দুর্গাপুজো শুরু হতে আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি, কিন্তু উৎসবের আমেজের মাঝেই বামেদের বইয়ের স্টল দেওয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছল।
2
11
উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ ও নৈহাটিতে পুজোর দিনগুলিতে বইয়ের স্টল দেওয়ার অনুমতি পুলিশ না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল সিপিআই(এম)। তবে কলকাতা হাইকোর্টেও স্বস্তি মেলেনি তাদের।
3
11
সোমবার জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি জানানো হলে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তা খারিজ করে স্পষ্ট মন্তব্য করেন, "বুক স্টল করা কি কোনও প্রদত্ত অধিকার? পুজোয় না হলে কালীপুজোয় করুন।"
4
11
আদালতে সিপিএমের আইনজীবী শামীম আহমেদ দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে সওয়াল করেন যে, পুজোর পর এই মামলার আর কোনও প্রাসঙ্গিকতা থাকবে না। আদালত সময় না দিলে মামলা ছেড়ে দেওয়া হোক যাতে অন্য বেঞ্চে আবেদন করা যায়।
5
11
এর জবাবে বিচারপতি জানান, পুজোর আগে এই মামলার তাৎক্ষণিক জরুরি গুরুত্ব তিনি দেখছেন না, এবং মামলা ছেড়ে দেওয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার জানানো হবে।
কিন্তু হিন্দু জাগরণ মঞ্চের লোকজন জোর করে সেগুলি সরিয়ে নিজেদের স্টল তৈরির চেষ্টা করে এবং বাধা দিতে গেলে বাম কর্মীদের মারধর করা হয়।
8
11
একই ধরনের অশান্তির ছবি ধরা পড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুরেও, যেখানে পুজোয় বইয়ের স্টল বন্ধ করতে বিজেপি কর্মীরা দলীয় কার্যালয় দখলের চেষ্টা ও মারধর করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে সিপিএম, যদিও বিজেপি পাল্টা অভিযোগ করেছে।
9
11
পুজোয় বামেদের বইয়ের স্টল নিয়ে বিতর্কের আগুনে আগেই ঘি ঢেলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি তিনি প্রকাশ্য সভায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, কমিউনিস্টরা 'দুর্গাপুজো' না লিখে যদি 'শারদোৎসব' লেখে, তবে পুজো কমিটিগুলি যেন একটিও স্টল করতে না দেয়।
10
11
এর পরপরই কলকাতার এন্টালির একটি পুজো কমিটি ব্যানার টাঙিয়ে কার্যত 'বাম বধের' হুঁশিয়ারি দেয়।
11
11
সব মিলিয়ে তৃণমূলের রাজনৈতিক আক্রমণ, গেরুয়া শিবিরের বাধা এবং হাইকোর্টে জরুরি শুনানির ধাক্কা—পুজোর মুখে বামেদের চিরাচরিত বইয়ের স্টল দেওয়ার ঐতিহ্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন বঙ্গ রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে।