বিগত বেশ কয়েকদিন ধরে উত্তপ্ত ইম্পা। সংগঠনের সভাপতি পদ থেকে পিয়া সেনগুপ্ত পদত্যাগ করার পর নতুন দায়িত্ব কে নেবেন, তা নিয়ে জলঘোলা হয়েই চলেছে। মঙ্গলবার ফের একবার ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন (ইম্পা)-কে ঘিরে চলা ক্ষমতার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এল। 


এদিন এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠককে কেন্দ্র করে ইম্পার দফতরে উত্তেজনা ছড়ায়। কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে বৈঠক হলেও, বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তীব্র বিক্ষোভ দেখায় রতন সাহার শিবির।
নির্ধারিত সময়ে এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্যরা অফিসে পৌঁছতে শুরু আপত্তি তোলে রতন সাহা গোষ্ঠী। তাদের দাবি, যে এক্সিকিউটিভ কমিটির নামে বৈঠক ডাকা হয়েছে, সেই কমিটিই আইনসিদ্ধ নয়। তাই সেই কমিটির ডাকা বৈঠকেরও কোনও বৈধতা নেই। 

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কৃষ্ণ কুমার দাগা পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই ইম্পা অফিসে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বউবাজার থানার পুলিশ হাইকোর্টের নির্দেশের কপি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ জানায়, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। কিন্তু সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি বিরোধী শিবিরের সদস্যরা।

এরপর শুরু হয় প্রবল বিক্ষোভ ও স্লোগান। 'চোর চোর' ধ্বনিতে সরগরম হয়ে ওঠে ইম্পা চত্বর। রতন সাহা শিবিরের তরফে অভিযোগ করা হয়, বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজনের বৈধ সদস্যপদ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি ছিল, বৈঠকে উপস্থিত প্রত্যেক সদস্যকে পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। কিন্তু সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে আসে এবং ফের বিক্ষোভ শুরু হয়।
 
রতন সাহার ছেলে তথা পরিবেশক শতদীপ সাহা প্রসঙ্গে বলেন, “ওরা বেআইনিভাবে মিটিং করতে চাইছিল। ওদের কাছে আইডি কার্ড দেখতে চাইলে পিছনের দরজা দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। প্রথমে পুলিশ ওদের সাহায্য, তারপর বেআইনিভাবে ওরা বেআইনিভাবে ওরা মিটিং করতে থাকে।” একইসঙ্গে কৃষ্ণ দাগার বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, “ উনি প্রেসিডেল্ট থাকাকালীন আমাদের নিচের অফিস বিক্রি করে দেয়। টাকা নিয়ে টাকা ফেরত দেয়নি। ওনার ডায়ালিসিস চলছে, তাও প্রেসিডেন্ট হতে চান। একজন অসুস্থ মানুষ প্রেসিডেন্ট হলে কী বা সংগঠনের জন্য করতে পারবেন।” যদিও এই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কৃষ্ণা দাগা। 
অন্যদিকে, কৃষ্ণ কুমার দাগার শিবিরের দাবি, আদালতের নির্দেশ মেনেই বৈঠক হয়েছে এবং সংগঠনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাদের উদ্দেশ্য। 

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই ইম্পার নেতৃত্ব নিয়ে কৃষ্ণ কুমার দাগা ও রতন সাহা শিবিরের মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে। সভাপতি পদ, এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈধতা এবং নতুন নির্বাচন, এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধ ক্রমেই জটিল আকার নিয়েছে। এদিনও ঘটনাও যেন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ইম্পার অন্দরের ক্ষমতার লড়াই এখনও অব্যাহত।