বলিউডের অন্যতম সফল সায়েন্স-ফিকশন ও সুপারহিরো ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘কৃষ’। স্বাভাবিকভাবেই এই সিরিজের আগামী ছবি ‘কৃষ ৪’ নিয়ে সিনে-প্রেমীদের উন্মাদনার শেষ নেই। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে বলিপাড়ার অন্দরে একটি খবর রটে গিয়েছিল, যা শুনে বেশ হতাশ হয়েছিলেন অনুরাগীরা। শোনা যাচ্ছিল, ছবির বাজেট নিয়ে অভিনেতা হৃতিক রোশন এবং যশ রাজ ফিল্মস -এর কর্ণধার আদিত্য চোপড়া-র মধ্যে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছে এবং সেই কারণেই নাকি আটকে গেছে ‘কৃষ ৪’-এর কাজ।

তবে বলিপাড়ায় কান পাতলেই হৃতিককে নিয়ে কিন্তু বেশ পিলে চমকানো ফিসফাস শোনা যাচ্ছে। খবর, এই ছবির মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে প্রথম কাজ করতে চলা হৃতিক আন্তর্জাতিক মানের ভিএফএক্স ও অ্যাকশনের জন্যই নাকি ৫০০ কোটি টাকার মেগা বাজেট চাইছেন! অন্যদিকে, আদিত্য চোপড়া ছবির বাণিজ্যিক সাফল্যের কথা মাথায় রেখে ছবির বাজেট ৩৫০ কোটি টাকাতে বেঁধে রাখতে চান।

 

এবার এই সমস্ত জল্পনা ও গুঞ্জনকে স্রেফ ‘বাজে কথা’ বলে উড়িয়ে দিলেন হৃতিকের বাবা তথা বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা রাকেশ রোশন। ওঁর স্পষ্ট বয়ানে জল পড়ল সমস্ত জল্পনায়। সম্প্রতি, দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রাকেশ রোশন  ‘কৃষ ৪’ -এর বাজেট বিতর্কের খবরটিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “হৃতিক নাকি ওঁর প্রথম পরিচালনার জন্য ৫০০ কোটি টাকার বাজেট চেয়েছে আর ওয়াইআরএফ সেটা ৩৫০ কোটিতে লক করতে চাইছে— এসব এক্কেবারে আষাঢ়ে গল্প, পুরো মিথ্যে কথা! একটা ভাল সিনেমা তৈরি করতে, যা সব ধরনের দর্শকের ভাল লাগবে, তাতে একটু সময় তো লাগেই। আমি নিজেও তো ‘ ‘কৃষ ’ সিরিজের আগের ছবিগুলোর জন্য যথেষ্ট সময় নিয়েছিলাম।”

ছবিটি ফ্লোরে যেতে দেরি হওয়ার আসল কারণটি খোলসা করে প্রবীণ পরিচালক মুচকি হেসে বলেন, “ ‘কৃষ’  এখন অন্য গ্রহে রয়েছে! আসলে ও এই বছরই ওঁর নিজস্ব একটি প্রোডাকশন হাউস লঞ্চ করেছে, আর সেটা নিয়েই এখন ও মারাত্মক ব্যস্ত। আমরা সবাই হৃতিকের শুটিং ডেট পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে আছি। আমাদের মধ্যে কোনও ঝামেলা নেই, সবকিছু একদম স্মুথ চলছে। আদিত্য চোপড়া, হৃতিক আর আমার মধ্যে একটা দুর্দান্ত টিমওয়ার্ক কাজ করছে।”

 ‘কৃষ ৪’  ছবিটি যশ রাজ ফিল্মসের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় তৈরি হতে চলেছে। তবে ওয়াইআরএফ-এর ব্যানারে হৃতিকের শেষ বড় প্রজেক্ট অর্থাৎ স্পাই-ইউনিভার্সের মেগা ছবি ‘ওয়ার ২’ বক্স অফিসে একেবারেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। ছবিটির ভরাডুবির কথা দুবাইয়ের একটি অনুষ্ঠানে খোদ হৃতিক নিজেই হাসিমুখে মেনে নিয়েছিলেন। ওঁর কথায় ছিল সেলফ-ট্রোলের ছোঁয়া— “আপনারা বড্ড দয়ালু... আপনারা তো জানেনই, আমার শেষ ছবিটা বক্স অফিসে পুরো বোম ব্লাস্টের মতো ভেঙে পড়েছে , তাই এই খারাপ সময়ে আপনাদের থেকে এত ভালবাসা পেয়ে সত্যি খুব ভালো লাগছে। ধন্যবাদ!”

২০০৩ সালের ‘কোই মিল গায়া’ ছবির মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল এই সফর, যেখানে ভিনগ্রহের প্রাণী ‘জাদু’-র দেওয়া অলৌকিক ক্ষমতা পেয়েছিল রোহিত মেহরা। পরে সেই ক্ষমতা স্থানান্তরিত হয় ওঁর ছেলে কৃষ্ণের শরীরে এবং জন্ম নেয় ভারতের নিজস্ব সুপারহিরো  ‘কৃষ’।

তবে শুধু  ‘কৃষ ৪’ নয়, হৃতিক রোশন কিন্তু এর মাঝেই দক্ষিণের বিখ্যাত প্রযোজনা সংস্থা ‘হোমবেল ফিল্মস’ — যারা ‘কেজিএফ’ ও ‘কান্তারা’র মতো ব্লকবাস্টার উপহার দিয়েছে— তাদের সঙ্গেও একটি বিশাল প্যান-ইন্ডিয়া প্রজেক্টের হাত মিলিয়েছেন। ছবির ঘোষণায় জানানো হয়েছে, এটি হতে চলেছে— “সাহস, গর্ব ও গৌরবের এক মহাকাব্যিক উপাখ্যান... যেখানে গতির সঙ্গে কল্পনার এক মহাসঙ্গম ঘটবে এবং জন্ম নেবে এক বিগ ব্যাং।” আপাতত হৃতিকের ডেট ডায়েরি খালি হলেই যে ২০২৬-এর শেষ নাগাদ ‘কৃষ ৪’-এর শুটিং শুরু হয়ে যাবে, রাকেশ রোশনের এই মন্তব্যে সেই আশার আলোই দেখছেন ভক্তরা।