মহাভারতের দ্রৌপদীই প্রথম ফুচকা বানিয়েছিলেন? কী বলছে ইতিহাস?
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৭ জুলাই ২০২৬ ১৭ : ৪৩
শেয়ার করুন
1
10
ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড ফুচকা (উত্তর ভারতে পানিপুরি, গোলগাপ্পা বা গুপচুপ নামে পরিচিত) নিয়ে একটি মজার গল্প বহু বছর ধরেই প্রচলিত।
2
10
সম্প্রতি সেই দাবিই আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, মহাভারতের দ্রৌপদীই নাকি প্রথম পানিপুরি বা ফুচকা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু এই গল্পের ঐতিহাসিক ভিত্তি কতটা? আসুন জেনে নেওয়া যাক।
3
10
প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, পাণ্ডবদের বনবাসের সময় কুন্তী একদিন দ্রৌপদীকে অল্প কিছু অবশিষ্ট আটা, সামান্য আলু এবং কয়েকটি সাধারণ উপকরণ দিয়ে এমন একটি খাবার তৈরি করতে বলেন, যাতে পাঁচ পাণ্ডবেরই পেট ভরে।
4
10
দ্রৌপদী তখন ছোট ছোট গোল পুরি বানিয়ে তার মধ্যে আলুর পুর ভরে টক-মশলাদার জল দিয়ে পরিবেশন করেন। কুন্তী সেই খাবারে এতটাই খুশি হন যে তিনি দ্রৌপদীকে আশীর্বাদ করেন, এই খাবার একদিন সারা ভারতে জনপ্রিয় হবে।
5
10
গল্পটি শুনতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনই বহু মানুষের কাছে এটি ফুচকার জন্মকাহিনি হিসেবেও পরিচিত। তবে ইতিহাসবিদদের মতে, এই কাহিনির কোনও নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক বা প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ নেই।
6
10
মহাভারতের মূল গ্রন্থেও কোথাও দ্রৌপদীর ফুচকা তৈরির উল্লেখ পাওয়া যায় না। তাই এই ঘটনাকে ঐতিহাসিক সত্য নয়, বরং লোকমুখে প্রচলিত একটি জনপ্রিয় কিংবদন্তি হিসেবেই দেখা হয়।
7
10
খাদ্য ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করা বিশেষজ্ঞদের মতে, পানিপুরি বা ফুচকার উৎপত্তি সম্ভবত ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলে, বিশেষ করে বর্তমান বিহার ও উত্তর প্রদেশের কিছু অঞ্চলে। পরে এই খাবার ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং অঞ্চলভেদে নাম ও স্বাদে পরিবর্তন আসে।
8
10
পশ্চিমবঙ্গে এটি 'ফুচকা', দিল্লিতে 'গোলগাপ্পা', মহারাষ্ট্রে 'পানিপুরি' এবং ওডিশা-ছত্তীসগঢ়ে 'গুপচুপ' নামে পরিচিত। আজকের দিনে ফুচকারও রয়েছে নানা রূপ।
9
10
আলুর পুরের পাশাপাশি ছোলা, মটর, অঙ্কুরিত ডাল, এমনকি চকোলেট, দই, চিজ বা অ্যাভোকাডো দিয়েও তৈরি হচ্ছে আধুনিক সংস্করণ। তবুও টক-ঝাল-তেঁতুলের জলে ভরা ঐতিহ্যবাহী ফুচকার জনপ্রিয়তা এতটুকুও কমেনি।
10
10
অর্থাৎ, দ্রৌপদী ফুচকা আবিষ্কার করেছিলেন—এমন দাবির পক্ষে কোনও ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। তবে এই লোককাহিনি ভারতীয় খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কল্পনা, ঐতিহ্য এবং গল্প বলার এক সুন্দর উদাহরণ। ইতিহাসের নিরিখে এটি সত্য না হলেও, ফুচকাপ্রেমীদের কাছে গল্পটি আজও সমান আকর্ষণীয় এবং চর্চিত।