অষ্টম বেতন কমিশন ঘিরে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে। এরই মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশনের সুপারিশ করা ‘৩,৪৯০ ক্যালোরি ফর্মুলা’।
2
12
এই নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি কর্মীদের ন্যূনতম বেতন নির্ধারণে শুধুমাত্র মূল্যবৃদ্ধি নয়, বরং একজন ব্যক্তির দৈনন্দিন পুষ্টিগত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
3
12
ন্যাশনাল কাউন্সিল জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি তাদের স্মারকলিপিতে জানিয়েছে যে, এতদিন যে ক্যালোরি ভিত্তিক হিসাব ব্যবহার করা হত, তা বর্তমান সময়ের জন্য আর যথেষ্ট নয়।
4
12
একজন কর্মীর জন্য দৈনিক প্রায় ২,৭০০ ক্যালোরির চাহিদা ধরে বেতন নির্ধারণের হিসাব করা হত। কিন্তু বর্তমান জীবনযাত্রা, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নতুন গবেষণার ভিত্তিতে সেই মডেলকে ‘অপ্রচলিত’ বলে মনে করা হচ্ছে।
5
12
সর্বশেষ খাদ্য নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন মানুষের ক্যালোরির প্রয়োজন তার শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রার উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ যাঁরা অধিক পরিশ্রম করেন, তাঁদের শক্তির চাহিদা বেশি।
6
12
সেই কারণেই নতুন প্রস্তাবে খাদ্যশস্য, দুধ, শাকসবজি, ডাল, তেল এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর খরচকে বিবেচনায় এনে দৈনিক মোট ৩,৪৯০ ক্যালোরির খাদ্যচাহিদা পূরণের ব্যয় হিসাব করার কথা বলা হয়েছে।
7
12
এই ফর্মুলার মূল লক্ষ্য হল বাস্তব জীবনের জীবনযাত্রার ব্যয়কে বেতনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা। সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনগুলির দাবি, বর্তমান ন্যূনতম বেতন ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে কর্মীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমছে।
8
12
অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ ফেডারেশন তাদের স্মারকলিপিতেও খাদ্য ও জীবনযাত্রার খরচের ভিত্তিতে বেতন পুনর্নির্ধারণের দাবি তুলেছে।
9
12
সংগঠনটির প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ‘কনজাম্পশন ইউনিট’-এর জন্য ৬,০০০ টাকা ভাতা নির্ধারণ করা উচিত। পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের জন্য সেই হিসেবে ন্যূনতম মাসিক আয় হওয়া উচিত ৩০,০০০ টাকা।
10
12
উল্লেখযোগ্যভাবে, অষ্টম বেতন কমিশন বিভিন্ন কর্মী সংগঠন, প্রতিনিধি এবং অংশীদারদের কাছ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত মতামত ও স্মারকলিপি আহ্বান করেছে। ২০২৬ সালের ৫ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। প্রথমে ৩০ এপ্রিল, পরে ৩১ মে পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হয় এবং বর্তমানে তা জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে।
11
12
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কমিশন ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে তার চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দিতে পারে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, সুপারিশ প্রকাশের পর তা বাস্তবায়নে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগে। ফলে ২০২৭ সালে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা হলেও তার পূর্ণ সুবিধা সরকারি কর্মচারীরা ২০২৯ বা ২০৩০ সালের আগে নাও পেতে পারেন।
12
12
তবুও ৩,৪৯০ ক্যালোরি ফর্মুলা নিয়ে নতুন আলোচনা সরকারি কর্মীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। কারণ এই পদ্ধতি কার্যকর হলে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণে বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।