আগামী ১৫ জানুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনে মহারাষ্ট্রের ২৯টি পুরসভা তাদের নতুন মেয়র নির্বাচন করতে চলেছে। এই নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারতের সবচেয়ে ধনী পৌর সংস্থা, বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি)।
2
11
বিএমসিকে দেশের সবচেয়ে ধনী পুরসভা হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এর আনুমানিক বাজেট ছিল দিল্লি এবং বেঙ্গালুরুর সম্মিলিত বাজেটের দ্বিগুণেরও বেশি। বিএমসি কীভাবে তার রাজস্ব আয় করে এবং কোথায় তা খরচ করে?
3
11
সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএমসি গত অর্থবর্ষে ৫৯,৯৫৪.৭ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছে। যেখানে দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (এমসিডি) এবং বৃহৎ বেঙ্গালুরু মহানগর পালিকে (বিবিএমপি)-এর বাজেট ছিল যথাক্রমে ১৬,৬৮৩ কোটি টাকা এবং ১২,৩৬৯ কোটি টাকা। কলকাতা পুরসভার গত অর্থবর্ষে বছরের বাজেট ছিল মাত্র ৫,১৬৬.৫ কোটি টাকা।
4
11
গত ১০ বছরে বিএমসি-র বাজেট প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৫১ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ব্যয় ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ২০,৫০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এই বছর ৪৪,৫০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
5
11
গত এক দশকে কর্পোরেশনের রাজস্ব ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ অর্থবর্ষে বিএমসি-র রাজস্ব আয় ছিল ৮১,৭৭৪ কোটি টাকা। বিভিন্ন পরিষেবা, লাইসেন্স এবং ব্যবহারের জন্য ধার্য করা ফি রাজস্বের সবচেয়ে বড় উৎস। এর পরেই রয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার থেকে প্রাপ্ত অনুদান ও ভর্তুকি, কর এবং বিনিয়োগ থেকে আয় ও সঞ্চিত তহবিলের উপর সুদ।
6
11
২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিএমসি ফি এবং অন্যান্য চার্জ থেকে ৯৪,৬০০ কোটি টাকা আয় করেছে। যার মধ্যে রয়েছে রেজিস্ট্রেশন ফি, ভর্তি ফি, বিলম্বিত পরিষেবা লাইসেন্স নবীকরণ চার্জ, সুইমিং পুল সংরক্ষণের চার্জ, ভবন ভাঙার চার্জ, বিজ্ঞাপন চার্জ, জলের সংযোগের চার্জ-সহ অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের চার্জ।
7
11
বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের জন্য প্রাপ্ত রাজস্ব অনুদান ও ভর্তুকি এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার পক্ষে প্রদত্ত পরিষেবার বিনিময়ে বিএমসি ৮৬,৭০০ কোটি টাকা আয় করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষএ বিএমসি বান্দ্রা-কুরলা এলাকার রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য মুম্বই মেট্রোপলিটন রিজিওন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (এমএমআরডিএ) কাছ থেকে ৬১.৭ কোটি টাকা আদায় করেছে।
8
11
২০১৬ থেকে ২০২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে মুম্বই নগর কর্তৃপক্ষ রাস্তা কর, থিয়েটার কর, বিদ্যুৎ কর, সম্পত্তি কর, জল কর ইত্যাদির মতো বিভিন্ন কর থেকে ৭৫,৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে।
9
11
রাস্তা, সেতু, পয়ঃনিষ্কাশন লাইন, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, নিরাপত্তা, কর্মচারীদের বেতন ও পেনশন-সহ পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্যই বিএমসি-র আয়ের সিংহভাগ খরচ হয়। গত ১০ বছরে শহরটির রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকীকরণের জন্য সংস্থাটি ১ লক্ষ ১১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে।
10
11
এই সময়ে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রন্থাগারগুলিতে অনুদান এবং বিভিন্ন তহবিল ও প্রকল্পে অবদানের জন্য ১০,৭০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল। একইভাবে, সরকারি পরিকাঠামোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৩৬,৩০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।
11
11
সরকারি নথি অনুযায়ী, শহরটি অডিট, বীমা, আইনি খরচ, বিজ্ঞাপন ও জনসংযোগ, জ্বালানি, ভ্রমণ, পণ্য পরিবহন এবং যানবাহন ইত্যাদির মতো প্রশাসনিক কাজে ৮,৬০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। বিএমসি জনস্বাস্থ্য উদ্যোগের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে। ২০২৫ অর্থবর্ষে তারা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও কীটনাশকের জন্য ৯৯.৫ কোটি টাকা এবং ইঁদুর দমনের জন্য ১২.৮ কোটি টাকা ব্যয় করেছে।