ভারতে সিনিয়র সিটিজেনদের আর্থিক নিরাপত্তা দীর্ঘদিন ধরেই নীতিনির্ধারকদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। অবসর-পরবর্তী সময়ে নিয়মিত আয়ের অভাব, ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির চাপ অনেক প্রবীণ নাগরিকের জন্য জীবনযাপনকে কঠিন করে তুলছে।
2
9
এই প্রেক্ষাপটে বাজেট ২০২৬-এ নতুন কর ব্যবস্থার অধীনে সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য বিশেষ আয়কর স্ল্যাব চালুর দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পদক্ষেপ প্রবীণদের আর্থিক স্বস্তি দেওয়ার পাশাপাশি কর ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে পারে।
3
9
বর্তমানে নতুন কর ব্যবস্থায় বয়সভিত্তিক আলাদা কর স্ল্যাব নেই। কর্মরত যুবক এবং অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সিটিজেন—উভয়ের জন্যই একই হারে কর প্রযোজ্য, যদিও পুরনো কর ব্যবস্থায় প্রবীণ নাগরিকরা কিছু অতিরিক্ত ছাড় ও সুবিধা পেয়ে থাকেন।
4
9
এর ফলে অনেক সিনিয়র সিটিজেন নতুন কর ব্যবস্থায় যেতে অনিচ্ছুক, কারণ সেখানে তাদের জন্য আলাদা কোনও কর সুবিধা নেই। সেদিকে দেখা হবে এবারেই।
5
9
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজেট ২০২৬-এ যদি সিনিয়র ও সুপার সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য পৃথক কর স্ল্যাব চালু করা হয়, তাহলে নতুন কর ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।
6
9
উদাহরণস্বরূপ, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো বা নিম্ন আয়ের স্তরে করের হার কমানো হলে অবসরপ্রাপ্তদের হাতে অতিরিক্ত নগদ অর্থ থাকবে, যা দৈনন্দিন খরচ ও চিকিৎসা ব্যয়ে সহায়ক হবে।
7
9
আরেকটি বড় প্রত্যাশা হল স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন ও চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য অতিরিক্ত ছাড়। নতুন কর ব্যবস্থায় সীমিত ছাড়ের কাঠামোর মধ্যেও প্রবীণদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত খরচের কথা বিবেচনা করে বিশেষ সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। এতে সরকার পুরনো ও নতুন—দু’টি কর ব্যবস্থার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবে।
8
9
এছাড়াও, পেনশন ও সুদের আয়ের ওপর কর ছাড় বাড়ানোর দাবিও উঠছে। অনেক সিনিয়র সিটিজেন ব্যাংক এফডি, সেভিংস অ্যাকাউন্ট ও পেনশনের ওপর নির্ভরশীল। এই আয়ের ওপর করের বোঝা কিছুটা হালকা হলে তাদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে।
9
9
কর বিশেষজ্ঞদের ধারণা বাজেট ২০২৬ সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য একটি বড় সুযোগ। নতুন কর ব্যবস্থায় যদি বয়সভিত্তিক ন্যায়সঙ্গত সংস্কার আনা হয়, তাহলে তা শুধু প্রবীণ নাগরিকদের স্বস্তি দেবে না, বরং একটি আরও মানবিক ও বাস্তবসম্মত কর কাঠামো গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।