মরুভূমির নীচে আস্ত শহর! মাটির তলার এই রহস্যময় পাতাললোকে ঘুরে আসবেন না কি?
৮ জুন ২০২৬ ১৪ : ৪৭
- 1
- 7
অস্ট্রেলিয়ার রুক্ষ মরুভূমির বুকে এমন এক শহর লুকিয়ে আছে, যেখানে রোদের আলোয় পা না রেখেও আপনি একটি আরামদায়ক বাড়িতে থাকতে পারবেন, চার্চে প্রার্থনা করতে পারবেন, রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া সেরে মিউজিয়ামও ঘুরে আসতে পারবেন। কল্পবিজ্ঞানের গল্প মনে হলেও অবাস্তব নয়। তীব্র গরম থেকে বাঁচতে পুরো শহরটাই গড়ে উঠেছে মাটির নিচে, বেলেপাথরের পাহাড় কেটে। শহরটির নাম কুবের পেডি। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড থেকে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই অদ্ভুত ও বৈচিত্র্যময় শহরটি ওপালের রাজধানী হিসেবে পরিচিত।
- 2
- 7
বাইরে থেকে দেখলে কুবের পেডিকে জনমানবহীন এক লাল মরুভূমি মনে হবে, ঠিক যেন মঙ্গলের পৃষ্ঠদেশ। চারদিকে শুধু খনি খননের ফলে তৈরি হওয়া মাটির ঢিবি আর মাটির নিচ থেকে উঠে আসা অসংখ্য হাওয়া চলাচলের পাইপ। কিন্তু মাটির নিচে পা রাখলেই দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। এখানকার ২৫০০ বাসিন্দার প্রায় অর্ধেকই মাটির নিচের পাহাড় কেটে তৈরি করা বাড়িতে থাকেন, যেগুলোকে বলা হয় 'ডাগআউট'। এসব বাড়ি মোটেও অন্ধকার কোনও গুহা নয়। আধুনিক রান্নাঘর, টাইলস বিছানো মেঝে, ফ্ল্যাট টিভি থেকে শুরু করে হাই-স্পিড ইন্টারনেট—সব সুবিধাই আছে এখানে। মাটির নিচে হওয়ায় এখানকার তাপমাত্রা সারা বছর ২২ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে, ফলে তীব্র গরমেও কোনও এসি-র প্রয়োজন হয় না।
- 3
- 7
১৯১৫ সালে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত ধরে এখানে প্রথম মূল্যবান রত্ন 'ওপাল' আবিষ্কৃত হয়। বর্তমানে এটি বিশ্বের বৃহত্তম ওপাল উৎপাদনকারী অঞ্চল, যা পৃথিবীর প্রায় ৭০ থেকে ৯৫ শতাংশ ওপালের জোগান দেয়। স্থানীয় আদিবাসী কোকাথা-বার্নগার্লা ভাষার শব্দ 'কুপা-পিতি' থেকে এই শহরের নাম হয়েছে, যার অর্থ ‘শ্বেতাঙ্গ মানুষের গর্ত’। বর্তমানে এখানে গ্রিক, ইতালীয়, সার্বিয়ান, চীনা এবং আদিবাসীসহ প্রায় ৫০টিরও বেশি দেশের মানুষ একসাথে মিলেমিশে বাস করছেন।
- 4
- 7
মাটির নিচে থাকার পাশাপাশি এখানকার পুরো জীবনযাত্রাই মাটির নিচে গড়ে উঠেছে। এখানকার সার্বিয়ান অর্থোডক্স চার্চ এবং সেন্ট পিটার অ্যান্ড পল ক্যাথলিক চার্চ দুটি দেখার মতো জায়গা। পাথরের দেয়ালে খোদাই করা সাধুদের মূর্তি আর কৃত্রিম আলোয় আলোকিত রঙিন কাঁচের জানালাগুলো এক শান্ত ও পবিত্র পরিবেশ তৈরি করে। কুবের পেডির ইতিহাস এবং ওপাল কাটার প্রক্রিয়া দেখার জন্য উমুওনা ওপাল মাইনিং ও মিউজিয়াম সেরা জায়গা। এছাড়া 'ওল্ড টাইমার্স মাইন'-এ গিয়ে পুরনো দিনের খনিশ্রমিকদের জীবনযাত্রা দেখা যায়। ফে নামের একজন স্থানীয় বাসিন্দা তাঁর চমৎকারভাবে সাজানো মাটির নিচের বাড়িটি পর্যটকদের পরিদর্শনের জন্য খুলে দিয়েছেন।
- 5
- 7
এখানকার বিনোদন ব্যবস্থাও বেশ অদ্ভুত। কুবের পেডির গলফ কোর্সে কোনও ঘাস নেই, আছে শুধু শক্ত লাল মাটি। দিনের গরমে খেলা অসম্ভব বলে রাতে ফ্লাডলাইটের আলোয় গ্লো-ইন-দ্য-ডার্ক বল দিয়ে গলফ খেলা হয়। এছাড়া ১৯৬৫ সাল থেকে চলে আসা অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম শেষ ওপেন-এয়ার ড্রাইভ-ইন সিনেমা হলটিও এখানে অবস্থিত। এখানকার ল্যান্ডস্কেপ এতটাই অন্যরকম যে হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা 'Mad Max Beyond Thunderdome' (1985) এবং 'The Adventures of Priscilla, Queen of the Desert' (1994)-এর শ্যুটিং এখানেই হয়েছিল।
- 6
- 7
ভারত থেকে এখানে যেতে হলে যেকোনও প্রধান শহরের ওয়ান-স্টপ ফ্লাইটে প্রথমে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে কুবের পেডি যাওয়ার জন্য রেক্স এয়ারলাইন্সের বিমান, স্টুয়ার্ট হাইওয়ে দিয়ে গাড়ি বা গ্রেহাউন্ড বাস অথবা বিখ্যাত 'দ্য ঘান' ট্রেন ব্যবহার করা যায়। ভারতীয় নাগরিক হিসেবে ভ্রমণের জন্য অস্ট্রেলিয়ার স্ট্যান্ডার্ড ট্যুরিস্ট ভিসা (Visitor Visa — Subclass 600) প্রয়োজন, যা অনলাইনে আবেদন করতে হয় এবং প্রসেস হতে ২০ থেকে ৩০ দিন সময় লাগতে পারে।
- 7
- 7











