বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান -এর তৃতীয় বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আগামী ৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখে ওঁর দীর্ঘদিনের প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাট-এর সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়তে চলেছেন ৬০ বছর বয়সী এই সুপারস্টার। আমিরের এই সিদ্ধান্তকে যেমন ওঁর অনুরাগীরা স্বাগত জানিয়েছেন, তেমনই নেটিজেনদের একাংশ ওঁর বয়স নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ও সমালোচনা শুরু করেছেন। রীনা দত্ত এবং কিরণ রাওয়ের পর ৬০ বছর বয়সে এসে আমিরের এই তৃতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, তখনই ওঁর পাশে এসে দাঁড়ালেন বলিউডের কিংবদন্তি প্রবীণ অভিনেত্রী রাখি গুলজার।

‘কভি কভি’, ‘কালা পাত্থর’, ‘বাজিগর’, ‘করণ অর্জুন’ কিংবা ‘বাদশা’-র মতো কালজয়ী ছবির এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আমিরের সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়েছেন। আমির খানকে কেন্দ্র করে চলা এই ট্রোলিংয়ের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়ে রাখি গুলজার বললেন, “৬০ বছর বয়সে বিয়ে করার মধ্যে ভুল বা অন্যায়টা কোথায়? বর্ষীয়ান হলিউড তারকা রবার্ট ডি নিরো-র কথাই ধরুন না। ও দু’বার বিয়ে করার পর এখন টিফানি চেনের সাথে সম্পর্কে রয়েছেন এবং ২০২৩ সালে তাঁদের একটি কন্যাসন্তানও হয়েছে। যখন ও বাবা হলেন, তখন ওঁর বয়স ছিল ৮০ বছরেরও বেশি! আসলে দাম্পত্য জীবনের সুখ বা আনন্দ কোনও নির্দিষ্ট বয়সের ফ্রেমে বাঁধা থাকে না।”

 

নিজের জীবনের উদাহরণ টেনে রাখি জানান, ১৯৭৩ সালের ১৫ মে তিনি যখন বিখ্যাত গীতিকার ও পরিচালক গুলজার-কে বিয়ে করেছিলেন, তখন গুলজারের বয়সও ছিল প্রায় ৪০ বছর। বিয়ের পর একই বছরে তাঁদের কন্যাসন্তান মেঘনা গুলজারের জন্ম হয়। ফলে ভালবাসা বা জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বয়স কোনও বাধা হতে পারে না। ওই সাক্ষাৎকারে রাখি আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি ওঁর দীর্ঘ কেরিয়ারে কখনও আমির খানের সঙ্গে এক স্ক্রিনে কাজ করার সুযোগ পাননি। তবে দূর থেকে তিনি আমিরকে একজন অত্যন্ত সৎ ও আন্তরিক মানুষ হিসেবেই চেনেন।

বিবাহবিচ্ছেদের পরও আমির যেভাবে তাঁর দুই প্রাক্তন স্ত্রী রীনা দত্ত এবং কিরণ রাওয়ের সাথে চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন ‘আমার বস’ ছবির অভিনেত্রী। ওঁর মতে, প্রাক্তন স্ত্রীদের প্রতি এই পারস্পরিক সম্মান ও সৌজন্যই প্রমাণ করে যে আমির মানুষ হিসেবে কতটা উঁচুদরের।

বিয়ের গুঞ্জন ছড়ানোর মাঝেই খোদ আমির খান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই খবরে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। সেখান থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমির নিজেই বলেন, “আমি এই মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঘুরছি। আমাদের বিয়ের খবরটি সম্পূর্ণ সত্যি। আগামী ৫ জুলাই আমরা বিয়ে করছি।” 

ঘনিষ্ঠ সূত্র মারফত জানা গেছে, আমিরের এই তৃতীয় বিয়ের অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত ছিমছাম এবং ব্যক্তিগত স্তরে রাখা হচ্ছে— যেখানে শুধুমাত্র দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ কিছু বন্ধুবান্ধব উপস্থিত থাকবেন। যদিও কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে আমির বলেছিলেন যে এই মুহূর্তে বিয়ে নিয়ে তিনি ভাবছেন না, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমির ও গৌরী দু’জনেই বুঝতে পেরেছেন যে জীবনের এই নতুন অধ্যায়টি শুরু করার জন্য তাঁরা এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ওঁর এই নতুন সফরে রাখি গুলজারের এই সমর্থন যে ওঁর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে, তা বলাই বাহুল্য।