬২টি শেয়ার অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ, পড়তি শেয়ারের সংখ্যাই ছিল অনেক বেশি।
5
13
অপরিশোধিত তেলের দামে আগুন: বাজার পড়ার পিছনে প্রধান কারণ হিসাবে দেখা হচ্ছে তেলের দাম বৃদ্ধিকে। মধ্য এশিয়াতে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়ছে।
6
13
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে নতুন করে হামলা চালিয়েছে এবং লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূলে অবস্থান শক্ত করছে বলে ইয়েমেনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
7
13
এর জেরে উপসাগরীয় আরব দেশগুলি ইরানের সঙ্গে পরিকল্পিত আলোচনা স্থগিত করেছে। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
8
13
এর প্রভাবে এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৭ ডলারের কাছাকাছি লেনদেন করছে। ভারতের মতো তেল আমদানিকারক দেশের জন্য এটি বড় ধাক্কা, কারণ এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার এবং বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
9
13
বিশ্বব্যাপী বন্ড ইয়িল্ড বৃদ্ধি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ড ফের বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বন্ডে বেশি রিটার্ন পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন।
10
13
ব্যাঙ্কিং ও ফিনান্সিয়াল শেয়ারে চাপ: এদিন বাজারের পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল ব্যাঙ্কিং শেয়ারের। সূচকে সবচেয়ে বেশি ওজন থাকা আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের শেয়ার প্রায় ২ শতাংশ পড়েছে।
11
13
এছাড়া বাজাজ ফিনসার্ভ, বাজাজ ফাইন্যান্স, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক এবং স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার মতো আর্থিক পরিষেবা সংস্থার শেয়ারেও বড় বিক্রির চাপ দেখা গেছে।
12
13
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি: গত কয়েকদিন ধরেই এফআইআই বা বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজারে নেট বিক্রেতা হিসাবে রয়েছেন। ডলারের শক্তি বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তার কারণে তারা উদীয়মান বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন, যার প্রভাব পড়েছে সেনসেক্স-নিফটিতে।
13
13
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন না পর্যন্ত রাজনৈতিক উত্তেজনা কমছে এবং তেলের দাম স্থিতিশীল হচ্ছে, ততদিন বাজারে অস্থিরতা থাকবে। আপাতত নিফটির জন্য ২৩,০০০ পয়েন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট লেভেল হিসাবে কাজ করবে। এই স্তরের নিচে নামলে আরও বিক্রির চাপ বাড়তে পারে।