৩৭০ টাকার বিরিয়ানির বিনিময়ে তরুণীর ‘সম্মতি’ ও ‘উশুল’ করার নোংরা গল্প শোনানো গুরুগ্রামের যুবক হিমাংশু জাংরা ইতিমধ্যেই চাকরি খুইয়েছেন। কিন্তু এই ঘটনায় সমানভাবে নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েছেন স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান প্রণীত মোরে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে সস্তার পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাকে চ্যালেঞ্জ করার বদলে তাতে হাততালি দেওয়া, হেসে ‘পিক গুরগাঁও কনটেন্ট’ বলা এবং সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করার অপরাধে প্রণীতের ওপর ফুঁসছে নেটপাড়া।
যদিও বিতর্কের মুখে পড়ে প্রণীত মোরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি লিখিত ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি লিখেছেন— “আমি সমালোচনার ভিডিওগুলো দেখেছি। ওই দর্শকের মন্তব্য কোনওভাবেই আমার দৃষ্টিভঙ্গি নয়। এখন পিছন ফিরে তাকালে মনে হচ্ছে, ওই মন্তব্যে হাসাহাসি না করে আমার তখনই ওঁর প্রতিবাদ করা উচিত ছিল।” তবে এই ক্ষমাপ্রার্থনাতেও চিঁড়ে ভিজছে না। টলিউড থেকে বলিউড— বহু তারকা ও ইনফ্লুয়েন্সার প্রণীতের এই ‘সহযোগিতা’ বা অপরাধকে রসিকতা হিসেবে প্রচার করার মানসিকতাকে ধিক্কার জানাচ্ছেন।
আর এই চরম বিতর্কের মাঝেই সমাজমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়ে উঠেছে গত বছরের ‘বিগ বস ১৯’ -এর একটি পুরনো ভিডিও। যেখানে খোদ বলিউড সুলতান সলমন খান এই প্রনীত মোরে-কে ওঁর সস্তা ও ‘বিলো দ্য বেল্ট’ কমেডি নিয়ে প্রকাশ্যেই চরম ওয়ার্নিং বা ধমক দিয়েছিলেন।
গত বছর ‘বিগ বস ১৯’-এর ঘরে প্রতিযোগী হিসেবে এন্ট্রি নিয়েছিলেন প্রণীত মোরে। কিন্তু শো-তে ঢোকার আগে সলমন খানের ব্যক্তিগত জীবন, ওঁর পানভেল ফার্মহাউস এবং ওঁর পুরোনো আইনি মামলাগুলো নিয়ে মঞ্চে প্রচুর সস্তা ‘পাঞ্চলাইন’ ও মস্করা করেছিলেন প্রনীত।
‘উইকেন্ড কা বার’ পর্বে সলমন খোদ প্রণীতের এই সমস্ত কীর্তি নিয়ে ওঁর ক্লাস নেন। প্রণীত যখন ভয়ে ভয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে বলেন— “যা হয়ে গিয়েছে তা ভুলে যান স্যার”, তখন সলমন ওঁকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছিলেন, “আমি ছেড়ে দিচ্ছি, কিন্তু একটা কথা মাথায় রেখো— যখন কোনও মানুষ নিরাপদ দূরত্বে থাকে, তখন ওঁর সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলা বা মস্করা করা খুব সহজ। তাই আমার বা অন্য কারও সম্পর্কে তুমি যা যা বলেছ, সেগুলো নিয়ে একটু ভাবো। তুমি যদি আমার জায়গায় থাকতে আর আমি যদি ওইখানে থাকতাম, তোমার কেমন লাগত? আমার নামে পাঞ্চলাইন বানিয়ে রুজি-রুটি চালানো তোমার কাজ ছিল, তুমি করেছ।”
সলমন খান অবশ্য এখানেই থামেননি। কমেডির নামে সস্তা, চটুল ইয়ার্কি আর প্রকৃত রসবোধের ফারাক বোঝাতে তিনি বলিউডের প্রথম সারির কমেডিয়ানদের উদাহরণ টেনে প্রণীতকে বুঝিয়েছিলেন।
সলমন বলেছিলেন, “আমার নাম ব্যবহার করে তুমি ঠিক বা ভুল যেভাবেই টাকা উপার্জন করো না কেন, আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কপিল শর্মা, ক্রুষ্ণা অভিষেক কিংবা কিকু শার্দা-ও আছেন। ওঁরাও দুর্দান্ত কমেডি করেন, কিন্তু ওঁদের কমেডি করার একটা স্ট্যান্ডার্ড আছে, ওঁরা কোনওদিন এই ধরণের ‘ব্যক্তিগত পর্যায়ের’ নোংরা রসিকতা করেন না। নিজের নাম বড় করার জন্য যা বলতে হয় বলো, কিন্তু এই বিগ বসের ঘরে ভালো করে খেলো। এখানে কোনও নোংরামি করো না। কারণ তুমি যদি বেল্টের নিচে আঘাত করো, তবে বাকিরাও করবে। আর ওঁরা কিন্তু আমার মতো এত উদার বা বুঝদার হবে না।”
বিগ বসের ঘরে সলমন খানের দেওয়া সেই সতর্কবার্তা যেন আজ ২০২৬ সালে এসে অক্ষরে অক্ষরে সত্যি প্রমাণিত হল। সলমন স্পষ্ট বুঝিয়েছিলেন যে, চটপট জনপ্রিয়তা বা সস্তার হাততালি পাওয়ার জন্য যা খুশি তাই নিয়ে রসিকতা করা এক দিন বিপদে ফেলতে পারে। আজ ঠিক সেটাই ঘটল প্রণীতের সঙ্গে। একজন নারীর সম্মান ও হেনস্থার গল্পকে স্রেফ ‘কনটেন্ট’ মনে করে আজ নিজের কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে এই কমেডিয়ান।















