সম্প্রতি শহরের এক প্রখ্যাত বেসরকারি হাসপাতালে একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল যেখানে সেই সমস্ত রোগীদের লড়াই উদযাপন করা হল, যাঁরা কণ্ঠ এবং মস্তিষ্কের ক্যানসারকে হারিয়ে জীবনযুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। সেই অনুষ্ঠানেই এদিন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তাঁদের ছবি কণ্ঠ প্রসঙ্গে একাধিক অজানা তথ্য ভাগ করে নিলেন।
শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এদিন জানালেন কণ্ঠ ছবিটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত। সেই স্মৃতি হাতড়ে পরিচালক, অভিনেতা এদিন বলেন, "বেসরকারি একটা চ্যানেলে কাজ করতাম আমি আর নন্দিতাদি। সেখানে একটা শো হতো, 'আলোয় ফেরা' বলে। ওখানে কেবল ক্যানসার জয়ীরা নন, যাঁদের হাত চলে গিয়েছে বা অন্য প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তারপরেও তাঁরা জীবনযুদ্ধে যেভাবে জয়ী হয়ে মূলস্রোতে ফিরেছেন তাঁদের কথা তুলে ধরা হতো। সেখানেই বিভূতি চক্রবর্তী বলে একজন আসেন। তাঁর কণ্ঠ ছিল না, তিনি ইসোফেগাল ভয়েসে কথা বলতেন। ভয়েস বক্স ব্যবহার করতেন না। উনি একটা বই বের করেছিলেন, 'কথা কও'। স্বেচ্ছায়, কোনও অর্থ না নিয়ে সমস্ত ক্যানসার হাসপাতালে যেতেন, এবং যাঁরা এই ক্যানসারে আক্রান্ত তাঁদের সঙ্গে কথা বলতেন। শেখাতেন কীভাবে ইসোফেগাল ভয়েসে কথা বলতে হবে। তিনি সেই অনুষ্ঠানে আসেন, তাঁর গল্প বলেন। তাঁর ফাইল আমাদের দিয়ে বলেন, যদি কখনও মনে হয় এটা দিয়ে সিনেমা করবেন। আমি আর নন্দিতা সবসময়ই জীবনকে ভালবাসার, ইতিবাচক বার্তা দেওয়া ছবি করেছি। তাই তখন এটা নিয়ে কাজ করি। গল্পে চরিত্র দেখানো হয় একজন রেডিও জকির। একজন রেডিও জকির কণ্ঠই যদি চলে যায়, তাহলে সেটা কতটা ভয়ানক হতে পারে সেটাই তুলে ধরতে চেয়েছিলাম। একই সঙ্গে এই ছবিটাকে আরও বেশি জীবনের, জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়ার গল্প করে তোলার জন্য, সেই ক্যানসার আক্রান্ত মানুষটা, ডাক্তারদের লড়াইয়ের পাশাপাশি, সেই রোগীর পরিবারের কতটা লড়াই থাকে সেটাকেও তুলে ধরতে চেয়েছিলাম।" শিবপ্রসাদ জানান এই ছবির আগে বেলাশেষে, প্রাক্তন, হামি ইত্যাদির মতো সুপারহিট ছবি উপহার দেওয়া সত্ত্বেও এক্সিবিটর, সহ অনেকেই পিছিয়ে গিয়েছিলেন। কারণ? তাঁদের মনে হয়েছিল ক্যানসারের উপর নির্মিত ছবি চলবে না।

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এদিন কণ্ঠের ক্যানসার জয়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "মুখের ক্যানসার যাঁদের হয়েছে, সেটা জয় করে যাঁরা ফিরে এসেছেন তাঁরা তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা বলবেন এই অনুষ্ঠানে। একই সঙ্গে তাঁরা যে এই লড়াই লড়ে ফিরে এসেছেন, তার নেপথ্যে যে চিকিৎসক, স্টাফরা ছিলেন তাঁরা কীভাবে সাহায্য করেছেন সেটা জানা যাবে, সেই অনুষ্ঠানে আসতে পেরে ভীষণ ভাল লাগছে। আমরা এটার ছোট্ট একটা অংশ, কারণ আমরা 'কণ্ঠ' বলে একটা ছবি করেছিলাম, যেখানে এমনই এক ক্যানসার রোগীর কথা তুলে ধরা হয়েছিল যার মুখের ক্যানসার হয়েছিল, এবং তারপরেও জীবন যুদ্ধে ফিরে এসেছিল। আবার অন্যভাবে কথা বলেছিল। আমি মনে করি যাঁর ক্যানসার হয়েছে এটা কেবল তার লড়াই নয়, যাঁরা তাঁকে এই যুদ্ধ জয় করে ফিরে আসতে সাহায্য করছে তাঁদের লড়াই, তাঁর পরিবারেরও লড়াই।"
অভিনেতা এই বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খুললেন কণ্ঠ ক্লাব।
