পুরভোটে বড় চমক সিপিএমের! উপর থেকে নয়, এবার এক বড় ‘স্বাধীনতা’ পেলেন জেলা নেতারা?
নিজস্ব সংবাদদাতা
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ : ৪৫
শেয়ার করুন
1
9
আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে নির্বাচনী রণকৌশলে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সিপিআইএম। উপর থেকে কোনও সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে চাপিয়ে দেওয়ার বদলে এবার নিচুতলার মত ও স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে আলিমুদ্দিন।
2
9
সংশ্লিষ্ট জেলার সাংগঠনিক শক্তি, বাস্তব পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতার নিরিখে জোট ও আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে জেলা নেতৃত্বকে।
3
9
পার্টি সূত্রের খবর, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর স্পষ্ট নির্দেশ—তৃণমূল কংগ্রেস কিংবা এনসিপিআই-এর সঙ্গে কোনওরকম নির্বাচনী বোঝাপড়ার প্রশ্নই নেই। তবে বামফ্রন্টের শরিকদের বাইরেও যদি কোনও ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক শক্তি আলোচনায় আসতে চায়, সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার রাস্তা খোলা রাখা হয়েছে।
4
9
রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, এতে কোনও নতুন চমক নেই পার্টি কংগ্রেসের নির্দেশিকা মেনে এবং তৃণমূল স্তরের সমীকরণ বুঝেই এই বাস্তববাদী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
5
9
নভেম্বরের শেষ কিংবা ডিসেম্বরের গোড়ায় বকেয়া পুরসভাগুলিতে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতেই প্রার্থী বাছাই ও সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে গতি আনতে বলা হয়েছে। দলের অন্দরের ব্যাখ্যা, একেকটি পুরসভার সমীকরণ একেক রকম।
6
9
কোথাও হয়তো বামেরা একক শক্তিতে লড়ার মতো জায়গায় রয়েছে, আবার কোথাও বিজেপি বা তৃণমূল-বিরোধী ভোট ভাগাভাগি রুখতে স্থানীয় কোনও গণতান্ত্রিক মঞ্চ বা দলের সঙ্গে সমঝোতা জরুরি। তাই রাজ্যস্তর থেকে ঢালাও নিয়ম না বেঁধে জেলা নেতাদের হাতেই সিদ্ধান্তের ভার ছাড়া হয়েছে।
7
9
পাশাপাশি, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়েও বাড়তি সতর্ক দল। ট্রাইব্যুনালে আটকে থাকা নাম দ্রুত তালিকায় তোলার দাবিতে কমিশনের উপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি, কোনও যোগ্য নাগরিকের নাম যেন রাজনৈতিক কারণে বাদ না যায়, সে বিষয়ে জেলা নেতৃত্বকে পথে নেমে নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
8
9
বিধানসভা পরবর্তী রাজনৈতিক আবহে এই পুরভোটকে কেবল কিছু আসন দখলের লড়াই হিসেবে দেখছে না সিপিএম। তৃণমূলের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অসন্তোষ এবং বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সংগঠন মজবুত করা, জনভিত্তি পুনরুদ্ধার এবং সাধারণ মানুষের বিকল্প হিসেবে উঠে আসাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
9
9
তাই পুর পরিষেবা, নাগরিক সমস্যা, মূল্যবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের মতো দৈনন্দিন ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে সরাসরি জনসংযোগ বাড়াতে ইতিমধ্যেই আলিমুদ্দিন থেকে জেলায় জেলায় কড়া বার্তা পাঠানো হয়েছে।