লাখ লাখ রাত জাগা চোখ, হাজার হাজার পাতার নোটস, আর একবুক আশা নিয়ে পরীক্ষার হলে ঢোকা—একজন নিট (NEET) পরীক্ষার্থীর লড়াইটা ঠিক এইরকমই হয়। কিন্তু সেই কঠিন পরিশ্রমের শেষ পরিণতি যদি হয় দুর্নীতি, অনিয়ম আর এক চরম অনিশ্চয়তা, তবে সেই কষ্ট সহ্য করা কঠিন। দেশজুড়ে যখন -নিট পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি আর ক্ষোভ তুঙ্গে, তখন নীরবতার দেওয়াল ভেঙে সরাসরি শিক্ষার্থীদের পাশে এসে দাঁড়ালেন টলিউডের সুপারস্টার জিৎ।
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে জিৎ স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই লড়াই কেবল একটি পরীক্ষার নয়, এটি লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন ও বিশ্বাসের লড়াই।
ইনস্টাগ্রামে ঠিক কী বললেন জিৎ?
নিজের বার্তায় কোনও রাজনীতি নয়, বরং একজন সাধারণ অভিভাবকের মতো গভীর দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন জিৎ।
"নিট ইস্যুটি আর কেবল একটা পরীক্ষার মধ্যে আটকে নেই—এটা এখন কোটি কোটি ছাত্রছাত্রী আর তাঁদের পরিবারের স্বপ্ন, আশা আর আস্থার বিষয়।
প্রতিটি যোগ্য শিক্ষার্থীর অধিকার আছে একটা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ আর বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থার। যাদের গাফিলতিতে আজ এই পরিস্থিতি, তাদের জবাবদিহি করতেই হবে। এমন সংস্কার আনতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কখনও কোনও ছাত্রের স্বপ্ন এভাবে নষ্ট না হয়।
আমাদের ছেলেমেয়েরা ন্যায়বিচার চায়, নিজেদের প্রশ্নের উত্তর চায়। সবচেয়ে বড় কথা, তারা এই আশ্বাসটুকু চায় যে তাদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য দেওয়া হবে। এটাকে রাজনীতি বা কাদা ছোঁড়াছুড়ির বিষয় না বানিয়ে, আসুন সবাই মিলে দায়িত্ব নিই এবং একটা স্থায়ী সমাধানের দিকে হাঁটি।"

কেন জিতের এই বার্তা এতটা আলাদা?
রাজনীতি নয়, কেবলই সত্যি: গ্ল্যামার জগতের অনেকে যখন বিতর্ক এড়িয়ে যান, তখন জিৎ কোনও রাজনৈতিক দল বা রঙের দিকে না গিয়ে সোজা ব্যবস্থার খামতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রাজনৈতিক স্বার্থের উর্ধ্বে নীতিগত অবস্থান নিয়েছেন জিৎ। খুব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এটি কোনও ‘রাজনৈতিক পয়েন্ট স্কোরিং’ বা কাদা ছোঁড়াছুড়ির জায়গা নয়। এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই। তাঁর এই নিরপেক্ষ অথচ শক্ত অবস্থান পোস্টটিকে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।
‘সিস্টেম’-এর স্বচ্ছতার দাবি: শুধু সহানুভূতি জানিয়ে ক্ষান্ত হননি জিৎ; তিনি তুলে ধরেছেন কাঠামোগত সংস্কারের দাবি। কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে শিক্ষার্থীরা যাতে একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থা পায়, সেই আইনি ও নৈতিক অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের মনের কথা: কোনও জটিল শব্দ নয়, খুব সাধারণ কিন্তু জোরালো ভাষায় তিনি শিক্ষার্থীদের মনের ক্ষোভ আর কষ্টের কথা ফুটিয়ে তুলেছেন।
সংগ্রামের পাশে তারকা: রুপোলি পর্দার ‘হিরো’ যখন বাস্তব জীবনে ছাত্রদের এই অনিশ্চয়তার দিনে এভাবে পাশে এসে দাঁড়ান, তখন তা হতাশ হয়ে পড়া তরুণদের নতুন করে লড়াইয়ের সাহস জোগায়।
একটি স্বচ্ছ পরীক্ষার দাবি কেবল ছাত্রদের একার নয়, এটি পুরো দেশের ভবিষ্যতের দাবি। আর সেই দাবিতেই আজ সবচেয়ে জোরালো কণ্ঠস্বর হয়ে উঠলেন টলিউডের 'বস'। রুপোলি পর্দার ‘হিরো’ থেকে বাস্তব জীবনের এক দায়িত্বশীল অভিভাবক—জিৎ প্রমাণ করলেন, যখন তরুণদের স্বপ্ন কুক্ষিগত করার চেষ্টা হয়, তখন প্রকৃত নায়কেরা গ্যালারিতে বসে থাকেন না, ময়দানে এসে দাঁড়ান।
















