পাহাড়ের অন্ধকারে একের পর এক রাত কেটে যাচ্ছিল। হাতে ছিল ক্যামেরা, চোখ ছিল জঙ্গলের পথের দিকে। লক্ষ্য একটাই—একটি অচেনা সাপকে খুঁজে বের করা। এক-দু’দিন নয়, টানা ৪০টিরও বেশি রাত পাহাড়ে ঘুরেছেন ১৭ বছরের এক কিশোর।
2
11
শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই জেদই এনে দিল বড়সড় সাফল্য। তাঁর খুঁজে পাওয়া সাপকে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন সেটি একটি নতুন প্রজাতির। ঘটনাটি চিনের ঝেজিয়াং প্রদেশের কুওচাং পাহাড়ের।
3
11
২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর সেখানে সমীক্ষা চালানোর সময় ঝেজিয়াং ফরেস্ট রিসোর্সেস মনিটরিং সেন্টারের ঝোউ জিয়াজুন এবং স্থানীয় বন্যপ্রাণপ্রেমী চেন হাওজুন একটি অদ্ভুত সাপের অসম্পূর্ণ দেহাবশেষ দেখতে পান। সাপটির গায়ের রং ছিল বাদামি থেকে গাঢ় বাদামি।
4
11
পরিচিত কোনও প্রজাতির সঙ্গে সেটির মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু দেহাবশেষ অসম্পূর্ণ হওয়ায় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছিলেন না, তাঁরা আসলে কী পেয়েছেন। প্রয়োজন ছিল একটি সম্পূর্ণ নমুনার।
5
11
এই অচেনা সাপের কথা জানতে পারেন ১৭ বছরের হু জিয়াহাও। ছোটবেলা থেকেই বন্যপ্রাণী নিয়ে তাঁর আগ্রহ। অবসর পেলেই পাহাড়ে ঘুরে ছবি তোলা এবং প্রাণীদের পর্যবেক্ষণ করতেন তিনি। অনলাইন একটি বিজ্ঞান সম্প্রদায়ের মাধ্যমে ঝোউ জিয়াজুনের সঙ্গে যোগাযোগও করেন হু। এরপর শুরু হয় তাঁর অদ্ভুত এক অভিযান।
6
11
২০২৫ সালের গ্রীষ্মে পড়াশোনা শেষ করে প্রায় ৪০টিরও বেশি রাত কুওচাং পাহাড়ে তল্লাশি চালান হু। তাঁকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। প্রথম দিকে তাঁর সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। তবে হাল ছাড়েননি তিনি।
7
11
প্রথমে তাঁর ধারণা ছিল, বৃষ্টির রাতে সাপটি বেশি সক্রিয় থাকবে। তাই বৃষ্টির রাতেই বেশি খোঁজ চালাতেন। কিন্তু বারবার খালি হাতে ফিরতে হয়। এরপর নিজের কৌশল বদলে ফেলেন হু। শুরু করেন পরিষ্কার রাতের অভিযান। আর সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত বদলে দেয় গোটা গল্প।
8
11
২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট পাহাড় থেকে নামার সময় হঠাৎ রাস্তা পার হতে দেখা যায় একটি সরু সাপকে। হু বুঝতে পারেন, এটাই সম্ভবত সেই অচেনা প্রাণীটির খোঁজ, যার জন্য এত রাত পাহাড়ে কাটিয়েছেন তিনি। সাপটি ছিল একটি পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৩৩২ মিলিমিটার। পরে সেটিকেই নতুন প্রজাতির আনুষ্ঠানিক নমুনা বা হোলোটাইপ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
9
11
কিন্তু এখানেই অভিযান শেষ হয়নি। পরের দুই মাসেও হু আরও চারটি নমুনা খুঁজে পান। সব মিলিয়ে গবেষকদের হাতে আসে এমন পর্যাপ্ত উপাদান, যার ভিত্তিতে সাপটির শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও জিনগত গঠন বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়।
10
11
গবেষণায় দেখা যায়, সাপটির মাইটোকন্ড্রিয়াল সিওআই জিন তার নিকটতম পরিচিত আত্মীয়দের থেকে প্রায় ৯.৫ থেকে ১০.৯ শতাংশ আলাদা। শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং জিনগত পার্থক্য, দুই দিক থেকেই সেটি স্বতন্ত্র। ফলে বিজ্ঞানীরা এটিকে নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
11
11
নতুন সাপটির বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে আচালিনাস মিরাবিলিস। এর প্রস্তাবিত ইংরেজি সাধারণ নাম কুওচ্যাঙ মাউন্টেন অড স্কেলড স্নেক। এই সংক্রান্ত গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জুসিস্টেমেটিকস অ্যান্ড ইভোলিউশন জার্নালে।