অসমে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ালেন বলিউড সুপারস্টার সলমন খান। অভিনয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি তাঁর সমাজসেবামূলক সংস্থার মাধ্যমে একটি ত্রাণ কর্মসূচি শুরু করেছেন। এই উদ্যোগে বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্যসামগ্রী, পানীয় জল, ওষুধ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং অন্যান্য জরুরি জিনিসপত্র পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
সলমন বর্তমানে পরিচালক বংশী পৈডিপল্লীর নতুন ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, অসমের পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছেন। তাঁর নির্দেশনায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং অসমের সলমন খান ফ্যান ক্লাব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। ইতিমধ্যেই প্রথম দফার ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে আরও বিশালাকারে এই সাহায্য চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ত্রাণ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হল বন্যার কারণে ঘরছাড়া ও বিপর্যস্ত পরিবারগুলির কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া। খাবারের পাশাপাশি পানীয় জল, ওষুধ, স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার সামগ্রী এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যও বিতরণ করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও সাহায্যের পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অসমে এবারের বন্যায় বহু মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। বিভিন্ন জেলায় নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ এখনও বন্যার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেননি। প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে এগিয়ে এসেছেন।
সলমন খানের এই মানবিক উদ্যোগ ইতিমধ্যেই অনুরাগীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তাঁর এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। শুধু সলমনই নন, অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকরও অসমের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি কয়েকজন সংগীতশিল্পীও ত্রাণ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন, যাতে আরও বেশি সংখ্যক দুর্গত মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছে দেওয়া যায়।
এর আগেও বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কাজে এগিয়ে এসেছে সলমন খানের Being Human ফাউন্ডেশন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলা এই সংস্থা এবারও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। কঠিন সময়ে এই ধরনের উদ্যোগ দুর্গত মানুষদের নতুন করে আশা জোগাবে বলেই মনে করছেন অনেকেই।
















