টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সম্প্রতি পৌঁছে গিয়েছিলেন বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের কিংবদন্তি অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে। একেবারে ঘরোয়া পরিবেশে, চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে ‘সাবিত্রী আন্টি’-র সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন বুম্বাদা। আর সেই আড্ডার মাঝেই আচমকা এক বিশেষ মানুষকে ফোন করে বসলেন তিনি। সেই বিশেষ ব্যক্তি আর কেউ নন— ওঁর বাবা তথা টলিউড ও বলিউডের বর্ষীয়ান তারকা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়।
ফোন লাগিয়েই হাসতে হাসতে প্রসেনজিৎ ওঁর বাবাকে নিজের অবস্থান জানান এবং ফোনটি তুলে দেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের হাতে। আর তারপরেই ক্যামেরার সামনে তৈরি হল এক নস্টালজিক ও মজার মুহূর্ত, যা ফেবুকে আপলোড করে দিলেন তিনি। আর তা দেখে এই মুহূর্তে হেসেই খুন নেটপাড়া!
ফোন হাতে পাওয়া মাত্রই নিজের চেনা চনমনে ছন্দে পুরনো বন্ধু বিশ্বজিতের সাথে আড্ডায় মেতে ওঠেন সাবিত্রী। প্রথমে খানিক ছদ্ম-অভিমান দেখানোর পর তিনি বিশ্বজিৎকে কলকাতায় আসার অনুরোধ জানান। ওপ্রান্ত থেকে বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও তখন পুরোদস্তুর আড্ডার মেজাজে। দুই পুরনো সহ-অভিনেতার টুকরো টুকরো কথা শুনে বোঝা যাচ্ছিল, ওঁদের পুরোনো দিনের সিনেমার শুটিংয়ের নানান মজার অভিজ্ঞতা ও কিসসা নিয়ে আলোচনা চলছে।
রসিকতা যখন চরমে, তখনই আচমকা বিশ্বজিৎকে উদ্দেশ্য করে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় বলে ওঠেন, “আগে তোমাকে ডেট করতাম, এখন ভাবছি তোমার ছেলেকে (প্রসেনজিৎ) ডেট করব!”
৮৯ বছর বয়সী বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর মুখে এমন চরম গুগলি আর রোমান্টিক রসিকতা শুনে ততক্ষণে হাসিতে ফেটে পড়েছেন পাশে বসে থাকা স্বয়ং প্রসেনজিৎ! হাসি থামার পর বুম্বাদা খানিক স্বগোক্তির ঢংয়েই প্রসেনজিৎ বলে ওঠেন, “এবার বাবা আর সাবিত্রী আন্টি, দুজনকে আমার বাড়িতে আড্ডায় বসাব। সবাই মিলে একসঙ্গে আড্ডা মারব।” ওদিকে ফোনের ওপার থেকে বিশ্বজিৎও সাবিত্রীর সঙ্গে কলকাতায় এসে জমিয়ে আড্ডা মারার চুক্তি পাকা করে নেন।
এরপর ফোন আবার প্রসেনজিতের হাতে এলে তিনি ওঁর বাবাকে কলকাতার বাড়িতে এই আগাম আড্ডা আসরের কথা মনে করিয়ে দেন। সেই সাথে ওঁর সদ্যমুক্তিপ্রাপ্ত নতুন বাংলা ছবি ‘অভিমান’ দেখার জন্য বাবাকে অনুরোধ করেন 'বুম্বাদা'।
কথাটি শোনা মাত্রই মুম্বাই থেকে বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় অত্যন্ত উৎসাহের সাথে বলে ওঠেন— “আরে, আমি তো ছবিটা দেখার জন্য ছটফট করছি! শুধু আমি নই, আমাদের পরিবারের সবাই দেখতে চায়।” প্রসেনজিৎও বাবাকে আশ্বস্ত করে জানিয়ে দেন যে, মুম্বাইয়ের কোন কোন প্রেক্ষাগৃহে এবং কখন ‘অভিমান’ সিনেমার শো চলছে, তা তিনি নিজেই ফোন করে বাবাকে গাইড করে দেবেন। এরপর ভালবাসা ও আদরের সম্ভাষণ জানিয়ে শেষ হয় এই সুন্দর ফোনালাপ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘরোয়া আড্ডার ভিডিওটি আপলোড হতেই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে। বর্তমানের ইঁদুরদৌড়ের যুগে টলিউডের স্বর্ণযুগের দুই মহাতারকার এমন নিখাদ বন্ধুত্ব, খুনসুটি আর প্রসেনজিতের সঙ্গে তাঁর 'সাবিত্রী আন্টি'র এই মিষ্টি রসায়ন দেখে মন ভরে গেছে নেটপাড়ার।















