রণবীর সিং অভিনীত ব্লকব্লাস্টার স্পাই থ্রিলার ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘ধুরন্ধর’ নিয়ে বলিপাড়ায় চর্চার শেষ নেই। বক্স অফিসে ঝড় তোলার পর থেকেই এই ছবিটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একের পর এক বিতর্ক। সবচেয়ে বড় গুঞ্জন ছিল, এই ছবির চিত্রনাট্য নাকি খোদ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তৈরি হয়ে এসেছে! এবার এনিয়ে মুখ খুললেন ছবির অন্যতম মূল আকর্ষণ তথা প্রবীণ অভিনেতা রাকেশ বেদী।

সমালোচকদের একাংশ এবং পাকিস্তানি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের এই দাবি সপাটে উড়িয়ে দিয়েছেন রাকেশ বেদী। সম্প্রতি দিল্লিতে আয়োজিত এক সম্মেলনে এসে এই জল্পনা নিয়ে হেসেই খুন অভিনেতা। তিনি সাফ জানান, পিএমও-র মতো একটি জায়গায় এমন কোনও ব্যক্তি নেই যিনি এই ধরণের চলচ্চিত্রের সংলাপ লিখতে পারেন। এই দাবি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও অবাস্তব।

অভিনেতা বলেন, "যখন সিনেমাটি সুপারহিট হল, কিছু মানুষ বলতে শুরু করলেন যে ‘ধুরন্ধর’-এর স্ক্রিপ্ট নাকি পিএমও থেকে লিখে দেওয়া হয়েছে। আমি তাদের জিজ্ঞেস করতে চাই, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কি এমন কেউ আছেন যিনি এই ধরণের সংলাপ লিখতে পারেন? কেউ এই রকম ভাবতেও পারে না!"

আদিত্য ধর পরিচালিত এই স্পাই থ্রিলারে রাকেশ বেদী ‘জামিল জামালি’ নামক এক ভারতীয় এজেন্টের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরে অনুপ্রবেশ করে। ছবির ক্লাইম্যাক্সে তার আসল পরিচয় প্রকাশ পাওয়াটা ছিল গল্পের সবচেয়ে বড় চমক। তবে অভিনেতা ফাঁস করেছেন এক চমকপ্রদ তথ্য। পরিচালক আদিত্য ধর প্রথমে এই ডার্ক ও টানটান থ্রিলারে কোনও কমেডি বা হালকা দৃশ্য রাখতেই চাননি! বেদী জানিয়েছেন, তিনি যখন প্রথম ২-৩ বার স্ক্রিপ্টটি পড়েন, বুঝতে পারেন সিনেমাটি ভীষণ গম্ভীর ও ইনটেন্স। একজন কমেডি ঘরানার অভিনেতা হিসেবে তিনি অনুভব করেন যে, দর্শকের মানসিক চাপ কমাতে এবং চরিত্রে বৈচিত্র্য আনতে কিছুটা 'কমিক রিলিফ' জরুরি।

শুরুতে পরিচালক আদিত্য ধর এতে একেবারেই রাজি ছিলেন না। কিন্তু রাকেশ বেদীর জোরাজুরিতেই শেষ পর্যন্ত চিত্রনাট্যে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। শুটিং শুরু হতেই অবশ্য পরিচালক নিজেও এই এক্সপেরিমেন্ট বেশ উপভোগ করতে শুরু করেন।

রাজনীতি, দেশপ্রেম এবং প্রোপাগান্ডার অভিযোগ ছাপিয়ে ‘ধুরন্ধর’ ও ‘ধুরন্ধর ২’ যে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের বিনোদন দিতে সফল, তা মেনে নিচ্ছেন সমালোচকরাও। আর রাকেশ বেদীর এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দিল, সিনেমার সাফল্য ও সংলাপ কেবলই সৃজনশীলতার ফসল, কোনও রাজনৈতিক কার্যালয়ের অবদান নয়।