সদ্য শেষ হয়েছে ৯৮ তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস। অ্যাকাডেমির মঞ্চে একাধিক বিভাগে অস্কারের ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতীয় সময়ানুসারে সোমবার ভোরে বসেছিল বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে ঐতিহ্যশালী এই পুরস্কারের আসর। আমেরিকার ডলবি ডিজিট্যাল থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হল ৯৮তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসতথা অস্কার অনুষ্ঠান। গত বছরের মত এবারও এই অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পী কোনান ও ব্রায়ান। ৯৮তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস-এর মঞ্চে বিভিন্ন বিভাগে একাধিক অস্কার জিতেছে ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’ ছবিটি। এই ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে সেরা সহ অভিনেতার বিভাগে অস্কার জিতলেন শন পেন। তাঁর কেরিয়ারে এই নিয়ে তৃতীয়বার! তবে এটি অপ্রত্যাশিত ছিল না। একপ্রকার নিশ্চিত-ই ছিল এবারে এই বিভাগে শন-কে টক্কর দেওয়ার মতো আর কোনও অভিনেতা নেই। তবে জানিয়ে রাখা ভাল, সবাইকে অবাক করে এবারের অস্কার অনুষ্ঠানেই পা রাখেননি তিনি।  

 


বেশ কয়েক বছর আগে এমিনেম তাঁর গান লুজ ইয়োরসেল্ফ-এর জন্য 'এইট মাইল' ছবিতে কাজ করে অস্কার জিতেছিলেন। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। পরে এই প্রসঙ্গে জানিয়েছিলেন, তিনি তখন বাড়িতে বসে মেয়ের সঙ্গে টিভি দেখছিলেন।

ঠিক তেমনই এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল এবারের অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস। কারণ পুরস্কার জিতেও অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন না হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা শন পেন।

লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে বসেছিল ৯৮তম অস্কারের আসর। সেখানেই সেরা সহ-অভিনেতা বিভাগে পুরস্কার জেতেন শন পেন। পল থোমাস অ্যান্ডারসন পরিচালিত অন্ধকার ডার্ক কমিক থ্রিলার ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’ ছবিতে এক আবেগপ্রবণ সামরিক অফিসারের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য এই সম্মান পান তিনি। কিন্তু তাঁর নাম ঘোষণার সময় দেখা গেল, মঞ্চে উঠতে অভিনেতা নেই! ফলে খানিকটা অপ্রস্তুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হলভর্তি দর্শকের মধ্যে তখন কৌতূহল আর ফিসফাস।

শেষমেশ পরিস্থিতি সামলান গত বছরের বিজয়ী কিয়েরন কাল্কিন। সনের নামাঙ্কিত পুরস্কারটি হাতে তুলে নিয়েমঞ্চ থেকে  রসিকতার সুরে বলেন,“শন পেন এখানে থাকতে পারেননি… অথবা হয়তো আসতেই চাননি। তাই তাঁর হয়ে আমিই পুরস্কারটা গ্রহণ করছি।”এই মন্তব্যে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে প্রথমে খানিকটা বিভ্রান্তি তৈরি হলেও পরে হাততালি আর হাসিতে ভরে ওঠে পুরো প্রেক্ষাগৃহ।

তবে এই জয়ের মাধ্যমে ইতিহাসেও নাম লিখিয়ে ফেললেন শন পেন। এটি তাঁর কেরিয়ারের তৃতীয় অস্কার। ফলে অস্কার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পুরস্কার জয়ী পুরুষ অভিনেতাদের তালিকায় তিনি পৌঁছে গেলেন জ্যাক নিকোলসন, ওয়াল্টার ব্রেনান এবং ড্যানিয়েল ডে লিউয়িস-এর পাশে। এই চারজন অভিনেতারই ঝুলিতে রয়েছে অভিনয়ের জন্য তিনটি করে অস্কার।

এর আগে ২০০৪ সালে ‘মিস্টিক রিভার’ ছবির জন্য এবং ২০০৯ সালে ‘মিল্ক’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতা বিভাগে অস্কার জিতেছিলেন শন পেন।

অন্যদিকে, ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’ ছবিটিও এ বছরের অস্কারে বড় সাফল্য পেয়েছে। বলে রাখা ভাল, এই ছবির জন্য পল থোমাস অ্যান্ডারসন জিতেছেন দু'দুটি অস্কার—রূপান্তরিত চিত্রনাট্য এবং পরে সেরা পরিচালকের পুরস্কারও।তবে সেরা অভিনেতার দৌড়ে হতাশ হতে হয়েছে লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও-কে। সেরা অভিনেতা বিভাগে তাঁকে হারিয়ে পুরস্কার জিতে নেন মাইকেল বি জর্ডান। ‘সিনার্স’ ছবিতে তাঁর আলোচিত দ্বৈত চরিত্রের অভিনয়ের জন্য।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সঞ্চালক তথা জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পী কোনান ও ব্রায়েন রসিকতার সুরে বলেন, “এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমি-ই হয়তো অস্কারের শেষ সঞ্চালক যে মানুষ!” হলিউডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাড়তে থাকা প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের প্রসঙ্গ তুলেই এমন মন্তব্য করেন তিনি।কোনান আরও বলেন, এ বছরের অস্কারে ছয’টি মহাদেশের ৩১টি দেশের শিল্পীরা মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমরা উদ্‌যাপন করছি এই ভেবে নয় যে সবকিছু ঠিক আছে, বরং আমরা আরও ভাল কিছুর আশায় কাজ করে চলেছি।”

সব মিলিয়ে, এবারের অস্কারের রাত যেমন ছিল গ্ল্যামারে ভরা, তেমনই ছিল কিছু অপ্রত্যাশিত মুহূর্তেও চমকে দেওয়া। শন পেনের অনুপস্থিতি সেই তালিকার একেবারে শীর্ষেই রইল।

 

 

 

&t=643s