জনপ্রিয় স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান বীর দাস তাঁর বিতর্কিত ‘টু ইন্ডিয়া’ শো এবং কমেডি-বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন এক পডকাস্টে। ২০২১ সালে ওয়াশিংটনের জন এফ কেনেডি সেন্টারে ওই পারফরম্যান্সের পর যে তুমুল বিতর্কের ঝড় উঠেছিল, তার জেরে তাঁর কেরিয়ার কীভাবে প্রায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং টানা দু’বছর তাঁকে ও তাঁর স্ত্রী শিবানী মাথুরকে কীভাবে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে কাটাতে হয়েছে, সে কথাই খোলামেলাভাবে শেয়ার করেছেন তিনি।

‘দ্য রোটোরিস রুম’ -এ সইফ আলি খান, আয়ান আলি বঙ্গেশ, প্রতীক সাধু এবং সুয়াশ কেশরীর সঙ্গে উপস্থিত হয়ে বীর তাঁর জীবনের সেই কঠিনতম অধ্যায়ের স্মৃতিচারণ করেন। তবে এতকিছুর পরেও ওই পারফরম্যান্স নিয়ে তাঁর কোনও অনুশোচনা নেই বলেই স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।

২০২১ সালে কেনেডি সেন্টারে ওই মনোলোগের পর তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইবারাল হতেই দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এই আবহে তাঁর নামে  ১৪টি এফআইআর দায়ের হয়েছিল, যার আইনি লড়াই সামলাতে হয়েছিল তাঁকে। এই প্রসঙ্গে বীর বলেন, "কেনেডি বক্তৃতার পর একটা বড় এবং ভাইরাল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। টানা ১০ দিন ধরে এটি ছিল দেশের এক নম্বর খবর। তবে আমি ওই পিসটিকে ব্যর্থতা বলে মনে করি না। আমি এ নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। "

তবে এই বিতর্কের প্রভাব তাঁর পেশাগত জীবনে মারাত্মকভাবে পড়েছিল। তিনি জানান, প্রায় আড়াই বছর ধরে কোনও প্রজেক্ট বা ব্র্যান্ড তাঁর ধারেকাছেও মাড়াতে চায়নি। সমস্ত অ্যাক্টিং এবং ডিরেক্টিং অফার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই কঠিন সময়ে তিনি ও তাঁর স্ত্রী গোয়ায় চলে যান। টানা দু’বছর তাঁদের নিয়মিত কোনও আয় ছিল না। বহু মাস পর তিনি ফের স্টেজ শোয়ে ফিরতে পেরেছিলেন এবং স্বাভাবিক কাজ ফিরে পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল।

 

‘টু ইন্ডিয়া’ বিতর্কের রেশ যে এখনও কাটেনি, তার প্রমাণ দিয়ে বীর দাবি করেছেন যে তিনি এখনও মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে প্রবেশ করতে ভয় পান বা নিজেকে সেখানে ‘ব্যান’ বলেই মনে করেন।তিনি জানান, “আমি আসলে পুরো মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে ব্যানড হয়ে আছি। কেনেডি সেন্টারের ওই স্পিচের পর ১৪টি এফআইআর হয়েছিল, আমরা তা সামলেছি। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের এক মন্ত্রী বা নেতা বলেছিলেন যে—‘সে আর কখনও মধ্যপ্রদেশে আসতে পারবে না।’ আমি জানিও না যে সেই মন্ত্রী এখনও পদে আছেন কি না। তবে আমি সেটা আর জানতেও চাই না। আমি শুধু এটুকু জানি, মধ্যপ্রদেশে যেতেই চাই না আমি।”