পিঠ খোলা গাউন পরতে রাজি ছিলেন না ঐশ্বর্য, নায়িকার কাণ্ড দেখে এ কী করেছিলেন ডিজাইনার?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১০ মার্চ ২০২৬ ১১ : ২৫
শেয়ার করুন
1
10
ঐশ্বর্য রাই বচ্চন, নামটাই যথেষ্ট যেকোনও সিনেমাপ্রেমীর হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। বিশ্বসুন্দরীর খেতাব জয়ের পর থেকে দীর্ঘ তিন দশক ধরে তিনি আরব সাগরের তীরের রূপোলি দুনিয়া শাসন করছেন। তবে তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা যে কেবল গ্ল্যামার আর আলোর রোশনাই দিয়ে ঘেরা ছিল, তা নয়।
2
10
তাঁর কেরিয়ারের শুরুর দিকে অনেক কঠোর অনুশাসন এবং পারিবারিক মূল্যবোধের সাথে আপস করতে হয়েছিল তাঁকে। সম্প্রতি বলিউডের খ্যাতনামা ফ্যাশন ডিজাইনার অ্যাশলে রেবেলোর একটি সাক্ষাৎকার থেকে উঠে এসেছে এমনই এক অজানা তথ্য।
3
10
অ্যাশলের কথায়, নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে বা ২০০০ সালের শুরুর দিকে ঐশ্বর্য যখন কেরিয়ারের মধ্যগগনে, তখন তিনি তাঁর পোশাক নির্বাচনের ব্যাপারে ভীষণ সচেতন ছিলেন। বিশেষ করে ‘ব্যাকলেস’ বা পিঠ খোলা পোশাক পরার ক্ষেত্রে তাঁর প্রবল অনীহা ছিল।
4
10
ডিজাইনার জানান, এর প্রধান কারণ ছিল তাঁর মা বৃন্দা রাই। ঐশ্বর্য বরাবরই তাঁর মায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং মায়ের মতামতকে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন। বৃন্দা দেবী মনে করতেন, অতিরিক্ত খোলামেলা বা শরীর প্রদর্শনকারী পোশাক ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী এবং তা ঐশ্বর্যর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই নয়।
5
10
মায়ের এই আপত্তির কথা মাথা পেতে নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। অনেক বড় বড় প্রজেক্ট বা ম্যাগাজিন শুটের ক্ষেত্রেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিতেন যে, খুব বেশি উন্মুক্ত পোশাকে তিনি সাবলীল নন।
6
10
অ্যাশলে আরও জানান যে, একটি শুটিংয়ের সময় ঐশ্বর্যর জন্য একটি পিঠ খোলা গাউন তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু পোশাকটি দেখার পর ঐশ্বর্য দ্বিধায় পড়ে যান। তিনি সরাসরি ডিজাইনারকে জানান, তাঁর মা এটি দেখলে পছন্দ করবেন না এবং এটি তাঁর কাছে খুব বেশি ‘রিভিলিং’ বা শরীর প্রদর্শনকারী মনে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সেই পোশাকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে তবেই তিনি শুট করেছিলেন।
7
10
ঐশ্বর্য যখন ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন, তখন রেবেলো তাঁর জন্য প্রায় ২০টি শাড়ি ডিজাইন করেছিলেন।
8
10
তিনি বলেন, “মিস ওয়ার্ল্ডে যাওয়ার সময় আমি ওকে অন্তত ২০টি শাড়ি দিয়েছিলাম। গোলাপি, হলুদ, নীল, কালো, সাদা এবং লালের মতো বিভিন্ন রঙের শিফন শাড়ি তৈরি করে দিয়েছিলাম ওকে। সেই সঙ্গে আমি প্রচুর চুড়ি আর শাড়ির সাথে মানানসই টিপও দিয়েছিলাম। ওকে বলেছিলাম, প্রতিদিন ব্রেকফাস্ট টেবিলে যেন ও একটা নতুন শাড়ি পরে যায়।”
9
10
রেবেলোর সেই পরামর্শ এক অভাবনীয় সাড়া ফেলেছিল। কিছুদিন পর প্রতিযোগিতা চলাকালীন ঐশ্বর্য তাঁকে ফোন করে বলেন, “আপনাকে বোঝাতে পারব না, প্রতিদিন সকালে সবাই শুধু এই অপেক্ষায় থাকে যে আজ আমি কোন রঙের শাড়ি পরব। সবাই আমার কাছে টিপ আর চুড়ি চাইছে—আমার সব টিপ আর চুড়ি শেষ হয়ে গিয়েছে! মা আসছেন ওখানে, তাঁর হাত দিয়ে দয়া করে আরও কিছু পাঠিয়ে দেবেন।”
10
10
এই ঘটনাটি মনে করে রেবেলো বলেন, “ঠিক তখনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, ও শুধু দেখতেই সুন্দরী নয়, মানুষ হিসেবেও ও অসাধারণ।”