এপ্রিল থেকেই এলপিজি সিলিন্ডার বুকিং এবং দামের ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব যেমন পড়েছে, তেমনই গ্রাহকদের জন্য কিছু নতুন নিয়ম ও সুবিধাও চালু করা হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী—সবাইকেই এই পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
2
8
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হয়েছে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দামে। ১৯ কেজির কমার্শিয়াল এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ১৯৫.৫০ টাকা বেড়েছে। এর ফলে দিল্লিতে এই সিলিন্ডারের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২,০৭৮.৫০ টাকা। পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
3
8
অন্যদিকে, গৃহস্থালির ব্যবহারের ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দামে আপাতত কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। বর্তমানে দিল্লিতে এই সিলিন্ডারের দাম ৯১৩ টাকা রয়েছে। মার্চ মাসে ৬০ টাকা বৃদ্ধির পর এই দাম স্থির রাখা হয়েছে, যা সাধারণ পরিবারের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর।
4
8
তবে ছোট সিলিন্ডার ব্যবহারকারীদের জন্য খরচ বেড়েছে। ৫ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার, যা ‘ছোটু’ নামে পরিচিত, তার দাম ১ এপ্রিল থেকে ৫১ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৭০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যা আগে প্রায় ৬৪৯ টাকার মধ্যে ছিল।
5
8
বুকিং নিয়মেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। আগে এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের ক্ষেত্রে ২১ দিনের একটি ন্যূনতম ব্যবধান ছিল। তবে বর্তমানে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী শহরাঞ্চলে ২৫ দিন এবং গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিন পর নতুন সিলিন্ডার বুক করা যাবে। এই নিয়ম মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে চালু করা হয়েছিল।
6
8
এর পাশাপাশি, সরকার ই-কেওয়াইসি বাধ্যতামূলক করেছে। সব গৃহস্থালির এলপিজি গ্রাহকদের জন্য আধার ভিত্তিক বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ এখন জরুরি। গ্রাহকরা বাড়িতে বসেই তেল বিপণন সংস্থার মোবাইল অ্যাপ এবং আধার ফেসআরডি অ্যাপের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পারবেন। তবে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকরা বছরে একবার ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করলেই যথেষ্ট।
7
8
এছাড়াও এলপিজি বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেমন, এলপিজি এটিএম চালু করার পরিকল্পনা, যাতে গ্রাহকরা ২৪ ঘণ্টা সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে পারেন। পাশাপাশি, শহরাঞ্চলে পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস ব্যবহারের উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে এলপিজি-র ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে।
8
8
সব মিলিয়ে, এপ্রিল ২০২৬-এর এই পরিবর্তনগুলি এলপিজি ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, ডিজিটাল এবং নিয়ন্ত্রিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তবে দাম বৃদ্ধির প্রভাব যে সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে, তা বলাই বাহুল্য। তাই নতুন নিয়ম ও দামের আপডেট সম্পর্কে সচেতন থাকাই এখন সবচেয়ে জরুরি।