শেয়ার বাজার থেকে অনেকেই কোটি কোটি টাকা লাভ করেছেন। কিন্তু চিনের বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে কথাটা খাটে না। গত ১৮ বছরে সে দেশের বিনিয়োগকারীরা শূন্য শতাংশ রিটার্ন পেয়েছেন! চিনের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে কোনও লাভের মুখ দেখেননি বিনিয়োগকারীরা।
2
8
চিন নিজেকে আমেরিকার পরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। চিনে বেশ কয়েকটি শেয়ার বাজার রয়েছে। তার মধ্যে আকারের দিক থেকে সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ সবচেয়ে বড়। এর সূচকের নাম সাংহাই কম্পোজিট। এটি এখনও ২০০৭ সালে পড়ে রয়েছে।
3
8
ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, একই ছবি দেখা গিয়েছে হংকং স্টক এক্সচেঞ্জ (হ্যাং সেং সূচক)-এও। ২০২৫ সালের এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী, টেনসেন্ট, আলিবাবা এবং মেইতুয়ানের মতো বড় চিনা সংস্থাগুলি গত ১৮ বছরে কোনও লাভ দেখেনি শেয়ার বাজারে। নামমাত্র রিটার্নেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের।
4
8
তুলনায় আমেরিকার এসঅ্যান্ডপি ৩০০ ২৫০ শতাংশের উপরে বেড়েছে। ভারতের নিফটি ৫০ একই সময়ে প্রায় ৫০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৫ বছরে আমেরিকার শেয়ার বাজার থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্ন পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ভারতে সেই অঙ্কটা প্রায় ১১ শতাংশ। চিনের সাংহাই বা হংকঙের শেয়ার বাজার থেকে মিলছে মাত্র দু’শতাংশ।
5
8
২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চিনের জিডিপি (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট) দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ায় এই পারফরম্যান্স হতাশাজনক। পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং রপ্তানি বৃদ্ধি সত্ত্বেও, শেয়ার বাজারে এই অর্থনৈতিক সাফল্যগুলি প্রতিফলিত হয়নি।
6
8
অতিমারির পর বিশ্বব্যাপী বাজার পুনরুদ্ধারের পরেও, কোভিড-পরবর্তী পতনের পরেও চিনা বাজারগুলি এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। হ্যাং সেং সূচক বর্তমানে ২০২০ সালের বাজারেরও নীচে রয়েছে। ২০১৮ সালে ড্রাগনের বার্ষিক আর্থিক বৃদ্ধির হার ছিল ৬-৮ শতাংশ। ২০২৪ সালে সেটাই কমে ৪.৯ শতাংশে নেমে আসে।
7
8
কিন্তু চিনা শেয়ার বাজারের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের নেপথ্যে একাধিক কারণ খুঁজে পেয়েছেন বিশ্লেষকরা। প্রথম কারণ হিসাবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে দায়ী করেছেন আর্থিক বিশ্লেষকেরা। সাংহাই, শেনজ়েন এবং বেজিং স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত অর্ধেকের বেশি সংস্থাই সরকারি সংস্থা।
8
8
বিশেষজ্ঞদের দাবি, শি জিনপিং সরকার কখনওই ঊর্ধ্বমুখী রাখে না বৃদ্ধির সূচক। বাজারগুলিতে বেশ কয়েকটি বেসরকারি কর্পোরেট রয়েছে। তাদের মুনাফাকেও টেনে শূন্যে নামানোর প্রবণতা আছে সে দেশের সরকারের।