হিন্দি ছবির জগতে এমন অভিনেতা বা প্রযোজক খুব কমই আছেন, যাঁরা মারা যাওয়ার বহু বছর পরেও মানুষের মনে সমানভাবে শ্রদ্ধার আসনে রয়ে গিয়েছেন। সুনীল দত্ত ছিলেন তেমনই একজন মানুষ। ১৯৫৫ সালে বড়পর্দায় তাঁর সফর শুরু হয়েছিল। এর ঠিক দু'বছর পরেই তিনি অভিনেত্রী নার্গিসকে বিয়ে করেন।
১৯৬৩ সালে 'ইয়ে রাস্তে হ্যায় পেয়ার কে' ছবির মাধ্যমে তিনি প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তবে ছবি তৈরি করতে গিয়ে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যে, সুনীল দত্ত খরচের ব্যাপারে একেবারেই হিসেবি ছিলেন না। শুরুর কয়েক বছর এতে খুব একটা সমস্যা না হলেও, ১৯৭১ সালের 'রেশমা অউর শেরা' ছবিটি তৈরি করতে গিয়ে তিনি প্রায় দেউলিয়া হয়ে পড়েছিলেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তাঁকে বান্দ্রার নিজস্ব বাংলো পর্যন্ত বন্ধক রাখতে হয়েছিল।
এই তারকাবহুল ছবিটির পরিচালনা সুনীল দত্ত নিজেই করেছিলেন এবং প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে ছিলেন ওয়াহিদা রহমান, রাখী ও অমিতাভ বচ্চন। অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে তিনি ছবির কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু শুটিং যত এগোতে লাগল, সুনীল আর নার্গিস দু'জনেই বুঝতে পারলেন যে তাঁরা ক্ষমতার চেয়ে অনেক বড় ঝুঁকি নিয়ে ফেলেছেন। আসলে সুনীল দত্তর মাথায় এই সিনেমার ভাবনাটি আসে এবং তিনি লেখক এস আলী রেজাকে গল্পটি লেখার অনুরোধ করেন।
এটি ছিল রাজস্থানের পটভূমিতে তৈরি এক পারিবারিক শত্রুতা আর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের গল্প, যেখানে নিজের ভালবাসার মানুষের পরিবারকে হত্যা করার অপরাধে নায়ক নিজেই নিজের ভাইয়ের শত্রুতে পরিণত হয়। আলী রেজা প্রথমে গল্পটি নিয়ে খুব একটা উৎসাহী না হলেও সুনীল দত্তর জোরাজুরিতে শেষ পর্যন্ত রাজি হন।
সিনেমায় সুনীল দত্তর বোবা ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন। বলিপাড়ায় একটি প্রচলিত কথা আছে যে, ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সুপারিশেই অমিতাভ এই চরিত্রে সুযোগ পেয়েছিলেন। ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে নার্গিসের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর ছিল এবং নার্গিসের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁদের এই বন্ধুত্ব বজায় ছিল। আবার অন্যদিকে এলাহাবাদে থাকার সময় থেকেই ইন্দিরার সঙ্গে অমিতাভের মা তেজি বচ্চনেরও খুব ভাল বন্ধুত্ব ছিল। স্বাভাবিকভাবেই নার্গিসের কাছ থেকে অনুরোধ আসায় সুনীল দত্ত আর না করতে পারেননি এবং অমিতাভকে ছবিতে কাস্ট করেন।
সুনীল দত্ত প্রথমে ভেবেছিলেন মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই পুরো শুটিং শেষ করে ফেলবেন, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ছিল একেবারেই আলাদা। পরিচালক সুখদেব সহ প্রায় ১০০ জনের এক বিশাল টিম নিয়ে সুনীল দত্ত জয়সলমীর থেকে ৮০ মাইল দূরে পোচিনা নামের এক প্রত্যন্ত গ্রামে তাবু খাটিয়ে শুটিং শুরু করেন। যে শুটিং ১৫ দিনে শেষ হওয়ার কথা ছিল, তা দেখতে দেখতে দু-মাসেরও বেশি সময় ধরে টেনে যায়। আর এই বিশাল কর্মযজ্ঞের কারণেই সিনেমার বাজেট আকাশছোঁয়া হয়ে গিয়েছিল, যা সুনীল দত্তকে এক চরম আর্থিক সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়।















