উদয়পুরে বিপুল আয়োজনের ছবি ও ভিডিও ঘিরে আপাতত তুঙ্গে জল্পনা। এক ভ্লগারের শেয়ার করা ভিডিওয় রাজস্থানের এক বিলাসবহুল সম্পত্তিতে জমকালো সাজসজ্জা দেখার থেকেই অনুরাগীদের মধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, রশ্মিকা মন্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডার বিয়ের প্রস্তুতি নাকি শুরু হয়ে গিয়েছে। এ বিষয়ে যদিও এখনও পর্যন্ত নায়ক-নায়িকা বা তাঁদের টিমের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়ানো ওই ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, উদয়পুরের একটি অভিজাত ভেন্যুতে দেখার মতো আলোকসজ্জা। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই অনেকেই ধরে নিচ্ছেন, খুব শিঘ্রই সাতপাকে বাঁধা পড়তে চলেছেন এই জনপ্রিয় জুটি। ভিডিওয় এমন দাবিও করা হয়েছে যে, অনুষ্ঠানটি হতে পারে ২ ফেব্রুয়ারি। তবে এই তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

রশ্মিকা ও বিজয় দু’জনেই তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখেথেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা চললেও তাঁরা কখনও তা প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। বাগদান সংক্রান্ত কোনও কথাও বলেননি। এমন পরিস্থিতিতে কোনও ভ্লগার বা সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে ফাঁস হওয়া বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির খবর আদৌ কতটা সত্যি, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছেন অনেকেই।

এর আগেও একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরেই নাকি তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা। কিন্তু সেই খবরেও এখনও কোনও শিলমোহর পড়েনি। ফলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ভাইরাল ভিডিওটিকে নিশ্চিত তথ্য না ভেবে অনুমাননির্ভর বলেই মনে করছেন অনেকে।

এর মধ্যেই শুক্রবার বিমানবন্দরে রশ্মিকাকে নিয়ে একটি মজার মুহূর্ত ধরা পড়ে পাপারাজ্জির ক্যামেরায়। সদ্য তাঁর আসন্ন ছবি ‘ককটেল ২’-এর শুটিং শেষ করে বিমানবন্দরে পৌঁছন নায়িকা। সেখানে এক পাপারাজ্জি তাঁর বিয়ে প্রসঙ্গে মজা করে তাঁকে বলেন, ‘ইনভাইট পাঠাননি।’ রশ্মিকা হেসে পাল্টা জিজ্ঞেস করেন, ‘কিসের জন্য?’। তারপরই হালকা চালে বলেন, তাঁর পরবর্তী ছবির মুক্তি পেতে এখনও সময় আছে।

কিন্তু পাপারাজ্জিও ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেন, ঠিক কোন ‘আমন্ত্রণের’ কথা তিনি বলছেন। তখন রশ্মিকা লজ্জায় লাল হয়ে যান, হেসে সামনের দিকে এগিয়ে যান। সেই মুহূর্তে তাঁর প্রতিক্রিয়া অনুরাগীদের জল্পনাকে আরও উস্কে দেয়।

ইন্ডাস্ট্রির একাংশের দাবি অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর হায়দরাবাদে বিজয়ের বাড়িতে নাকি দু’জনের বাগদান সেরে ফেলা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি ছিল একেবারেই ঘরোয়া এবং ব্যক্তিগত। সেই উপলক্ষে কোনও ছবি প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি রশ্মিকা বা বিজয় কেউই প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।

‘গীতা গোবিন্দম’ ছবিতে প্রথম একসঙ্গে কাজ করার পর থেকেই রশ্মিকা ও বিজয়ের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে ‘ডিয়ার কমরেড’-এ তাঁদের জুটি আরও জনপ্রিয়তা পায়। সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হলেও ব্যক্তিগত জীবনকে ক্যামেরা ও শিরোনামের আড়ালেই রাখতে চেয়েছেন দু’জনেই। তাই উদয়পুরের এই বিয়ের গুঞ্জন শেষ পর্যন্ত সত্যি হয় কি না, তার উত্তর সময়ই দেবে।