বড়পর্দায় গল্প বলার ক্ষেত্রে আপাতদৃষ্টিতে সহজ-সরল ন্যারেটিভ বেছে নিলেও নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবির ভিতরে লুকিয়ে থাকে সময়ের সমাজচিত্র। নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি মানেই তা যেন সমাজের একেকটি বিষয়ের আস্ত দলিল। উইন্ডোজ-এর প্রতিটি কাজ-ই দর্শককে ভাল লাগার পাশাপাশি ভাবায়, ছুঁড়ে দেয় প্রশ্ন। টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায় এই পরিচালক জুটির পথচলা শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে ‘ইচ্ছে’-র মারফৎ এবং যা আজও তরতরিয়ে এগিয়ে চলেছে নিজের নিয়মে। ২০১১-এর ১৫জুলাই বড়পর্দায় মুক্তি পেয়েছিল ‘ইচ্ছে’। শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং নন্দিতা রায়ের এই প্রথম পরিচালনা ছিল সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখা ছোটগল্প ইচ্ছের গাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। ছবিতে মায়ের চরিত্রে ছিলেন সোহিনী সেনগুপ্ত এবং ছেলের চরিত্রে সমদর্শী দত্ত। বহু বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে ছবি তৈরির প্রায় বছর তিনেক পর মুক্তি পাওয়া এই ছবি দিন কয়েকের মধ্যে হয়ে উঠেছিল ছবিপ্রেমী দর্শকের চায়ের আড্ডার অন্যতম বিষয়। তারকাবিহীন চলচ্চিত্রের জন্য ইচ্ছে ছিল এক বিজয়পতাকা। আর সেই সাফল্যই তৈরি করে দিয়েছিল উইন্ডোজের ভবিষ্যতের রূপরেখা। বাকিটা ইতিহাস।

এদিন সমাজমাধ্যমে সোহিনী সেনগুপ্ত-র সঙ্গে নিজের একটি নিজস্বী পোস্ট করেছেন শিবপ্রসাদ। পোস্টের সঙ্গে তাঁর লেখায় উঠে এসেছে সময়ের দীর্ঘ ব্যবধান আর একসঙ্গে ফেরার অনুভূতি “২০০৮ প্রথম সিনেমা ‘ইচ্ছে’তে আমাদের একসাথে যাত্রা শুরু। আর ২০২৬ এ উইন্ডোজের ২৫ বছর পূর্তিতে ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’ সিনেমায় আরো একবার সোহিনী সেনগুপ্ত।”
প্রসঙ্গত, ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড ছবিতে উইন্ডোজ প্রযোজনা সংস্থার চেনা ছন্দের আবেগের সঙ্গে এই ছবিতে যোগ হয়েছে সাসপেন্স। সঙ্গে থ্রিলের মিশেলে তৈরি হয়েছে এক জটিল গল্প। এ ছবিতে নামভূমিকায় সোহিনী সেনগুপ্তর পাশাপাশি অভিনয় করছেন অর্জুন চক্রবর্তী, অনামিকা সাহা, রাইমা সেন, সাহেব চট্টোপাধ্যায়, রজতাভ দত্ত, অনন্যা চট্টোপাধ্যায়, কনীনিকা ব্যানার্জি, শ্যামৌপ্তি মুদলি, ঋষভ বসু ও সৌম্য মুখোপাধ্যায়। সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন জয় সরকার এবং গান লিখেছেন শ্রীজাত।

‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’ ছবিটির ঘোষণা তাঁদের এই বছরের বাকি ছবিগুলোর সঙ্গে বছরের একদম গোড়াতেই ঘোষণা করে রেখেছিল উইন্ডোজ প্রোডাকশন হাউজ। বলাই বাহুল্য, এই ঘোষণা বাংলা সিনেমার দর্শকদের জন্য নিঃসন্দেহে এক বড় উপহার।
শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের করা এই পোস্ট দেখে মন ভিজেছে নেটপাড়ার। শিবপ্রসাদের এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই নেটপাড়ায় ছড়িয়ে পড়ে আবেগ। মন্তব্যের ঘরে শুভেচ্ছার বন্যা। কেউ লিখেছেন, সোহিনী সেনগুপ্ত এমন একজন অভিনেত্রী যাঁর উপস্থিতি ছবির মাত্রাই বদলে দেয়, আবার কেউ দু’জনের কাজের প্রতি ভালবাসা জানিয়ে ভবিষ্যতের জন্য অফুরান শুভকামনা জানিয়েছেন। স্পষ্ট, ইচ্ছে যে শুধু একটি ছবি ছিল না তা ছিল এক অনুভব। আর সেই অনুভবই ফিরছে নতুন রূপে, নতুন গল্পে, ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’-এর হাত ধরে।
