২০২৭ সালে কি কিছু মানুষের মধ্যে দেখা যাবে ‘সুপারহিউম্যান’ ক্ষমতা? বুলগেরিয়ার রহস্যময় ভবিষ্যদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গার নাম করে ছড়িয়ে পড়া এক নতুন দাবিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এমনই জল্পনা।
2
11
তাঁর অনুগামীদের দাবি, ২০২৭ সালে কোনও রহস্যময় রোগ অথবা জিনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলে অল্প কিছু মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় অস্বাভাবিক ক্ষমতা তৈরি হতে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে এখনও কোনও প্রামাণ্য নথি নেই।
3
11
বাবা ভাঙ্গা ১৯৯৬ সালে মারা যান। তাঁর নামে বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণী প্রচারিত হয়েছে।
4
11
কোভিড-১৯ অতিমারি, ৯/১১ হামলা এবং প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর মতো ঘটনাও তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এসব ভবিষ্যদ্বাণীর অনেকগুলিরই কোনও নির্ভরযোগ্য মূল নথি বা লিখিত রেকর্ড পাওয়া যায় না। ফলে ২০২৭ সালের ‘সুপারহিউম্যান’ দাবিটিও যে সত্যিই বাবা ভাঙ্গা করেছিলেন, তার কোনও নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
5
11
প্রচলিত দাবিতে বলা হচ্ছে, কোনও অজানা রোগ অথবা জেনেটিক পরীক্ষার প্রভাবে একদল মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। তবে তাঁদের মধ্যে মাত্র কয়েকজনের শরীরে তৈরি হবে অস্বাভাবিক ক্ষমতা।
6
11
সেই ক্ষমতা ঠিক কী ধরনের হবে—অতিরিক্ত শারীরিক শক্তি, দ্রুত আরোগ্য, অসাধারণ স্মৃতিশক্তি নাকি অন্য কোনও বৈশিষ্ট্য—তা নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই। কোথায় বা কীভাবে এমন ঘটনা ঘটবে, সেই বিষয়েও কোনও ব্যাখ্যা নেই।
7
11
অবশ্য জিনগত গবেষণা নিয়ে বাস্তব বিজ্ঞানও দ্রুত এগোচ্ছে। জিন এডিটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসার সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে।
8
11
কিন্তু বর্তমানে কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই যে কোনও রোগ বা জেনেটিক পরীক্ষা মানুষের মধ্যে সিনেমার মতো ‘সুপারপাওয়ার’ তৈরি করতে পারে। তাই এই দাবিকে আপাতত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবেই দেখা হচ্ছে, বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস হিসেবে নয়।
9
11
বাবা ভাঙ্গার নামে ২০২৬ সালকে ঘিরেও বেশ কিছু ভবিষ্যদ্বাণী প্রচারিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বড় ধরনের যুদ্ধ, ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব এবং ভিনগ্রহের প্রাণীর সঙ্গে যোগাযোগের দাবি।
10
11
বিশেষ করে নভেম্বর ২০২৬-এ একটি বিশাল মহাকাশযান পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে এবং মানুষের সঙ্গে এলিয়েনদের যোগাযোগ হতে পারে—এমন দাবিও ছড়িয়েছে। তবে এই ভবিষ্যদ্বাণীরও কোনও যাচাইযোগ্য মূল নথি নেই।
11
11
ফলে ২০২৭-এর ‘সুপারহিউম্যান’ দাবি যতই চমকপ্রদ হোক, সেটিকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখার মতো প্রমাণ এখনও নেই। বরং বাবা ভাঙ্গার নামে ছড়িয়ে পড়া ভবিষ্যদ্বাণীগুলির উৎস ও সত্যতা যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।