রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে আলোচনার বিষয় একটাই। অন্নপূর্ণা যোজনা। গত বুধবার এর ফর্ম প্রকাশিত হওয়ার পরে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। কীভাবে ফর্ম পূরণ করে, কোথায় জমা দেওয়া যাবে, তা জানতে ইচ্ছুক সকলেই।
2
11
১৩ পাতার ফর্মে অনেক বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। রাজ্যের দাবি, এই তথ্যের মাধ্যমে অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের অনুদান দিতে সুবিধা হবে। প্রথমে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছিল যে যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান, তাঁরাই অন্নপূর্ণার টাকা পাবেন।
3
11
কিন্তু ফর্ম প্রকাশের পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সকলকেই ফর্ম ফিলাপ করতে কারণ। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপকের তালিকায় অনেক বেনোজল ঢুকে রয়েছে। স্বচ্ছ প্রাপকের তালিকা তৈরি করতে হবে। তৃণমূল আমলে কত মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন?
4
11
২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের পরে রাজ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু করে তৃণমূল সরকার। প্রথমে দেওয়া হত প্রতি মাসে ৫০০ টাকা। ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের আগে সেই অনুদান বেড়ে দাঁড়ায় ১০০০ টাকা। তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতিভুক্ত মহিলারা মাসে ১২০০ টাকা পেতেন।
5
11
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আরও ৫০০ টাকা বাড়ানো হয়। তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতিভুক্ত মহিলারা মাসে ১৭০০ টাকা করে পান। অন্য মহিলারা মাসে ১৫০০ টাকা করে পান। সরকারি চাকুরিজীবী মহিলার এই প্রকল্পের টাকা পেতেন না।
6
11
ফেব্রুয়ারি মাসে অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের সময় অর্থ দপ্তরের প্রাক্তন স্বাধীন দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন রাজ্যে ২ কোটি ২১ লক্ষ মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পান। এর জন্য গত অর্থবর্ষে রাজ্য সরকারের ১৭০৬৩ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।
7
11
চন্দ্রিমা আরও জানিয়েছিলেন, প্রায় ২১ লক্ষ মহিলার নাম নতুন করে এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৪২ লক্ষ। ফেব্রুয়ারি থেকে অনুদান ৫০০ টাকা বাড়ানো হয়। তখন ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে অতিরিক্ত ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব পেশ করেছিলেন।
8
11
ক্ষমতা বদলের পরে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন যে, মহিলাদের জন্য বরাদ্দ টাকা পুরুষদের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে। নাম-ঠিকানা সহ প্রমাণও দিয়েছেন তিনি। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা এরকম অভিযোগও সামনে এসেছে।
9
11
এই ধরণের বেনোজল বাদ দিতেই সকলকে ফর্ম ফিলাপ করতে বলা হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। মুখ্যমন্ত্রী গত বুধবার দাবি করেছেন, এরকম প্রায় ৩০ লক্ষ নাম বাদ যাবে। এই সব নাম বাদ দিয়েই স্বচ্ছ প্রাপকের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
10
11
১ জুন থেকে এনরোলমেন্টের কাজ শুরু হবে। ৯০ দিন চলবে এই প্রক্রিয়া। ৩ জুন পর্যন্ত যাঁদের নাম নথিভুক্ত হয়ে যাবে, আপাতত তাঁদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া শুরু করবে রাজ্য।
11
11
ধাপে ধাপে নাম নথিভুক্ত করা হবে। প্রতি সপ্তাহে নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়ে দেবেন মোট কত নাম নথিভুক্ত হল। এবার যদি ৩০ লক্ষ নাম যদি বাদ যায় তাহলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের প্রাপকের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ২.১ কোটি। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বিস্তারিত তথ্য পেলেই জানা যাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের প্রাপক সংখ্যা ঠিক কত।