দেশের কোটি কোটি ব্যাঙ্ক গ্রাহকের জন্য বড় স্বস্তির খবর। ব্যাঙ্কে রাখা সঞ্চয়ের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে আমানত বিমার সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র সরকার।
2
10
দ্যা মিন্টের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত যে বিমা সুরক্ষা পাওয়া যায়, তা বাড়িয়ে ৭.৫ লক্ষ টাকা করার প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।
3
10
সূত্রের খবর, অর্থ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠিয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে ব্যাঙ্কে রাখা আমানতের আরও বড় অংশ সুরক্ষিত হবে, যা গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াবে।
4
10
বর্তমানে ভারতের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় কোনও ব্যাঙ্ক আর্থিক সংকটে পড়ে বন্ধ হয়ে গেলে বা দেউলিয়া হলে, একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমা সুরক্ষা পান। এই সুরক্ষার মধ্যে মূল আমানত এবং তার উপর অর্জিত সুদ—দুটিই অন্তর্ভুক্ত থাকে। অর্থাৎ কোনও ব্যক্তির একটি ব্যাঙ্কে একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকলেও মোট ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্তই সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়।
5
10
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্র সরকার আমানত বিমার সীমা ১ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করেছিল। সেই সময় এটি ছিল পাঁচ গুণ বৃদ্ধি। তার আগে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বিমার সীমা অপরিবর্তিত ছিল। এবার আবারও সেই সীমা বাড়ানোর চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে।
6
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে দেশের ব্যাঙ্কিং খাতে একাধিক সংকটের অভিজ্ঞতা সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে পাঞ্জাব অ্যান্ড মহারাষ্ট্র কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক এবং ইয়েস ব্যাঙ্কের মতো প্রতিষ্ঠানে সৃষ্ট সংকট বহু আমানতকারীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। যদিও পরে বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়, তবুও আমানতকারীদের সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
7
10
নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্তদের মতো সঞ্চয়নির্ভর মানুষেরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ তাঁদের অনেকেরই ব্যাঙ্কে ৫ লক্ষ টাকার বেশি আমানত থাকে। বিমা সীমা ৭.৫ লক্ষ টাকা হলে ব্যাঙ্ক ব্যর্থতার ক্ষেত্রে আরও বেশি অর্থ সুরক্ষিত থাকবে।
8
10
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পদক্ষেপ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়াবে। একই সঙ্গে ছোট ও মাঝারি আমানতকারীদের আর্থিক নিরাপত্তাও শক্তিশালী হবে। বর্তমানে দেশের অধিকাংশ ব্যাঙ্ক গ্রাহকের আমানত ৫ লক্ষ টাকার নিচে হলেও, ক্রমবর্ধমান সঞ্চয় এবং মুদ্রাস্ফীতির প্রেক্ষাপটে বিমার সীমা বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠছিল।
9
10
তবে এখনও পর্যন্ত সরকার বা অর্থ মন্ত্রকের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সবুজ সংকেত মিললে আমানত বিমা ও ঋণ গ্যারান্টি কর্পোরেশনের আওতায় নতুন সীমা কার্যকর হতে পারে।
10
10
ব্যাঙ্কিং খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং গ্রাহকদের সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে দেশের কোটি কোটি আমানতকারীর জন্য এটি হতে পারে একটি বড় স্বস্তির খবর।