দোলা ব্যানার্জি আজকাল ডট ইন-কে বলেন, "আমি এবং আমার মতো বহু শিল্পী বঞ্চিত হয়েছেন৷ আমরা যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ চাইতে গিয়েছিলাম কিন্তু কাজ পাইনি। চাকরি বিক্রির মতো মঞ্চ বিক্রি হয়েছে। ইন্দ্রনীল সেন সরাসরি ফোন কখনও করতেন না। দপ্তর কেন্দ্রিক কর্মীরা ফোন করতেন৷ এই পরিমণ্ডলে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন তাঁরা আমাদের কাজ না দিয়ে মঞ্চ বিক্রি করতেন৷ ৫০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত, যে যেভাবে পারতেন টাকা তুলেছেন।"

দোলা ব্যানার্জি বলেন, "আমাদের তো এখন অডিশন হয় না৷ ইন্দ্রনীল সেন আমাদের সরাসরি ফোন করতেন না৷ কখনও করেননি৷ কিছু সরকারি অস্থায়ী কর্মচারী আছেন, তাঁরা এই বিষয় কথা বলতেন৷ নতুনদের ক্ষেত্রে অডিশনের জন্য আর আমাদের ক্ষেত্রে দপ্তরকেন্দ্রিক কর্মীরা ফোন করতেন অনুষ্ঠানের জন্য৷" 

দোলা ব্যানার্জির অভিযোগ," একটি স্যাটেলাইট চ্যানেল যখন বন্ধ হয়ে যায় তখন মমতা ব্যানার্জি নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে জায়গা করে দিয়েছিলেন, চাকরি দিয়েছিলেন। এই সমস্ত ব্যক্তিরাই ইন্দ্রনীল সেনকে পরবর্তীকালে সহায়তা করত৷ নতুন শিল্পীদেরকেও নিয়ে আসতেন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা৷ একটা নির্দিষ্ট দল ছিল, যাঁরা এইভাবে টাকা তুলত৷ কিছু ব্যক্তি শিল্পী কার্ড দেখিয়ে সঙ্গীতমেলায় অনুষ্ঠান করতেন৷ তাঁরা আদৌ শিল্পী নন৷ সঙ্গীতমেলার মান অন্যরকম৷ সেই মান আর এই মান, চাকরিবিক্রির মতো মঞ্চ বিক্রির কথা বলছি কারণ মঞ্চের সামনের দিকে তৎক্ষনাৎ হাতে হাতে টাকা তোলা হত, এটা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি৷"

"সরকারি অনুষ্ঠান মানে সম্মাননীয় জায়গা৷ সেখানে পারিশ্রমিক নিয়ে ভাবতাম না৷ ২০০১ সালে আমি প্রথম অডিশন দিয়েছিলাম। তখন সুযোগ পাইনি৷ ২০০৩ সালে আমি স্নাতকোত্তর পড়াকালীন শিবাজি চট্টোপাধ্যায়, জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায় তখন দায়িত্বে ছিলেন৷ তখন রাজ্য সঙ্গীত অ্যাকাডেমিতে অডিশন হয়েছিল৷ আমার গুরু সুভাষ চৌধুরীকে বলেছিলাম, স্যর আমরা অডিশন দিতে যাচ্ছি৷ আমাদের বলেছিলেন, আমার কোনও হাত নেই৷ ভাল গাইলে সুযোগ পাবে৷" 

দোলা ব্যানার্জি বলেন, "সেই সময় রবীন্দ্রসঙ্গীত বিভাগে যোগ্যশিল্পীদের স্মারক দেওয়া হত৷ রুপোর সেই স্মারক আমি পেয়েছিলাম৷ তৃণমূল সরকারের সময় ২০১১-২০১৫ এই সময় প্রচুর সম্মান দেওয়া হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে  ঝাড়্গ্রাম জঙ্গলমহল উৎসবে অনুষ্ঠান করেছি৷ ২০১৫ এর পর ইন্দ্রনীল সেন দায়িত্বে আসার পর থেকেই শিল্পীদের সুযোগ দেওয়ার জন্য কাটমানি নেওয়া শুরু হল৷ জেলাভিত্তিক ছড়িয়ে পড়েছিল। আমাকেও টাকার কথা বলা হয়েছিল৷ কিন্তু আমি কখনও কোথাও টাকা দিয়ে গান গাইনি৷ আমি প্রতিবাদ করতে চেয়েছিলাম, অনেকেই যাঁরা প্রতিবাদ করতে চেয়েছিলেন, তাঁদের বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।" 

দোলা ব্যানার্জির আরও বলেন, "পূর্বতন সরকারের সব মন্ত্রী খারাপ ছিলেন না৷ ইন্দ্রনীল সেন এসে সেই সমস্ত মন্ত্রীদের মধ্যে একটা পাঁচিল তুলে দেন৷ তাঁরা কিন্তু ব্যক্তিগত ইচ্ছায় যে কাউকে নির্বাচন করতেন না৷ সরকারি নিয়ম মেনে ভিডিওর মাধ্যমে দক্ষতার নিরিখে নির্বাচন করতেন৷ কিন্তু ইন্দ্রনীল সেন এসে নিজের মতো করে নেক্সাস বাহিনী গঠন করে ফেললেন৷ ওই সমস্ত মন্ত্রীদের সরিয়ে টাকা তোলার বন্দোবস্ত করা হল৷ প্রত্যেককে আমি চিনি। এই বছর শীতে তৃণমূল সরকারের আমলে মালদার দায়িত্বে থাকা এক মন্ত্রীর আমন্ত্রণে অনুষ্ঠান করতে গিয়েছিলাম। আমার অভিজ্ঞতা খারাপ নয়৷ তাহলে ইন্দ্রনীল সেনের দপ্তরকেন্দ্রিক নির্বাচবে কেন এত জটিলতা? ফেসবুকে অনুষ্ঠানের কথা জানালে ফোন করে বলা হত এই শিল্পীকে নেওয়া যাবে না।"