মঞ্চে মাইক হাতে দাঁড়ানো মানেই এক অবিসংবাদিত শক্তির বিস্ফোরণ। যাঁর একক কন্ঠস্বর ও জাদুকরী উপস্থিতিতে চোখের পলকে কেঁপে ওঠে যে কোনও লাইভ কনসার্ট, সেই ঊষা উত্থুপের মনেও নাকি লুকিয়ে রয়েছে এক অদ্ভুত ও গভীর ভয়! সম্প্রতি ‘আজকাল ডট ইন’-এর মুখোমুখি হয়ে নিজের সুদীর্ঘ কেরিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন ও কেনিয়ার নানা রঙিন স্মৃতির রোমন্থন করার ফাঁকেই কিংবদন্তি এই শিল্পী ফাঁস করলেন তাঁর জীবনের এমন এক সত্যি, যা শুনলে অবাক হতে হয়।

দীর্ঘ ৫৭ বছর ধরে সেলুলয়েড থেকে স্টেজ—সব মাধ্যমেই যিনি রাজত্ব করে চলেছেন, তাঁর গলায় আত্মবিশ্বাসের অভাব কে দেখবে? কিন্তু ঊষা উত্থুপ নিজেই স্বীকার করেছেন যে, মঞ্চে পারফরম্যান্স শুরু হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর বুক কাঁপতে থাকে। ভীষণরকম নার্ভাসনেস ঘিরে ধরে তাঁকে।

এই অদ্ভুত ভয়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শিল্পী বলেন , "মানুষ আমাকে দেখে ভাবে আমার প্রচুর আত্মবিশ্বাস, বেশ শক্তপোক্ত ব্যক্তিত্ব...কিন্তু বিশ্বাস করুন মঞ্চে ওঠার আগে আজও আমার ভয় লাগে। ভীষণ নার্ভাস হয়ে যাই। মনে হতে থাকে, গতকাল দর্শক আমাকে যা ভালবাসা দিয়েছেন আজ কি তাঁর থেকে কম ভালবাসবেন না কি বেশি ভালবাসবেন? পারফরম্যান্স কোনও ত্রুটিবিচ্যুতি হবে না তো?  আজ কি শেষ পর্যন্ত ভাল করে গাইতে পারব মঞ্চে? মাথায় কিন্তু চলতেই থাকে এসব। এই বিষয়টি কিন্তু এইজন্য নয় যে ৫৭ বছর ধরে গেয়ে চলেছি বলে। দু'বছর ধরে গাইলেও এই ভয়টা আমি পেতাম। তবে আজকাল একটু বেশি-ই ভয় পাই..." বলতে বলতে স্মিত হাসি ফুটে ওঠে তাঁর ঠোঁটের কোণায়।  


এর পাশাপাশি ঊষা উত্থুপ স্পষ্ট করে জানালেন, কেরিয়ারের দিক থেকে দেখলে এই প্রজন্মে নয় বরং সেকালে জন্মানোটাই তাঁর জন্য একেবারে পারফেক্ট ছিল। কীরকম? সে জবাবও দিয়েছেন তিনি নিজেই – “আগের প্রজন্ম থেকে এই প্রজন্মের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সফরটি আমার কাছে আশীর্বাদের মতোই। কারণ সেকাল থেকে একালে...কেরিয়ারের এই লম্বা সময়টা জুড়ে গানে-সুরে অনেক কিছু ট্রাই করতে পেরেছি। আর প্রাসঙ্গিক থাকতে পেরেছি। আমার মনে হয়, প্রাসঙ্গিক থাকাটা ভীষণ জরুরি। তরুণ সমাজের কাছে প্রাসঙ্গিক থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।” বলতে বলতে হাসি ফুটে ওঠে তাঁর চোখেমুখে। 

এমনকি জেন-জি’দের কোথাও উঠে আসে তাঁর মুখে। নয়া প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের তারিফ করে বর্ষীয়ান শিল্পী বলে ওঠেন, “আহা! আজকের আমাদের এই তরুণ প্রজন্ম কী দারুণ। আর আমি জানি, আমার প্রতি ওঁদের বিশ্বাস আছে কারণ ওঁদের আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি।শুনে রাখুন, ওঁদের ছাড়া আমরা কিচ্ছু নয়! কিচ্ছু নয়। ওঁদের ছাড়া আমাদের থেকে লাভটাই বা কী? আর জানেন তো, তরুণ প্রজন্মকে সঠিক দিশা দেখানোর দায় কিন্তু আমাদের উপরেই বর্তায়।”