কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বহুল প্রতীক্ষিত অষ্টম বেতন কমিশন নিজেদের সুপারিশ তৈরির আগে বিভিন্ন রাজ্যে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছে। বেতন বৃদ্ধি, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, ভাতা, পেনশন কাঠামো এবং অন্যান্য পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কর্মচারী সংগঠন, ইউনিয়ন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মতামত সংগ্রহ করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।
2
12
কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই। সদস্য-সচিব হিসেবে রয়েছেন প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক পঙ্কজ জৈন এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক পুলক ঘোষ।
3
12
অষ্টম বেতন কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, প্রথমে উত্তরপ্রদেশের লখনউতে ২২ ও ২৩ জুন বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে অংশ নিতে আগ্রহী সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছে।
4
12
এরপর ওড়িশার ভুবনেশ্বরে ৬ ও ৭ জুলাই কর্মচারী প্রতিনিধি, ইউনিয়ন এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করবে কমিশন।
5
12
সবশেষে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ৯ ও ১০ জুলাই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এখানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী সংগঠন, পেনশনভোগী প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতামত নেওয়া হবে। এই বৈঠকের জন্যও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাপয়েন্টমেন্টের আবেদন জমা দিতে হবে।
6
12
প্রতি ১০ বছর অন্তর কেন্দ্র সরকার নতুন বেতন কমিশন গঠন করে। অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশে উপকৃত হবেন প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, যার মধ্যে প্রতিরক্ষা কর্মীরাও রয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ৬৫ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি পেনশনভোগী, প্রতিরক্ষা বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মীসহ, এই কমিশনের সুপারিশের আওতায় আসবেন।
7
12
এছাড়া অল ইন্ডিয়া সার্ভিসের আধিকারিক, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কর্মচারী, প্রতিরক্ষা বাহিনী, ভারতীয় অডিট ও অ্যাকাউন্টস বিভাগের কর্মী, সংসদীয় আইনে গঠিত বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মী, সুপ্রিম কোর্ট ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অধীন হাইকোর্টের কর্মী, অধস্তন আদালতের বিচার বিভাগীয় আধিকারিক এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও দফতরের কর্মীরাও এই কমিশনের আওতায় পড়বেন।
8
12
কমিশন ইতিমধ্যেই বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি, মন্ত্রক, পেনশনভোগী সংগঠন এবং কেন্দ্রীয় সরকারি দফতরের কাছ থেকে স্মারকলিপি ও প্রস্তাব গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মার্চ মাসে এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর একাধিকবার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে, যাতে আরও বেশি সংখ্যক স্টেকহোল্ডার তাঁদের মতামত জমা দিতে পারেন।
9
12
প্রাপ্ত তথ্য ও সুপারিশ বিশ্লেষণ করে কমিশন ভবিষ্যতের বেতন কাঠামো, ভাতা, পেনশন নির্ধারণের পদ্ধতি এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সম্পর্কে চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করবে।
10
12
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর কমিশন গঠনের প্রায় ১৮ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা। সেই হিসেবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা পড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
11
12
তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, বেতন কমিশনের সুপারিশ জমা পড়ার পর তা কার্যকর হতে আরও ২ থেকে ৩ বছর সময় লাগতে পারে।
12
12
ফলে ২০২৭ সালে সুপারিশ প্রকাশিত হলেও নতুন বেতন কাঠামো সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হতে ২০২৯ বা ২০৩০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। তাই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের নজর এখন অষ্টম বেতন কমিশনের আসন্ন বৈঠক এবং ভবিষ্যৎ সুপারিশের দিকেই।