বলিউডে দু’দশক পার করে দেওয়ার পরও বক্স অফিসের হিসেব যে কতটা নির্মম ও অনিশ্চিত হতে পারে, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন অভিনেতা শাহিদ কাপুর। আগামী ১৯শে জুন, ২০২৬ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে ওঁর বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘ককটেল ২’। হোমি আদাজানিয়া -র পরিচালনায় এই ছবিতে প্রথমবার ওঁর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে দেখা যাবে রশ্মিকা মন্দানা এবং কৃতি শ্যানন-কে। ছবির ট্রেলার ও গান ইতিমধ্যেই দর্শকদের থেকে দারুণ সাড়া পেয়েছে। কিন্তু এই ছবির প্রচারের মাঝেই নিজের কেরিয়ার ও সাম্প্রতিক ব্যর্থতা নিয়ে এক বিস্ফোরক ও অকপট স্বীকারোক্তি দিলেন অভিনেতা।

শাহিদ স্পষ্ট জানালেন, ওঁর শেষ দুটি ছবি— ‘ও রোমিও’ এবং ‘দেবা’ বক্স অফিসে সম্পূর্ণ মুখ থুবড়ে পড়ার পর তিনি নিজের ‘আর্টিস্টিক ইন্সটিংকট’ বা শৈল্পিক সহজাত বুদ্ধির ওপর ভরসা হারিয়েছেন। আর সেই কারণেই এখন ছবি হ্যাঁ বলার আগে এক বড়সড় বদল এনেছেন নিজের পেশাদার জীবনে।

একটি সাক্ষাৎকারে শাহিদ কাপুর জানান, এত বছর ইন্ডাস্ট্রিতে কাটানোর পরও ছবির সাফল্য বা ব্যর্থতার ওপর ওঁর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। তিনি বলেন, “আপনি যখন ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিন কাজ করবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে হবে যে এবার হয়তো আপনার সিদ্ধান্তগুলো বেশি সঠিক হবে। কিন্তু বাস্তবে তেমনটা মোটেও ঘটে না। আপনি কত বছর কাজ করেছেন, ওঁর সঙ্গে সিনেমার সাফল্যের কোনও সম্পর্ক নেই। সিনেমা অত্যন্ত অনিশ্চিত একটা মাধ্যম। একজন অভিনেতা হিসেবে আপনি ক্যামেরা ফ্রন্টের কাজটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, কিন্তু পুরো ফ্রেমটা কেমন হবে তা ঠিক করেন খোদ পরিচালক।”

 

 

শাহিদ আরও যোগ করেন, অভিনেতা হিসেবে নিজের দক্ষতার ওপর ওঁর ১০০% ভরসা থাকলেও, চিত্রনাট্য বা স্ক্রিপ্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে ওঁর নিজস্ব বিচারবুদ্ধি সবসময় সঠিক হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ওঁর মনে সংশয় তৈরি হয়েছে। ওঁর কথায়, “আজকাল আমি আমার টিমকে বলতে শুরু করেছি যে, চিত্রনাট্য চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্তটা আমার একার নেওয়া উচিত নয়। ক্যামেরার সামনে কী করতে হবে তা আমি খুব ভাল করেই জানি, কিন্তু কোন সিনেমাটা বাছা উচিত, তা হয়তো আমি ঠিকঠাক বুঝতে পারছি না। আমার ছবি বাছাইয়ের মানদণ্ড বা চয়েস হয়তো স্রেফ একটা বিশুদ্ধ শৈল্পিক তাড়না দ্বারা চালিত হচ্ছে, যা সাধারণ দর্শকদের মনের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারছে না।”


‘ও রোমিও’ এবং ‘দেবা’র মতো দুটি বিগ বাজেট ছবির ভরাডুবির পর শাহিদ ওঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন। আগে তিনি সবসময় একান্তে এবং একাই নতুন সিনেমার ন্যারেটর বা চিত্রনাট্য শুনতেন। কিন্তু এখন সেই নিয়ম বদলে ফেলেছেন।

শাহিদ বলেন, “এই দুটি ছবির পর আমার জীবনে এই মস্ত বড় পরিবর্তনটা এসেছে। আমি এখন স্ক্রিপ্ট শোনার সময় সেই ঘরে আরও তিনজন মানুষকে চাই, যাতে সিনেমাটা নিয়ে স্রেফ আমি একাই আমার মতো করে কোনও কাল্পনিক দুনিয়া তৈরি না করে বসি। ওঁদের মতামতও যাতে আমাকে সাহায্য করে।”

আগামী ১৯শে জুন ‘ককটেল ২’ মুক্তির পর শাহিদের হাতে আপাতত রাজ এবং ডিকে-র ব্লকবাস্টার ওয়েব সিরিজ ‘ফরজি সিজন ২’ছাড়া আর কোনো বড় প্রজেক্ট নেই। তিনি এখনও নতুন কোনও সিনেমার ঘোষণাও করেননি। বোঝাই যাচ্ছে, ১৯ তারিখের ‘ককটেল ২’ শাহিদ কাপুরের বলিউড ক্যারিয়ারের জন্য এক মস্ত বড় অ্যাসিড টেস্ট হতে চলেছে। এখন রশ্মিকা ও কৃতির কাঁধে ভর করে এবং নতুন ৩ মাথার মন্ত্রণায় শাহিদের এই নতুন ইনিংস বক্স অফিসে কতটা ‘ককটেল’ জমাতে পারে, সেটাই দেখার!