রাহুল অরুনোদয় ব্যানার্জির মৃত্যুর পাঁচ দিন পর সন্দীপ্তা প্রকাশ্যে জানালেন শোকের কথা৷ এই মৃত্যু যে বিশ্বাস করা যায় না, সেটাও জানিয়েছেন সন্দীপ্তা৷
"এতগুলো দিন কেটে গেলো, এখনো ঠিক মেনে নিতেই পারছিনা, রাহুল আর নেই।
রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি - অত্যন্ত ভালো মানুষ, বন্ধু, গুণী অভিনেতা, সহ-অভিনেতা, লেখক , কবি ... ; এইরকম একজন মানুষ কে আমরা হারালাম।
রাহুল-এর খুব প্রিয় একটা লাইন ছিলো চন্দ্রবিন্দুর , " আমরা কমতি পড়লে loan দিই জন্মদিন "... প্রিয় লাইন যে এইভাবে সত্যি হয়ে যাবে , সেটা ভাবতেই পারিনি।
আমরা প্রত্যেকে গভীরভাবে শোকাহত, খুব কাছের মানুষ চলে গেলে যে দুঃখ টা হয়, এটা ঠিক সেই অনুভূতি , আর এই মনখারাপের শুধু শুরু আছে, শেষ নেই।"
গত ২৯ মার্চ রাহুল অরুনোদয় ব্যানার্জির মৃত্যু ঘিরে একদিকে যেমন উঠেছে প্রশ্ন, তেমনি রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার দিকে সমাজমাধ্যমে ধেয়ে এসেছে কটাক্ষ৷
প্রিয়াঙ্কাকে কটাক্ষ করার কারণ কী? মানুষ নিজের মাথায় যে ধরনের ভাবনা বা চিত্রকে স্বাভাবিক বলে মনে করেন সেই চিত্রের সঙ্গে কিছুটা অমিল হতেই প্রিয়াঙ্কাকে আক্রমণ করা হয়েছে৷ এবার প্রিয়াঙ্কার পাশে দাঁড়িয়ে সমাজমাধ্যমে কড়া জবাব দিলেন সন্দীপ্তা৷
সন্দীপ্তা লিখেছেন, "এরকম একটা সময়ে, এত খারাপ লাগার মধ্যে, আরও কষ্ট হয় যখন সোশালমিডিয়ায় চোখ রাখি। সোশাল মিডিয়া তে মানুষরা যদি একটু সেন্সেবল হয়, সব বিষয়ে জাজ না করে, একটু নিরপেক্ষ ভাবে নিজেদের কষ্ট-যাপন করে, তাহলে মনে হয় আর কেউ না থাকুক, রাহুলের পরিবার , একটু ভালো, একটু শান্তিতে, একটু আড়ালে, নিজেদের মতো করে থাকতে পারে।
আর আমরা তো প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা মানুষ, আলাদা আলাদা পার্সোনালিটি। আমাদের দুঃখ প্রকাশের ধরণ আলাদা আলাদা। কিন্তু সোশালমিডিয়া তে ঘটে চলা এই অস্বাভাবিক শুনানি, ভার্ডিক্ট, মাত্র ১৩ বছর বয়সী একটা বাচ্চা ছেলের সমাজ সম্পর্কে কী ধারণা তৈরি করতে পারে সেটা কি আমরা ভেবে দেখছি ? একটু বোঝার চেষ্টা আমাদের সবাইকেই করতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে আমাদের তো একটু সংবেদনশীল, একটু পরিণত হতে হবে।"
প্রিয়াঙ্কাকে আক্রমণ করতে গিয়ে যে সহজের মতো সদ্য কৈশোরে পা রাখা এক কিশোরের মানসিক শান্তিও বিঘ্নিত হচ্ছে সেই বিষয়েও সতর্ক করেন সন্দীপ্তা৷ সকলকে সংবেদনশীল হওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন।
সন্দীপ্তা আরও লিখেছেন, ছোট্ট সহজ মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাবাকে হারাল৷ রাহুলের মা ছেলের শোকে মুহ্যমান৷ রাহুলের পরিবারের প্রত্যেকের উল্লেখ করে সন্দীপ্তা বলেছেন এই ক্ষতি রাহুলের পরিবারের৷
"আমরা প্রত্যেকে গভীরভাবে শোকাহত, খুব কাছের মানুষ চলে গেলে যে দুঃখ টা হয়, এটা ঠিক সেই অনুভূতি , আর এই মনখারাপের শুধু শুরু আছে, শেষ নেই। সব থেকে বেশি কষ্ট হয় পরিবারের সদস্যদের, কাছের মানুষদের। সেদিন কাকিমার সাথে দেখা করতে গেছিলাম। কত পুরোনো কথা, কত পুরোনো স্মৃতি, রাহুলের ছোটবেলার কথা, পছন্দের খাবার, বই, মায়ের সাথে কাটানো পুরোনো সময় গুলোর কথা .... কত কিছু নিয়ে কথা হল .... রাহুলের ঘর, নতুন জিম সেটআপ, রাহুলের বই, পোস্টারের কালেকশন সবটাই পরে রয়েছে ওর অপেক্ষায়...কুট্টুসের সাথে দেখা হলো, ঠিক চিনতে পেরেছে এতো বছর বাদে, ওর কষ্টটা বোধহয় সবচেয়ে বেশী, কাউকে বলতেও তো পারছেনা বেচারা ...।
কাকিমা এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না, আদরের বাবিন কে হারিয়েছেন তিনি। খুব কষ্ট হচ্ছে দাদা-র কথা, বউরাণী-র কথা, রাহুলের স্কুলের বন্ধুদের কথা, আত্মীয়দের কথা , বাবলু দা-র কথা , সহজের কথা আর অবশ্যই প্রিয়াঙ্কার কথা ভেবে।... এ যে কি ভয়ংকর কষ্ট সেটা আমি-আপনি বুঝতে পারবোনা। ছোট্ট সহজ, মাত্র ১৩ বছর বয়সে , বন্ধু-বাবা কে হারালো, এইটা বোঝা বা বোঝানোর ভাষা আমার কাছে নেই। আর প্রিয়াঙ্কা, নিজের মন শক্ত রেখে, এই অবস্থাতে একা হাতে মিডিয়া, পরিবার, কাজ সবটা সামলাচ্ছে।"
রাহুলের মৃত্যু প্রসঙ্গে একাধিক মন্তব্য উঠে এসেছে৷ সন্দীপ্তা লিখেছেন,"গাফিলতি তো হয়েছেই, প্রপার, নিরপেক্ষ ইনভেস্টিগেশন দরকার। গাফিলতি ছাড়া তো এরকম ঘটনা ঘটতেই পারেনা। এখন শুধু সত্যিটা সামনে আসার অপেক্ষা। এই অপেক্ষার মাঝেই আমাদের কে খুঁজে নিতে হবে একটু ভালো থাকা। রাহুল তো নিজেই ভালো থাকার প্রতি বেশি ঝুঁকে থাকতো। কারুর কাছে সে রাহুল, কারুর কাছে অরুণোদয়, বাবিন,
অরুণ ..... ভালো থাকুক রাহুল, তুমি মনে থাকবে চিরকাল ..."
















